default-image

যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের মৃত্যুর কঠিন বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে এবার বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালিত হচ্ছে। প্রবাসীরা পালন করছেন ফাল্গুনের ভালোবাসা দিবস। ভালোবাসার বার্তা দিয়েই সময়কে জয় করার আয়োজন বিশ্বের সর্বত্র।

ভালোবাসা দিবসে বেশ কিছু ভালোবাসার মানুষ তাদের অভিব্যক্তি জানিয়েছেন। কেউ সঞ্চিত ভালোবাসার কথা বলেছেন, কেউ বলেছেন বঞ্চিত ভালোবাসার কথা।

প্রবীণ সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান ভালোবাসা দিবস নিয়ে লিখতে গিয়ে, ‘মধুমালতী ডাকে আয়’ শিরোনামে লিখেছেন,

‘নিউইয়র্কে বসে শিলচর বেতারের গান শোনা যায়? আকাশবাণীর? আকাশের তরঙ্গে থাক বা না থাক, ৬০ বছর পর আজও মনের গহিনে শুনি সেই গানের মূর্ছনা—মধুমালতী ডাকে আয় ফুল, ফাগুনের এ খেলায়। মোগলাবাজারে পড়ি, দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। একদিন দুপুরে স্কুলের দৌলতপুরের পপুলার টিচার সবাইকে জড়ো করে বললেন, মা তুমি গান শুনাও। তার পরনে ছিল জরির লাল স্কার্ট। মোহনীয় রূপ। আধ ডজন হেমন্ত-সন্ধ্যা শুনিয়ে সবার বাহবা কুড়াল।

স্কুল ছুটির পর কেশরখালি নদীর তীর ঘেঁষে পথ দিয়ে ছত্তিশঘরে তার বাড়ি পর্যন্ত যেতাম পেছনে পেছনে। তারপর রেললাইনের পাশ ধরে দক্ষিণে মাইলখানেক হেঁটে নিজ বাড়িতে। প্রায়ই এটা করতাম। আমার ছাতা ছিল না, ওর ছিল। কড়া রোদে সে ছাতার নিচে আশ্রয় নিত, আমাকে কখনো ডাকেনি ছাতার নিচে, নিজেও চেষ্টা করিনি।

আমাদের বাড়িতে বেড়াতে গেলে মা-বোনদের অনুরোধে গান শোনাত। আমি চাইতাম তার মনোযোগের কেন্দ্রে থাকি সব সময়। এটা হারালে দুষ্টুমি যেত বেড়ে। বিরক্ত করতাম, চিমটি কাটতাম। ধমক খেতাম মা-বোনের। আর স্কুলে টিচারের বেত্রাঘাত।

বিজ্ঞাপন

এক দিনের কথা আজও ভুলিনি। দুষ্টুমির মাত্রা মনে হয় বেশিই ছিল। রাগে অগ্নিশর্মা। চড় মারার ভঙ্গিমায় হাত টান করে, দাঁত কড়মড় করে আমার দিকে চক্ষু গোলা নিক্ষেপ করছিল। টিচারের বেতের যন্ত্রণা থেকে ওই চাহনি ছিল বেশি যন্ত্রণাদায়ক,যা আজও ভুলিনি।

কয়েক দিন পর স্কুলে গিয়ে শুনি, ওদের পুরো পরিবার ভারতে চলে গেছে। আর কখনো ফিরবে না। কয়েক বছর পর এক সহপাঠী জানাল, ওরা শিলচরে আছে। ও নাকি বেতারে গানের সুযোগও পেয়েছে। সে থেকে ইথারে ইথারে খুঁজি তাকে।

শিল্পী তাজুল ইমামের প্রথম প্রেম

আমার তখন সদ্য কৈশোর। সেও কিশোরী। আত্মীয়তার সূত্রে দিন সাতেক আমাদের গ্রামের বাড়িতে অতিথি হয়েছিল। আমার পড়ার টেবিলের সামনের খোলা জানালা দিয়ে ধু ধু মাঠ আর দূরের নীলচে বাঁশবন চোখে পড়ে। আমি উদাস তাকিয়ে রই। মৃদু কাচের চুড়ির রিনিঝিনি। ধূমায়িত চায়ের কাপটা টেবিলে নামিয়ে রাখল একটি পেলব লাবণ্যময় হাত। ফিরে তাকাতেই দেখলাম সলাজ একটি মিষ্টি হাসি। অপরূপ ছায়াময় চঞ্চল দুটি চোখ স্থির হল আমার চোখে। শব্দহীন ভাষাহীন অনেক কথা হল। অথবা মুখে কিছুই বলা হল না। আমার বুকের ভেতরে অকস্মাৎ ঝড়। দিনগুলি স্বপ্নময়, রাতগুলি বিনিদ্র।

দিন কয়েক পর তাকে পৌঁছে দিলাম জয়ন্তী পাহাড়ের কোলে তাদের গ্রামের বাড়ি। খোলা হাওরে শান্ত নিথর পানি কেটে এগিয়ে চলেছে আমাদের ডিঙি নৌকা। বিকেলের আলো রাঙা আবির ছড়িয়েছে তার অবয়বে। আমরা মুখোমুখি বসেছি। দু–একটি সাদামাটা কথা, ছল ছল পানি কেটে চলার শব্দ। মাঝে মাঝেই তার চোখ স্থির হয় আমার চোখে। সেখানে সন্ধ্যার ছায়া ব্যথা হয়ে জমে আছে। আমার মনের সব কথা মুখের আগল ভেঙে বেরিয়ে আসতে পারছে না। হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায় হাওরের স্বচ্ছ পানি। কী ভেবে হাতের তালুতে খানিকটা পানি তুলে এনে ঢেলে দিলাম তার হাতের ওপর। মুহূর্তেই আরক্ত হয়ে দৃষ্টি নামিয়ে নিল সে। হাতটা কিন্তু সরিয়ে নিল না, বরং দুহাত জড়ো করে আঁজলা পেতে দিল। সে তার প্রসাধনহীন পেলব লাবণ্যময় মুখ ধুয়ে নিল সেই পানিতে। কনেবেলার আলোয় ঝলমল করছিল তার মুখ। সেই অপরূপ চোখ দুটিতে বিষণ্ন ছায়াটা আর নেই, তার বদলে আনন্দের দুটি সন্ধ্যা তারা।

আমাদের মধ্যে ভালোবাসাবাসির আর কোনো কথা হয়নি। ফেরার পথে দেখেছিলাম ভেজা দুটি চোখ। মুখে শুধু একবার বলেছিল আবার এসো।

লেখক আবদুল্লাহ জাহিদ

বৃষ্টি নামটা খুব পরিচিত মনে হচ্ছিল, তুমি নিশ্চয়ই সেই বৃষ্টি যাকে বাকৃবিতে দেখেছি? আমি ধ্রুব ফিশারিজে ছিলাম, চিনতে পেরেছ কিনা জানি না।

বৃষ্টি: আমি তো চিনেই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিলাম...তাহলে তুমি গ্রহণ করেছ না চিনেই..!! যাই হোক..কেমন আছ তুমি?

ধ্রুব জানল, বৃষ্টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ায়। মেয়ে, শিক্ষক স্বামী নিয়ে সুখে আছে জেনে ভালো লাগছে। নিজে কথা বলতে গিয়ে ধ্রুব ভাবছিল, যে কথাটি কখনো বলা হয়নি, সেটাই প্রথমে বলি।

–‘কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া’

বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কয়জন মেয়েকে আমার ভালো লাগত, তুমি তাদের একজন। তবে জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পার। এখন সেসব বলা আর না বলায় কিইবা এসে যায়। তুমি উত্তর দাও আর না দাও, আমাকে আনফ্রেন্ড কর, তবুও আমি আমার সত্যিটা তোমাকে বলি।

–সেদিন আকাশ অন্ধকার করে বৃষ্টি নেমেছিল। আমরা কয়েকজন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির ফটকে আটকা পড়েছি। হটাৎ তুমি, সঙ্গে তোমার কোনো সহপাঠীসহ বৃষ্টি উপেক্ষা করে রঙিন ছাতা হতে লাইব্রেরিতে এলে। বইগুলো কাউন্টারে জমা দিয়ে লাইব্রেরিতে ঢুকলে। তোমরা একটু দূরে গেলেই আমি বৃষ্টির মাঝে বাইরে গিয়ে কয়েকটা রক্তকরবী ফুল এনে তোমার বইগুলোর ওপরে রাখলাম। তুমি তা দেখেছিলে, আমি নিচে ম্যাগাজিন সেকশনে অপেক্ষা করছিলাম। কিছু সময় পর তুমি ফিরে এলে, তোমার বইয়ের ওপর রাখা ফুলগুলো একপাশে সরিয়ে রেখে লাইব্রেরি থেকে বেরিয়ে গেলে। সেদিনই তোমার মনের ভাষা বুঝে গিয়েছিলাম। তারপর ‘শুধু দূর থেকে তোমারেই দেখেছি আর...’।

আমার মনের গভীরে লুকানো একটি ক্ষত, যার ব্যথাটা এখনো হয়তো আছে। বয়ে বেড়াতে হবে সারাটা জীবন। ভালো থেকো।

বৃষ্টি কয়েক দিন কিছুই বলল না, তাই ধ্রুব আবার লিখল—

হ্যালো বৃষ্টি, আমি একটি উত্তর আশা করছিলাম। আমি কী খুব গভীর কথা বলেছি? আমি কি তোমাকে হার্ট করেছি? দুঃখিত, আমি ঠিক সত্য বলেছি। এত দিন আমার মনে যা ছিল...।

দু-এক দিন পর বৃষ্টি উত্তর দিল–

বৃষ্টি: হা হা, বয়স এখন ষাট ছুঁই ছুঁই...এখন তো স্মৃতি রোমন্থনেরই সময়...। ভালো থেকো

প্রথম প্রেমকে এখনো খোঁজেন ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকার

প্রথম প্রেম, প্রথম অনুভূতি, প্রথম ছোঁয়া। এর সঙ্গে হয়তো আর কোনো প্রেমেরই তুলনা চলে না। সে এক অদ্ভুত ভালো লাগা। এখন তো কত রোজ ডে, হাগ ডে, কিস ডে বেরিয়েছে। জানি না, এসবে সেই সুন্দর অনুভূতিরা খেলা করে কিনা, যে অনুভূতিকে পেতে শত ত্যাগ–তিতিক্ষা করতেও দ্বিধা ছিল না। প্রথম প্রেম আমার জীবনে এসেছিল কিশোর বয়সেই। সেই ভালো লাগার স্বাদ–গন্ধ চাইলেও আর বাকি জীবনে নেওয়া যাবে না। চোখ বুজে কেবল অনুভব করা যাবে সেই স্বর্গীয় অতীত। ফিরে পাওয়া যাবে না সেই কিশোরীকে, যাকে হয়তো আজও খুঁজি। হয়তো সে ঘুমিয়ে থাকে আমারই পাশে। তবুও চোখ খুললে স্বপ্নভঙ্গ। তাকে পেতে চাইলে হয়তো টাইম মেশিনে করে চলে যেতে হবে সেই দুর অতীতে। কল্পনায়।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বেলাল বেগ

আমার স্বপ্ন দেখা বয়সে সাগর মেখলা ছায়ায় ঢাকা ঘুঘু ডাকা সবুজ সন্দীপের ধনেজনে ভরা আনন্দ কোলাহল, স্নেহ-মায়া-প্রেম পরিবেশে মেয়েটির মুগ্ধ হরিণ চোখে আমার দৃষ্টি আবদ্ধ ছিল অনেকক্ষণ। আমাদের মধ্যে কী ঘটে গেছে, আমরা জানতাম। কিন্তু সামাজিক বাস্তবতার কারণে আমাদের ওই জানাজানি সেই যে রক্তকণিকায় ঢুকে গেছে, তার ৭০ আমার ৮০ তে আজও ছোটাছুটি করছে। নাম তার রুবী।

লেখক ও মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা কমান্ডার সিরু বাঙালি

১৯৭২ সালে সরকারের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করে গ্রাম থেকে শহরে এসে একদম বেকার। বন্ধু-বান্ধবের দানে চলছি।

এক বন্ধু বলল, তার প্রেমিকার কাছে একটা গিফট পৌঁছাতে পারলে ৫০ টাকা দেবে। তখন ৫০ অনেক বড় অঙ্কের টাকা। গিফট প্যাকেট নিয়ে চট্টগ্রামের অভিজাত এলাকায় বন্ধুর প্রেমিকার বাসায় পৌঁছে যাই।

বন্ধুর প্রেমিকাকে দেখে আমার নিশ্বাস বন্ধ হওয়ার দশা। আমার ২৩ বছরের জীবনে এমন সুন্দর মেয়ে আর দেখিনি।

বন্ধুর নাম করে গিফট বক্সটা তার হাতে দিলাম। সুদৃশ্য লিভিং রুমে তিনি আমার পাশে বসলেন।

বক্স খুলে দেখে একটা লাল গোলাপ আর একটা চিরকুট, যা দেখে সুন্দরী মেয়েটি বেশ রাগ হয়ে বললেন, তোমার বন্ধুকে বলবে, যে প্রেমিকার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ভালোবাসার দাবি জানাতে পার না, সে আমার ভালোবাসার পাওয়ার অযোগ্য।

বরং তুমি অনেক সাহসী। আমাকে যদি কাউকে ভালোবাসতেই হয়, তোমাকে বাসতে সমস্যা কি?

এসব শুনে কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে আমার গালে ঠোঁট ছুঁয়ে দিল।

শিল্পী কাজি রাকিব

আমি তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি, গ্রামে বেড়াতে গিয়েছিলাম। বাজারে যাওয়ার আগেই এক হিন্দুবাড়ি। বাড়িটির পেছন দিকে পুকুর ঘাটের ওপরে এক অপূর্ব সুন্দরী মেয়ে বাসন মাজে। মেয়েটির কপালে সিঁদুর, পরনে নীল শাড়ি সবুজ পাড়। ফরসা, নাকের নিচে ঘাম। বয়স আমারই আশপাশে। চোখ সরানো যায় না। আড়চোখে সেও আমাকে দেখে। এমন অপূর্ব সুন্দরী বাসন মাজে, আমার ওই বয়সের মন মানে না। খুব রাগ হতো ওকে যে বিয়ে করেছে তার ওপর। স্বামীকে জানতাম বয়সে বছর দশেক বড়, রুক্ষ চেহারার নায়ের মাঝি। মনে হতো, কিছুতেই যোগ্য নয় ওই মেয়েটির। আমি প্রতিদিন নানান ছুতোয় বাজারে যাই তাকে দেখার জন্য, পুকুর ঘাটে, উঠানে বা খেজুরগাছ তলায়। যেদিন দেখতে পেতাম না, মন খারাপ হতো। যেন সে আমারই।

ডা. জিয়া উদ্দীন আহমেদের অদেখা কিশোরী

আমার কিশোর বয়সের প্রথম ভালো লাগার মানুষ ছিল আমার বন্ধুর প্রেমিকা। কবি বন্ধুর মায়াময় কণ্ঠে উচ্ছ্বাসের বিবরণ এতই মুগ্ধ করতো, তাই সেই অদেখা কিশোরী হৃদয় ছুঁয়ে ছিল। যা এখনো মনে পড়লে মনের অজান্তেই শিউরে উঠতে হয়।

সংগঠক শাহানা বেগম

পাড়ায় ‘কাজরি’ নামক বাড়িতে অবস্থানরত ‘ছক্কা পাঞ্জা’ সুঠামদেহী নায়ক আলমগীরকে দেখে সে পুরাই কাত।

সেই ক্রাশ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি অবশ্য। তারপর এইচএসসি প্রথম বর্ষে ‘সিলসিলা’ সিনেমার বিগ বি, অমিতাভ বচ্চনের সেই ক্রাশেই আজও বসবাস। মেয়েটি কয়েকদিন আগেও যখন ‘গোলাবো সিতাবো’ দেখল পুত্র–কন্যা আর পুত্রবধুসহ। অমিতাভ প্রেম থেকে এক বিন্দুও সরে আসিনি।

এমন অবুঝ প্রেম আরও শুনুন। ক্লাস নাইনে পড়ুয়া দুই বেণি ঝোলানো সবুজ/সাদা ড্রেস পরা মেয়েটি বাড়ি থেকে স্কুলের পথে রওনা হলে প্রতিদিন মাঝ পথ থেকে একটা ছেলে সাইকেল নিয়ে তার সাথি হতো স্কুলের গেট পর্যন্ত। ফেরার পথেও সেই একই গল্প। ফেরার পথে মেয়েটি বেশির ভাগ দিন ফিরত এক বান্ধবীসহ।

মেয়েটি তখন ওই ছায়া সঙ্গীকে কিছুটা উপেক্ষা করতে পারত। তবে সকাল বেলার ওই নিত্যসঙ্গী মেয়েটিকে বেজায় প্যারা দিত। একসময় মেয়েটি প্রচণ্ড বিরক্ত হয়ে চাচাতো ভাইকে জানাল।

পাগলাটে ভাইটি কী বলেছিল ছেলেটিকে? মেয়েটি তা আর জানেনি, জানতে চায়ওনি কখনো।

সেদিনের পর থেকে আর তাকে দেখেনি। কোথায় যেন হাওয়ার মতো মিলিয়ে গেল সে।

মেয়েটি আজ বেলা শেষে এসে নিজেকে শুধায়, এটাই কী তবে প্রথম প্রেম?

কবি জুলি রহমানের ‘প্রথম প্রেম’ কবিতায়

তুমি লিখলে প্রথম চিঠি!

স্বর্ণচাঁপার কান্তি সেই চিঠির ভাঁজে।

অথচ আমি প্রেম বুঝি না;

রং বুঝি না ,পলাশের বসন্তের—

তুমি বললে আমিই সেরা সুন্দরী!

আয়নায় দেখি মুখ ;বিষাদে ভরে মন!

ভাবি আমি শৈশব কী অসহায়!

পুরুষকে মিথ্যা বলায়—

দ্বিতীয় চিঠি অশ্বত্থ তলায়!

লিখলে তুমি বিশ্বাস করো শেকড় সমেত!

দেখি আমি কৃষ্ণচূড়ায় রং লাগেনি;

একটি কোকিল ও নেই কোনো ডালে—

লেখক ও সাংবাদিক নিনি ওয়াহেদের প্রেম ‘আস্থা ও বিশ্বাসে’

১৯৬৮ সাল। সেপ্টেম্বর মাস। হালকা বৃষ্টিতে স্নাত এক সকাল। সামনে মন জুড়ানো ফুলের বাগান। গতকাল সন্ধ্যায় বাবার সরকারি বাসভবন ছেড়ে গেন্ডারিয়ার ৪৯ দীননাথ সেন রোডের বাড়িতে ভাড়া এসেছি। গত মাসে প্রগতিমনষ্ক চিকিৎসক বাবা প্রয়াত হয়েছেন। বাবা কেন্দ্রিক জীবনের চারধারে গাঢ় অন্ধকার। দেখলাম সাদা শার্ট ও সাদা প্যান্ট পরা ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি লম্বা একজন সুদর্শন যুবক হেঁটে যাচ্ছে তার বাড়ির গ্যারেজের দিকে। একবার চোখ তুলে তাকাল। সেটি-ই প্রথম দেখা। সেই মুহূর্তে ভালোলাগা, ভালোবাসা কতটুকু ছিল তা জানা নেই, তবে তার প্রবল আগ্রহেই ধীরে ধীরে সে পথে হেঁটেছি দুজন। যার পরিসমাপ্তি ঘটেছে ১০ বছর পর, ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বরে। বিভিন্ন জাতি-ধর্ম-বর্ণের সমষ্টিতে গড়া আমার পরিবার বা তার উদারমনষ্ক পরিবারের কারণে কখনো হতে হয়নি কোনো বাঁধার সম্মুখীন। প্রেমের ১০ বছর ও সংসারের ৪৩ বছর পর, আজ এ কথা স্বীকার করতেই হয়, সম্পর্কের গভীরতা দিনে দিনে শক্ত ভিত্তি পেয়েছে আস্থা, বিশ্বাস ও নির্ভরতায়।

বিজ্ঞাপন

কবি এ বি এম সালেহ উদ্দীনের ‘সেই মুখ’

সবে মাত্র হাইস্কুলে পা দিয়েছি । ফাগুনের শান্ত বিকেল। গজারিয়া বাজারের ঘরে থেকে হাইস্কুল জীবন শুরু। বাজারের গলি পেরিয়ে দক্ষিণের রাস্তার সঙ্গে স্কুলমাঠ। মাঠের পর পাকা কালভার্ট। বৈকালিক পদব্রজ শেষে তিন বন্ধু কালভার্ট রেলিংয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাৎ রিকশা থেকে ভেসে উঠল লাজুককন্ঠ! ভাইয়া।

চমকে উঠলাম। দেখছি কে যেন হাত নাড়ছে। এক সময়ে তার সঙ্গে জীবনে দুটি চিঠির আদানপ্রদান। একটি সেই কৈশোরোত্তীর্ণ স্কুল জীবনের বাজার থেকে বাজারে। ওরা থাকত (একই বাজারের) পূর্ব প্রান্তে। আর আমি পশ্চিম প্রান্তে।

‘যদি’ শিরোনামে শামসাদ হুসাম

‘পাগলের মত ভালোবাসত মানুষটি। কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিল। বয়স কত আর হবে, হয়তো একুশ বাইশ।

বেবুজ টাইপের একটা মানুষ। কোনো যুক্তির ধার ধরতো না। একেকটা সময় আমার দুটি হাত আঁকড়ে ধরে ব‍্যাকুলভাবে শুধাত, ‘যদি আমি তোমাকে না পাই, আমার কী উপায় হবে। আমি বাঁচব কী করে?’

চুপ করে থাকতাম। কিন্তু মনে মনে বলতাম, যদি কেন বলছ, কেন বলছ না তোমাকে আমার পেতেই হবে। আসলে যে পরিবারে আমার জন্ম, সেখানে আমার মতামতের কোনো মূল্য নেই।

যখন মাঝে মাঝে বুকের ভেতর সরীসৃপের মত ঠান্ডা একটা স্রোত আপন মনে খেলে বেড়ায়, তখন আবারও ‘যদি’ শব্দটা সামনে এসে দাঁড়ায়। ‘হায় তখন ‘যদি’ আমার বয়সটা আঠারো হতো!

যে দিন একেবারেই কী গেছে

শিক্ষক ও কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট আজিজুল হক লিখেছেন—৪০ বছর তো হবেই নটর ডেম কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে পড়ি।

আমার এক সহপাঠীর নাম রবিন। ওর বাবা–মা দুজনেই কলেজের অধ্যক্ষ। রবিন ইন্টারন্যাশনাল পেন-ফ্রেন্ড ম্যাগাজিনের সাবস্ক্রাইবার। আমাকে বলল, আমি চাইলে সে আমাকে ম্যাগাজিনগুলো দেবে। কলেজ শেষে একদিন সন্ধ্যায় তাদের আজিমপুর কলোনির বাসায় যাই।

সে বাসায় রবিনের আব্বা-আম্মা ছাড়াও তার দুবোন এলীন আর মেরীনের সঙ্গে পরিচিত হই। এলীন মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে আর মেরীন ক্লাস সিক্সে পড়ে। প্রথম পরিচয়, আপ্যায়ন আর আলাপচারিতার একপর্যায়ে খালাম্মা আমাকে বললেন, এলীন অঙ্কে খুব কাঁচা। আমি যেহেতু ভালো ছাত্র আর ভালো কলেজে সায়েন্সে পড়ি, আমি যেন ওকে অঙ্ক শেখাই। আমিও রাজি হয়ে গেলাম।

একদিন আমি যখন এলীনকে পড়িয়ে বাড়ি ফিরব, তখন এলীন আমাকে সন্তর্পণে একটি খাম দিল আর বলল আমি যেন বাসায় গিয়ে খুলি। কে শোনে কার কথা, সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতেই আমি খাম খুলে ফেলি। খামের মধ্যে একটি কার্ড, তীর-বিদ্ধ একটি রক্তাক্ত হার্ট আর নিচে লেখা ‘আই লাভ ইউ’।

সাহিত্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন