বাংলাদেশের গভর্নমেন্ট টিচার্স ট্রেনিং কলেজের গেস্ট রুমে প্রায় তিন মাস সেলফ কোয়ারেন্টিনে থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার প্লেনে যখন চড়লাম, তখন সব ঘেঁটে ‘ঘ’ হয়ে গেল। এয়ারবাস না লোকাল বাস বুঝলাম না। তার পরের দুঃখগুলো আর বললাম না। প্লেনে চড়েছি দেখে সরকার বাহাদুর ধরেই নিয়েছেন আমার বাবার হয় হিরের খনি, নয় তো তেলের খনি আছে। হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে তুললেন এক দামি হোটেলে। এখানে সাত দিন সেলফ কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। ঘটিবাটি বিক্রি করে সাত দিন থেকে পয়সা মিটিয়ে ভোরে একটা ট্যাক্সি ধরে সোজা বাড়ির পথে।

বিজ্ঞাপন

মনের মধ্যে বসন্তের হাওয়া বইছে। যেন কৈশোর থেকে যৌবনে পা দিয়েছি। মনে মনে ভাবছি, বাড়িতে পৌঁছে সারপ্রাইজ দেব। ট্যাক্সি থেকে নেমেই দেখি গেটে সহধর্মিণী দাঁড়িয়ে। যা একখানা হাসি দিল, মনে হলো প্রথম যৌবনে কলেজ যাওয়ার পথে চোখাচোখি হলো। সেই হাসিমুখের চোখ দিয়ে যে আগুন বের হবে, তা কে জানত! একেবারে ১৮০ ডিগ্রি পাল্টি খেয়ে বলে উঠল, ‘দাঁড়াও ঘরে ঢুকবে না।’ আমি পিপিই পরে করোনাশ্বরী দেবীর স্ট্যাচু হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে। তিনি এক বালতি ডিটারজেন্ট গুলে আমার মাথায় ঢেলে দিলেন। চামড়ার জুতো গেল ভিজে। মনে হচ্ছে, গোবরের ওপর দাঁড়িয়ে আছি। দু বালতি জল এনে একটা গামছা দিয়ে বললেন, ‘সব খুলে গামছা পরে স্নান করো।’ লজ্জার মাথা খেয়ে গামছা পরে রাজপথে আমি শ্রী চৈতন্য।

স্নান সেরে বললাম, ‘আর একটা গামছা দাও।’ গম্ভীর উত্তর, ‘কী হবে?’ বললাম, ‘গা মুছব।’ তিনি আরও গম্ভীর হয়ে বললেন, ‘যেটা পরে আছ, সেটা দিয়েই মোছো।’ চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী হলো?’ বললাম, ‘আমি চোখ বন্ধ করে গা মুছব, নাকি তুমি চোখ বন্ধ করে থাকবে?’ বিপদ বুঝে বললেন, ‘যাও বাথরুমে।’ বাথরুম থেকে বেরিয়ে সারপ্রাইজের প্রাইজ পেলাম। স্থান হলো বাড়ির সামনের গ্রিল দেওয়া বারান্দায়। নতুন কোয়ারেন্টিন সেন্টার। অপরাধ এই করোনাকালে আমি ট্যাক্সি করে বাড়ি ফিরেছি। পাড়া-প্রতিবেশী এমনভাবে দেখছেন যেন খাঁচায় নতুন জানোয়ার ধরা পড়েছে।

বিজ্ঞাপন
সাহিত্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন