default-image

সারা রাত কেঁদে কেঁদে এখন চোখ শুকনো। ঘুমন্ত বাচ্চাদের মুখ দেখি। আমি জয়িতা, মনকে শান্ত করি। সিদ্ধান্ত নিতে হবে দ্রুত।

কিশোরী বয়সে প্রেমে পড়েছিলাম। সেই প্রেমে আটকে গিয়ে নির্ভেজাল ভালোবাসায় দীপুকে বিয়ে করি। আট বছরের প্রেমের সময় আরও অনেকেই হাত বাড়িয়েছিল। বহুজন বলেছিল, ভালোবাসি। দীপু সুদর্শন। কিন্তু মা-বাবার চোখে মাকাল ফল। তাঁর মাঝে এমন কোনো সাফল্যের সম্ভাবনা ছিল না। অন্তত মা-বাবা দেখেননি। এর চেয়ে মাছ ব্যবসায়ী ইলিয়াস বা সরকারি কর্মকর্তা হাসিব ছিল সম্ভাবনাময়। আর প্রেমে ভরপুর নগরের রক্ষক তাপসও হয়তো আমার জীবন বাসর রচনা করতেন ভিন্ন আদলে। এত ভালোবাসা দুই পায়ে মাড়িয়ে আজ এখানে কাঙালের মতো দাঁড়িয়ে। হাতে ফোন নিয়ে একটি নম্বর ডায়াল করি। রাতভর ভেবে দেখেছি আর কোনো পথ সামনে খোলা নেই।

জানি এরপর বহু কথা শুনতে হবে। প্রথম যাকে নিয়ে ভয় তিনি হিমেলের আম্মা। ভীষণ ডাকসাইটে এই মহিলা স্কুলের হেড মিসট্রেস। হিমেল নিজেও এই মহিলাকে ভয় পায়। কিন্তু কিছু করার নেই। গতকাল দীপু ওর সঞ্চিত অর্থ আর পাসপোর্ট নিয়ে কাপুরুষের মতো দেশ ত্যাগ করেছে। দীপু যে স্বপ্ন নিয়ে এ দেশে এসেছিল তা সফল হয়নি। দীপু সংসার নিয়ে সচ্ছল জীবনযাপন করতেই হিমশিম খাচ্ছিল। বাচ্চার দুধ আনতে পারত না। প্রতিদিনের এই কষ্টের পাহাড়ে ওঠানামা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। জীবন তো আর নাটক নয়। কবিতা গান সবার ছুটি। প্রতিদিন টাকার হিসাব গুণে গুণে আঙুলে কড়া পড়ে যায়। কিন্তু নিজের টাকা নেই। স্বপ্নেরা বাড়ি ছেড়ে পালায়। ভালোবাসা মায়া মমতারা দূরে কোথায় যেন চলে যায়। বাসাটা যেন এক গনগনে কয়লার চুল্লি। যেখানে কথার ঠোকাঠুকিতে আগুন জ্বলে ওঠে। কত দিন ভেবেছি, আজ দীপু বাড়ি এলে গলা জড়িয়ে ধরে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেব। গোসল করে সেজেছি দীপুর মনের মতো করে। দীপু ফিরে একপলক দেখেই বলেছে—‘কী ব্যাপার? হিমেল এসেছিল, নাকি আসবে?’

সন্দেহের ঘুণপোকা ভালোবাসাকে ছুটি দিয়ে বিদায় করে দেয়।

—মানে?

—ন্যাকা? বোঝো না। নিজেকে বেশি চালাক ভাবো? তোমার চোখ আমি পড়তে পারি। বুঝেছ?

—চুপ করো

—কেন? সত্যি কথা বললে গায়ে লাগে?

কথায় কথায় ঘরে আগুন লেগে যায়। প্লেট তুলে আছাড় মারি। কষে থাপ্পড় মারে দীপু। টেনে বেডরুমে নিয়ে যায়। ছুড়ে ফেলে বিছানায়। শাড়ি খুলে বের করে আনে দেহের জটিল সৌন্দর্য। হামলে পড়ে শরীরে।

—কামুক মহিলা। তোমার শরীরে কতটা কাম জাগলে তোমার চোখে আগুন জ্বলে তা আমি জানি।

—না না, ছেড়ে দাও বলেও ক্ষান্ত করতে পারি না ওকে। নিষ্ফল আক্রোশে কাঁদি বিছানায়। তার দুদিন পর বেড সাইড টেবিলে চিঠি রেখে চলে যায় দীপু। যে দীপু বিদেশ বিভুঁইয়ে যুবতী স্ত্রীকে দুই বাচ্চাসহ রেখে ভিনদেশে চলে যায়, সে একবারও ভাবে কি এখন তার জয়িতা কী করবে?

বিজ্ঞাপন

তিন বছর আগে দীপু আর আমাকে এই বাসা ঠিক করে দিয়েছিল হিমেল। দীপু আর হিমেল শৈশবের বন্ধু। বাসায় ওঠার পরপরই স্ত্রী মিলিকে নিয়ে এসেছিল হিমেল। তখন মিলি প্রেগন্যান্ট। এই বাসায় ওঠার কিছুদিন পরই আমিও প্রেগন্যান্ট হই। মিলির মেয়ে হয়। মিলির মেয়ে নিঝুমের জন্মের পরপরই জটিলতা দেখা দেয় মিলির শরীরে। দুই মাস পর জন্ম হয় আমার মেয়ে দিতির। দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ সময় কাটলেও মিলির শরীর ক্রমশ খারাপ হচ্ছিল। একদিন জ্ঞান হারিয়ে ফেলল। হাসপাতালে ভর্তির পর নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে অবশেষে ডাক্তার জানিয়ে দিল ক্যানসার। আর সেদিন থেকে হিমেলের জীবনে নেমে এল অন্ধকার। জন্ম না দিয়েও মিলির মেয়ে নিঝুমেরও মা হয়ে গেলাম আমি। মিলির অনুরোধে নিজের বুকের দুধ খাইয়ে নিঝুম আর দিতি দুজনকে বড় করতে হলো। নয় মাসের মাথায় মারা গেল মিলি। মিলি মারা যাওয়ার পর নিঝুমকে ওর এক খালা নিয়ে গেল। হিমেল একা কী করে আর কী না করে তার খোঁজ কেউ রাখে না। শুধু মাঝে মাঝে আমি দীপুকে বলি-যাও দেখে আসো, বন্ধু তোমার কেমন আছে।

দীপু ফেরে মাতাল হয়ে। কারণ গিয়ে দেখে হিমেল মাতাল হওয়ার আসর সাজিয়ে বসে আছে। দীপুও বসে পড়ে সেই আসরে। রাত গভীরে কোনোমতে ঘরে ফিরে। এরপর নিজ থেকে আর বলি না ওকে হিমেলের খোঁজ নিতে। ফোন করি মাঝে মাঝে। আর কোনো দিন হিমেল নিজেই বলে—

—আজ আসি? রাতে ডিনার করব। রুই মাছের ঝোল আর শুঁটকি ভর্তা করবে?

—আচ্ছা

—জয়িতা আমি কী নিঝুমকে নিয়ে আসব?

—নিঝুম কি আপনার কাছে?

—নাহ

—তাহলে মায়া বাড়িয়ে লাভ কী?

—আচ্ছা তাহলে একাই আসব।

রাতে হাতে ফল আর ওর বাচ্চাদের জন্য আইসক্রিম নিয়ে আসে হিমেল। গল্প করে। ক্রিকেট খেলে দীপ্তর সঙ্গে।

বোবা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি আমি। দীপ্ত আর দিতি দুই ছেলে মেয়ে। এভাবে দুই শিশু সন্তানসহ এক তরুণী স্ত্রীকে বিদেশ বিভুঁইয়ে রেখে কেউ অন্য দেশে অন্য কোথাও যেতে পারে? একজন বাবা তার দুই শিশু সন্তানকে ফেলে যেতে পারে এভাবে?

বাথরুমে গিয়ে শাওয়ার ছেড়ে কাঁদতে লাগলাম। দিপুর সব স্মৃতি মুছতে চাইছি যেন। প্রেম কী এক মোহময় হাতছানি। জীবনের সব সুখ মনে হতো দীপুর কাছে। আর আজ এভাবে ও ছেড়ে গেল? কাল সকালে বাড়ি ভাড়া নিতে আসবে। তখন? এই হাতকে প্রবল শক্তিমান ভেবে গোধূলিবেলায় সন্ধ্যা নদীর জলে ভেসেছিলাম। বিদেশ বিভুঁইয়ে সব ছেড়ে চলে এসেছি একবার ডাকতেই। জীবনে আর্থিক সুখ নিয়ে ভাবলে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে বিয়ে করতে পারতাম। ব্যবসায়ীকে বিয়ে করে ধনসম্পত্তির মালিক হতে পারতাম। অথচ যার জন্য কবিতার মতো পঙ্‌ক্তিমালা সাজিয়ে যাচ্ছি সে মাঝ নদীতে রেখে পালিয়ে গেল। তোয়ালে মাথায় জড়িয়ে বের হয়ে দেখি ছেলে মেয়ে দুজনেই জেগে গেছে। দুজনকে খাবার দিয়ে নিজে এক মগ কফি নিয়ে বারান্দায় বসলাম। ফোনের বাটন টিপলাম। রিং হচ্ছে।

—হ্যালো...

—হু

—কী হয়েছে? আর ইউ ওকে?

—নাহ

—কী হয়েছে?

—আসবেন?

—ওকে

নিচে গাড়ি থামল। ওপরে আসতেই ছেলে ওর কোলে উঠল। ওকে ক্যান্ডির প্যাকেট দিতেই খেলতে চলে গেল। আমি হিমেলের বুকে গিয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকি। কাঁদতে দেয় বেশ অনেকক্ষণ।

—কী হয়েছে বলো এবার। মাথায় হাত রাখে।

—দীপু চলে গেছে।

—কোথায়?

—ফ্রান্স।

—ওকে। কবে ফিরে আসবে?

—আসবে না। ফর এভার গেছে।

—পাগল!

—সত্যি। এই যে চিঠি।

পড়ে দেখল দুবার। এবার সে উঠে এসে দুহাতে জড়িয়ে ধরল আমাকে। বুকের গভীরে ধরে রাখল। কপালে চুমু খেল। চোখের পাতায় ঠোঁট ছুলো।

—যা হয়, সব ভালোর জন্য হয়। দীপুকে ডিভোর্স দিয়ে দাও। আমরা বিয়ে করি। আমাদের তিনটা বাচ্চা নিয়ে সুখের ঘর করব। জীবন কী বিচিত্র। কেউ এক নিমেষেই সর্বহারা। আর কেউ এক নিমেষেই এত কিছু পেয়ে গেল। প্রাণ খুলে হেসে বলে, জানো কত দিন পর প্রাণ খুলে হাসলাম। চলো গান করি।

মনের আকাশের মেঘগুলো ভেসে যায়। বাতাসে শুধুই আনন্দ। খিচুড়ি আর ডিম ভাজি সঙ্গে পুরোনো গরুর মাংস ভুনা। সালাদ কাটল হিমেল নিজেই। মুখে তুলে খাওয়াল আমাকে।

এক মাস। এই এক মাস প্রতিদিন হিমেল এসেছে, খোঁজ নিয়েছে। খাবার আছে কিনা, খেয়েছি কিনা জেনেছে। বাচ্চার দুধ বা বেবি ফুড আছে কিনা। বাচ্চারা হিমেল আসলেই খুশি। হিমেল একজনকে কাঁধে আর একজনকে নেয় কোলে। ওদের খিলখিল হাসি আমাকে নতুন এক সুখের দিকে ঠেলে দেয়। হিমেল যা খেতে ভালোবাসে, আমি রান্না করি।

মিলি, হিমেলের বউ মারা গেছে প্রায় তিন বছর হলো। পুরুষ মানুষ আর কত একা থাকতে পারে। আমি এই তিন মাসের একক জীবনে হাঁপিয়ে উঠেছি। এরই মধ্যে মধুর কোনো যাপিত জীবনের স্মৃতি নেই, যা আমার একাকিত্ব কাটিয়ে দিতে উদ্বুদ্ধ করবে। আজ সকালে হিমেলের ফোন পেয়ে ঘুম ভাঙল।

—রেডি হও।

—কই যাব?

—স্কটল্যান্ড।

—সবাই?

—হ্যাঁ সবাই। এক ঘণ্টা সময় দিলাম রেডি হতে।

—আচ্ছা।

গোসল করে একটা শিফন শাড়ি পড়লাম। গাঢ় সবুজ। কপালে বড় লাল টিপ। লাল লিপস্টিক। লংড্রাইভে গেলাম। বিকেলে বাসায় ফিরে বাচ্চারা ঘুমিয়ে পড়ল। সামনে হাঁটু মুড়ে বসে হিমেল। হাত বাড়িয়ে আমার তর্জনীতে আংটি পরিয়ে দিল। তারপর আমার কোলে মাথা রেখে বসল। ওর ঘন চুলে আঙুল চালাতে চালাতে কথা বলি। ও উত্তর দেয়। আমি যেন এক বেশুমার ভালোবাসাময় জীবন পেয়ে গেলাম। মনে আমার ভাবনা এল, এত সুখ কী আমার সইবে?

পরদিন বাচ্চাদের স্কুল ও ডে-কেয়ারে দিয়ে আমরা ম্যারেজ রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে লাইন দিলাম। সেখানে হিমেলের এক মাওলানা আত্মীয় ছিলেন। তিনি আবার কাজী। তাঁর সামনে আরেক দফা বিয়ে করলাম। তারপর দুজন দুই দিকে ছুটে দুই বাচ্চা পিক-আপ করলাম।

নিঝুম রাত। বিয়ের রাত। বাসর রাত। জানি কারওরই প্রথম না। কিন্তু আমাদের প্রথম রাত। দুজনই কাব্যরসিক, কিন্তু ফুল নেই, মালা নেই—এ কেমন বাসর। আমি যখন এমন ভাবছি তখনই দেখি দূরের শহর থেকে হিমেলের ছোটবেলার বন্ধু আর তাঁর বউ আসল। ওদের জিম্মায় বাচ্চাদের রেখে হিমেল আমাকে নিয়ে ছুট। আমরা ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের টেবিলে বসে আছি লন্ডনের টেমস নদীর তীরের এক ডেকে। নদীর জল ছলছল কলকল শব্দ তুলেছে। সন্ধ্যা নদী থেকে টেমস। জীবন নদীর ঢেউ। ডিনার সেরে আমরা এলিভেটরে উঠছি। ১০ তলা উঠে এলিভেটর খালি। আমরা দুজন। আমার কোমর দুহাতে জড়িয়ে গাঢ় চুম্বনে মগ্ন হিমেল। এত তৃষ্ণার্ত আমরা—কেউ কাউকে বুঝতে দিইনি এত দিন।

এলিভেটরে ১৬ তলায় নামলাম। লক খুলে রুমে ঢুকে দেখি সাদা বেডকভার দিয়ে ঢাকা বিছানায় লাল রক্ত গোলাপ আর হার্ট সাইনের ভেতর এইচঅ্যান্ডজে লেখা। হিমেল আমাকে বুকে টেনে নেয়। সুখে এলিয়ে পড়ি আমি।

—জয়িতা, জয়িতা তুমি শুধুই আমার। এ শহর জানুক আজ, আজ আমরা প্রেম করব। তুমুল প্রেমে ঝংকার উঠবে আজ। আজকের রাতে তুমুল আনন্দে ভাসব আমরা। পৃথিবী জানুক আমরা প্রেম করছি।

সেই রাত থেকে আমরা শরীর-মন দিয়ে কাছাকাছি হয়েছি। জীবনের কাছে নিজেকে সমর্পণ করা ছাড়া আমার আর কোনো পথ ছিল না। আমি সেই রাতে হিমেলের হাতে মাথা রেখে ঘুমালাম। শান্তি-স্বস্তির সে ঘুম। দীপু আমাকে যে অনিশ্চয়তার জীবন দিয়েছিল, সেখান থেকে আজ আমার মুক্তি।

পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিই। তারও অনেক আগে থেকে আমি দীপুকে চিনি। মনে হয় তখন কিশোরী আমি। এক বিকেলে দীপু আমাকে দেখে উতলা হলো। চিঠি দিল। আমিও যেন উচ্ছল হয়ে উঠলাম। এক বিকেলে নৌকায় ঘুরলাম। নদীতে ঘুরে ফিরে আমরা পরস্পরের প্রতি ভালোবাসার অঙ্গীকারে আবদ্ধ হলাম। দীপুর মধ্যে কী দেখে আমি পাগল হলাম তা আসলে নিজেও জানি না। দেখতে নায়কের মতো। লম্বা, সুন্দর স্বাস্থ্য। কথা বলে সুন্দর করে।

ও কাছে এলে আমি দিশেহারা বোধ করতাম। চিমটি কাটতাম নিজের হাতে, স্বপ্ন না সত্যি? দীপু আমার শুধুই আমার। ভাবতেই মন ভালো হয়ে যেত। দীপু কথা বললে আমি প্রাণভরে শুনতাম। তারপর দিন গোনা শুরু, কবে ওর চাকরি হবে। ওর স্বপ্ন ছিল লন্ডন যাবে। আমার হাত দুটো হাতে নিয়ে বলে

—তুমি আমার অপেক্ষায় থাকতে পারবে তো?

—হ্যাঁ, খুব পারব।

হুট করে এক সন্ধ্যায় বিয়ে মানে আক্দ হলো। কয়েকটা দিন স্বপ্নের মতো পার হয়ে গেল। ওকে এয়ারপোর্টে বিদায় জানালাম। পরের বছরই ছেলে হলো। এর পর তিন বছরের মাথায় এসে আমাদের নিয়ে গেল ইউকে। প্রথম প্রথম সব স্বপ্নের মতো লাগত। ম্যানচেস্টার এসেছি, তখন শীতকাল। স্নো পড়লে ছোটাছুটি শুরু করতাম ছেলে আর আমি। জীবনে প্রথম বরফ পড়তে দেখে আমরা উত্তেজনায় অস্থির। মন আন্দোলিত হয়। আমরা ছুঁয়ে দেখি। আমাদের সবকিছুতেই আনন্দ। আমার ছায়াছবির মতো লাগে। কিন্তু দীপু চোখ মুখ কেমন যেন শক্ত করে থাকে। কেমন অচেনা যেন দীপুকে লাগে। দূরে থেকে দীপু যত কাছের ছিল, কাছে আসার পর ক্রমশ দীপু দূরে যেতে থাকল। আমাদের ভালোবাসা প্রতিনিয়ত স্মৃতির মেঘ হয়ে দূর থেকে দূরে সরে গেল। আমার জীবনে দীপু চ্যাপ্টার বন্ধ হয়ে গেল। শুধু দীপুর ছেলে-মেয়ে আমার সমস্ত অস্তিত্ব জুড়ে রইল। আর হিমেল-মিলির সন্তান নিঝুমকে মায়া দিয়ে আপন করে নিলাম।

হিমেল-মিলির সন্তান নিঝুম আমার আপনের চেয়েও বেশি আপন। আর হিমেল যেন ওর নামের মতোই। রুদ্র তাপ সহ্য করতে করতে মানুষ যখন অস্থির, তখন হালকা বৃষ্টি মাখা হাওয়া যেমন শান্তির প্রলেপ বুলিয়ে দেয় হিমেল ঠিক তেমনি। আমার জীবনে এক কোমল অস্তিত্ব।

বিজ্ঞাপন
সাহিত্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন