default-image

মা, শাশুড়ি বলতে বলতে হাল ছেড়ে দিয়েছে। এখন হয়তো ভাবে, যদি অজান্তে ব্যথা দিয়ে ফেলে!

সিলিং ফ্যানটার পর্যায়ক্রমিক গতির মতোই সিঞ্চনের দশটা-পাঁচটার সরকারি কেরানি জীবন। দিয়া ছোট্ট প্রাইভেট ফার্মটার কাজ মিটিয়ে ফেরে আরও ঘণ্টাখানেক পরে। বিধ্বস্ত শরীর আর আগুনের কাছে যেতে চায় না। সিঞ্চন ফেরার পথেই দুজনের চারটি রুটি আর সঙ্গে কোনো দিন তড়কা, তো কোনো দিন আলুর দম নিয়ে ফেরে। রাতে ঠান্ডা রুটি-তরকারি দুজনেই দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খায়। তারপর বিছানায় রুটিনমাফিক আবার ঠান্ডা সম্পর্কের নিয়মরক্ষা।

বিজ্ঞাপন

দিয়ার মা ফোনে বলে, ‘মাঝেমধ্যে ভাতে ভাত চড়িয়ে দিতেও তো পারিস!’

অনেক দিন পর দিয়া চাল-আলু ধুয়ে একসঙ্গে চাপিয়ে দেয়। সঙ্গে দুটো ডিম। প্রায় দুজনার ভাত খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলে সিঞ্চন। দিয়া মনে মনে ভাবে, এতটা খিদে নিয়ে ঘুমোয় মানুষটা...!

এর পর প্রায় দিনই ভাত ফোটার গন্ধে ম ম করে সারা বাড়ি। পেটের তৃপ্তি উষ্ণ হয়ে ঝরে পড়ে রাতের বিছানায়।

মাস দু-এক পর অফিস ফেরত নিজেই চিকেন কিনে আনে দিয়া। রাতের মেনু ব্রেড, আর গরম-গরম চিকেন স্ট‍্যু। খেতে বসে অবাক হয়ে দিয়ার দিকে তাকায় সিঞ্চন। একগাল হাসি নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে দিয়া হাত বাড়িয়ে কাগজটা দেয়—রিপোর্ট পজিটিভ।

বিজ্ঞাপন
সাহিত্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন