default-image

নির্যাতিত শিশু

এম আর ফারজানা

ধর্ষিত হয় নারী, শিশু, সমাজ থাকে চুপ

বৃক্ষ বলে, মানুষ তুমি তোমার এ কোন রূপ!

রাস্তা বলো, পার্কে বলো সবুজ দেখো উদ্যানে

সৃষ্ট নখের আঁচড় কাটে নষ্ট মানুষ সবখানে।

স্টেশনে, পাড়ার মোড়ে কিংবা দেখি শপিংমল

নির্যাতনে পিষ্ট হয়ে ছোট শিশুর চোখে জল।

সভ্য সমাজ অসভ্যতার কালো কালি ঢেলে দেয়

ফুলের মতো অবুঝ শিশুর শৈশবটাও কেড়ে নেয়।

লজ্জা জাতির, লজ্জা দেশের, নারী, শিশু ধর্ষিত হয়

মানুষ নামের শ্রেষ্ঠ জীব দেয় যে কীটের পরিচয়।

ক্ষুধার জ্বালায় অন্ন চেয়ে পাতে যদি ছোট্ট হাত

অন্ধকারের ছায়ায় ডেকে দেয় যে তাদের দুটো ভাত।

বলাৎকারের বলি হয়ে গুমরে কাঁদে অন্ধকারে

নিয়মতান্ত্রিক অনিয়মে বেতের বারি পিঠে ঘাড়ে।

মানুষ নামের মুখোশ পরা কাল কেউটে, অজগর

বিষিয়ে তুলে শিশুর জীবন থাকে না আর কোনো ঘর।

হয় না বিচার, পায় না জায়গা, আড় চোখেতে সবাই চায়

নারী, শিশু ধর্ষিত হলে এটা যেন তাদের দায়।

নৈতিকতার নীতি ডুবে চারদিকে অবক্ষয়

স্তব্ধ হয়ে শিশুভাবে এ কোন মানব পরিচয়।

যে শিশুটি ভবিষ্যতে ধরবে দেশের কঠিন হাল

তার জীবনে নেমে আসে অবাঞ্ছিত জঞ্জাল।

ছুটবে শিশু আকাশপানে আনবে ধরে তারার দল

জ্যোৎস্না এসে লুটোবে পায়ে সূর্য দেবে আস্তাবল।

শিশুরাই জ্বালবে আলো করতে হবে তাদের মানুষ

গড়তে হবে মানবসমাজ, এক জীবনে সবাই জানুক।

হিংস্রতার থাবা থেকে রুখতে হবে নারী, শিশু,

তোমার, আমার পৃথিবীকে দেওয়ার আছে অনেক কিছু।

বিজ্ঞাপন
সাহিত্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন