default-image

মনে পড়ে মাইকের কথা। সেই মাইক। বিশাল হাসি আর ঝকঝকে সাদা দাঁতগুলো যার কালো রঙের মুখটিকে উদ্ভাসিত করে তুলত। হঠাৎ হঠাৎই গায়েব হয়ে যাওয়া থেকে ফিরে এসে সে আমাদের চমকে দিত। এমনই হঠাৎ করে সে আবার একদিন হারিয়ে গেল। কিন্তু চমকে দেওয়ার জন্য আর কখনো ফিরে এল না। আর কখনো ফিরে আসবেও না।

বিজ্ঞাপন

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সকাল। সেদিনের সকালটিও ছিল অন্য সব দিনের মতোই। সূর্য উঠেছিল সময়মতো। আবহাওয়া ছিল চমৎকার। লোকজন বেরিয়ে গিয়েছিল যার যার কাজে। মানুষ ধীরে ধীরে কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছিল। ‘ছেলে ঘুমাল/ পাড়া জুড়াল/ বর্গি এল দেশে।’ সেই রূপকথার গল্পের মতোই ভোর হতে না হতেই বর্গির আক্রমণ শুরু হলো নিউইয়র্কে। রাত জাগা ক্লান্ত নিউইয়র্ক! ঘুমঘুম সকাল। কেউ হয়তো কেবলই গরম কফি হাতে কাজে ছুটছে। কেউ সবে অফিসের ফাইল খুলে বসেছে। বাচ্চারা স্কুলে। কেউ সদ্য ঘুম ভাঙা চোখে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখছে। তখনই বর্গির আক্রমণ হলো!

সেই নাইন-ইলেভেন। টুইন টাওয়ার আর অনেকগুলো তাজা প্রাণের সঙ্গে আমাদের মাইকও হারিয়ে গেল চিরতরে। সুজানা আর তাদের দুটি সন্তানের সঙ্গে সে তার শেষ কথাটিও বলার সুযোগ পায়নি। সেদিনের সেই অভাবনীয় ঘটনায় সারা পৃথিবীর মানুষ শোকে স্তব্ধ হয়ে গেল। হতবিহ্বল হয়ে গেল। কত শত পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেল। কত স্ত্রী বিধবা হলো। কত শিশু পিতৃমাতৃহীন হলো। প্রেমিক হারাল তার প্রেমিকাকে। আমরা মুসলিমরা হারালাম মানুষের বিশ্বাস আর শ্রদ্ধা।

বিজ্ঞাপন

মাঝেমধ্যে নতুন গড়ে ওঠা ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার’-এ যাই। মানুষগুলো সব কোথায় হারিয়ে গেছে! কালো গ্রানাইট পাথরের ওপর লেখা তাদের নামগুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখি। ‘মাইকেল জর্জ ওয়াশিংটন’ নামটির ওপর হাত দিয়ে চুপ করে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি। মনে হয় হাতের নিচে পাথরে খোদাই করা নামটি যেন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। ফিসফিস করে যেন বলছে, ‘মিলি, ডু ইউ রিমেম্বার মি?’ আমি ফিসফিস করে বলি, ‘অফকোর্স আই রিমেম্বার ইউ। আই অলওয়েজ ডু!’

সাহিত্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন