default-image

শামীম আজাদ

বিশ্লিষ্ট

মানুষের মাথা ও মুখ

উড়ন্ত কফি কালার চুল

পাখি কিংবা প্রজাপতিতে ভরে গেলে

বুঝিবে, অপরাহ্ণ সন্নিকটে বলে

এমন টকটকে লাল হয়ে গেছে

যেমন বোঁটাচ্যুত আম

কারও না কারও খাটের নিচে

শীতল ফ্লোরে শুয়ে শুয়ে

সবুজ হারিয়ে সুপক্ব যবের রঙে

একা একা সোনালি হয়ে যায়।

তেমনি মা থেকে বিযুক্ত হয়ে

আমিও হতেছি সর্ষেদানা লাল

বত্রিশ বছর ধরে, মরে মরে

শিল্পবাণিজ্য করে, বিদেশের ঘরে।

বিজ্ঞাপন

কামরুল হাসান

সুন্দরবনে বাঘ দেখিবার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হইবার পরের পদ্য

দিনভর ওরা ঘোরে বাঘের পাড়ায়

চিত্রিত বাঘ এসে যদি নম্র দাঁড়ায়,

নখদন্তহীন বাঘ শুধু চক্ষু জুড়ায়।

যেমন গৃহপালিত বাঘ বেড়ালের ন্যায়

বাঘিনীর ক্রোধে ভীত অফিসে পালায়

মিউ মিউ করে মৃদু ভয়ের গলায়।

২.

রূপসার রুপালি জলে মুখ দেখে ভোরে

প্রশস্ত পশুর নদে ভাসিয়ে জলযান

নেমেছি শেওলা নদীটির হাত ধরে

পাটিকাটার দুধারেই প্রসিদ্ধ উদ্যান।

৩.

জল নয়, দুধখালির পিঠখানি জুড়ে

অপার সৌন্দর্যে মোড়ানো সুন্দরবন

ধারণার চেয়েও বেশি মুগ্ধ করে মন

জল আর জঙ্গলের রূপে চোখ ভরে।

ছেটি কটকায় কুয়াশা মোড়ানো রাত

ঘুমের প্রদেশে নিয়ে যায় স্বপ্নপ্রপাত

কাছেই বঙ্গোপসাগরে জলস্বর্ণ পাতা

ঈশ্বরের প্রবাহে ভরা কবির ক্ষুদ্র খাতা।

শাম্‌স চৌধুরী রুশো

ভাই-রাস

কথা বলতে বলতে কতবার হাত মেলালাম, হাসলাম

বুকে বুক মেলালাম কতবার

দুই তালুর মাঝখানে মায়ের মায়াবী জঠর

শিশুর স্নিগ্ধ দাপাদাপি

অক্সিজেনের উৎসস্থল ঠিক এখানেই।

হাতের মৃদু মর্দনে প্রেয়সীর গালে টোকা দেওয়ার পেলবতা

সজীব উষ্ণতা ছড়ায় প্রতিটি কোষে

হৃদ্‌যন্ত্র হয়ে ওঠে টগবগে তরুণ

আলিঙ্গনে স্বজন ও স্বদেশের গন্ধ

ঘামেও মৌ মৌ সুখ

আহা কি সুখ !

এখন কথা হয় দূরালাপনে

দেখা হয় জুমে, স্কাইপে কাচের মানুষের সঙ্গে।

আকাশে-বাতাসে শুধু যমদূতের দাপট

ভয়ংকর বিধ্বংসী জেনেও কেন তাকে ভাই বলে ডাকি?

মানুষ সত্যিই মহান!

ভাইরাস, ভাই-রাস, ভাই-রাজ...

জেনো, কোনো রাজত্বই চিরস্থায়ী নয়।

বিজ্ঞাপন

আলফ্রেড খোকন

সমুদ্রের কবিতা

সমুদ্রের পাড়ে যাও

গভীরে দাঁড়াও

ঢেউগুলো পড়ো

ঝাঁপ দেও

না হয় ফিরে গিয়ে

স্লোগান ধরো;

ঢেউয়ের সঙ্গে

উপচে পড়ছে ফেনা

চপ্পল পড়ে কেউ

সমুদ্রে নেমো না।

নাহার মনিকা

প্রকারান্তরে ঈভের বাগান

কোনো কোনো ছাইমাখা রাতের নর্ম সহচর হয় সন্ধ্যার চাঁদ

এমনও কি হয়?

অল্প চেনা সুখে ইতস্তত করে, গাছের পাতারা সারে নতুন দাম্পত্য।

পাতার ছায়ার কাছে, অন্ধকারে মানুষেরা, মানে আমি ও পুরুষ

করতলে পুষে রেখে ক্ষতের সেলাই নিঃশব্দে খুঁটে খাই পরম কবিতা,

বাহুতে ঝোলানো ফল খসে পড়ে, কিশোর আলোর পাশে পারঙ্গম দীক্ষা নিতে চাই।

শব্দার্থে মুছে নিলে সুখী অর্থবোধ-

সম্ভ্রান্ত পথের পাশে জ্যৈষ্ঠ মধু ওড়ে, পাতা পতনের শব্দে গোড়ালির মরণ-বাঁচন।

অনাবাদি সুখ খুঁজে আমার পুরুষ আহেলী পোকার পিছে ঘোরে,

পাতামতী বৃক্ষলতা একা একা পুড়ে পুড়ে ঈশান কোণে যায়-

মতান্তরে, সুর করে লেখা হয় আমাদের নিঃসঙ্গ গাঁথা।

অসতর্ক সন্ধ্যার চাঁদ ছায়ার নোঙর খুলে জ্যোৎস্না পায়ে দেয়

পাতারা প্রত্যুষে ভুলে নিশি কাব্যকলা।

তারপরও কথা থাকে ভোরের উঠানে-

কে বেশি দোলায়? অথবা আমরা, মানে আমি ও পুরুষ

অন্ধকারে ঘোরে থাকি, বাস করি অহোরাত্রি ছায়ার ক্ষুধায়।

গাছের পাতার সুখে দোল খাই, দিনের হিসাবে কিছু দোল খাওয়া দুঃখ থেকে যায়।

নর্মচরী চাঁদ জেনে গেছে আমাদের ভেজা পদশব্দ, আর ছড়িয়েছে

সে সংবাদ সোমত্ত পাতায়!

শাহানা আকতার মহুয়া

জলবালিকা

নীল আকাশে যখন ফোটে তারা

আলোয় আলোয় আকাশ দিশেহারা

তখন যেন হঠাৎ-ই পথ ভুলে

বাতাস এসে লুকোতে চায় চুলে।

দিঘির বুকেও ঘাঁই মেরে যায় রাত

পদ্মবনে জলকুমারীর হাত

একটি…দুটি…তিনটি তারার ঢেউ

দিঘির বুকে হয়তো দোলায় কেউ

তখন যেন পথভোলা মন ভুলে

বুকের কপাট আলতো ছোঁয়ায় খুলে

তখন যেন নীরব-নিথর জলে

জলবালিকা পুষ্প-কথা বলে।

স্বপ্ন কুমার

আর নি ডাকিবায় কুমারে

এত কষ্ট কেমনে আমি তোমারে দিলাম

কেমনে আমি দুঃখ দিলাম তোমারে যে এত

তোমারে তো রাখার কথা—ছিল মাথায় তুলি

তোমারে তো রাখার কথা— ছিল রানির মতো

কথা দিয়া কথা কেনে রাখলাম না আর

কেমনে আমি ভুলি গেলাম আমার কসম

আমি কেনে পারলাম না হৈতে ‘তোমার-কুমার’

কেমনে আমি হইলাম এমন পশুরও অধম

আমি কেনে জনে জনে করলাম গিয়া

মিছামিছি তোমার নামেই এত বদনাম

আমারে আদর করি তুমি ডাকিতায় যে ‘হিয়া’

তে কেমনে করলাম আমি—এমন অমানুষী কাম

‘কুমার’ ‘কুমার’ করি তুমি আর নি ডাকিবায়

মরার পরে ইশ কুমারে শুনতো যদি হায়

‘কুমার’ ‘কুমার’ করি তুমি আর নি কান্দিবায়

মরার পরে ইশ কুমারে শুনতো যদি হায়

বিজ্ঞাপন

রেজা শামীম

পরাবাস্তব

এখানে সময়কাল বলে কিছু নেই

অফিস শেষে রিকশায় চেপে কয়েক মিনিটেই

ঠিকঠাক পৌঁছে যাই ক্যালিফোর্নিয়া থেকে কুমারখালি।

যেতে যেতে দুপাশের দৃশ্য বদলের সঙ্গে সঙ্গে

বয়স কমে যায় আমার

বন্ধুর সঙ্গে হাইস্কুলের মাঠে ফুটবল খেলে

কাদামাখা গায়ে বাসায় ফিরলে

মা হাতে টাকা গুঁজে চিনি আনতে বাজারে পাঠায়,

সে টাকায় ডোনাট কিনে চলে আসি আমার সন্তানের কাছে।

এখানে সবাই অমর

যারা মরে গিয়েছিল বহু বহু আগে

তারাও আজ জাতিস্মর।

এখানে পূর্বপুরুষ মেঝেতে পাটি পেতে

ভাত খায় উত্তরপুরুষের সঙ্গে।

এখানে দুর্লভ কিছু নেই

বামনও পায়ের আঙুলে ভর করে ছুঁতে পারে চাঁদ।

বহুগামিতা পাপ নয় এখানে

চাইলেই কাঙ্ক্ষিত মানুষ যেচে দেয় আদিম আলিঙ্গন।

এখানে সবাই যে যার স্বপ্নের মতো দীর্ঘকায়

যে যার ইচ্ছের মতো সুন্দর।

সাহিত্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন