default-image

কবিতা না থাকলে কি সভ্যতা পিছিয়ে যেত? জগতের কোনো কিছু কি স্থবির হয়ে যেত? জয়োল্লাসে কবিতার পক্ষে দাঁড়াই। কবিতা অন‍্য কোনো কলার হাতিয়ার নয়, বরং স্বয়ংসম্পূর্ণ। কবিতা নৈতিক শিক্ষা, সমাজবদলের হাতিয়ার এমনকি কবিতাকে চেতনায় শান দেওয়ার পাথরখণ্ডও ভাবা হয়। কবিতা হলো স্বর্ণমুদ্রা, সে নিজেই মূলবান। ওকে গলিয়ে স্বর্ণমুদ্রার গায়ে মুদ্রিত রাজার মুখ কিংবা মূল‍্যমানের ছাপ উঠিয়ে ফেললেও তার দামের বা মানের কোনো হেরফের হয় না।

পৃথিবীর অনেক কিছুর প্রয়োজনীয়তা প্রশ্নাতীত নয়। আকাশের রং মোহময় নীল না হয়ে, সাদা হলেও আকাশ আকাশই থাকত। পৃথিবীতে এত বর্ণিল ফুল আছে তারপরও কি প্রয়োজন ছিল গোলাপের এমন সুন্দর হয়ে ফোটার? ময়ূরের বর্ণাঢ্য পেখম না থাকলেও, প্রাণী জগতের এমন কোনো ক্ষতি হতো না।

চোখ-কানের তৃপ্তিদায়ক ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য শত আয়োজন থাকার পরও কবিতার মুগ্ধতায় ডুবে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে—সব দেশে এবং সব ভাষাতেই। কবিতার অন্তর্নিহিত শক্তির জোর আছে বলেই এমনটি সম্ভব।

কবিতা প্রবল শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে সংক্রমণের ক্ষমতা রাখে। পেশি শক্তির চেয়েও কবিতা শক্তিশালী ও শাণিত। একটি কবিতা তার সৌন্দর্যে তার মোহনীয় শক্তিতে পুরো বিশ্ববাসীর হৃদয়ের অর্গল খুলে অন্দরে ঢুকে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে। আর এটাই প্রমাণ করলেন ২২ বছর বয়সী মার্কিন কবি অ্যামান্ডা গোরম্যান।

বিজ্ঞাপন

২০১৭ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম জাতীয় যুব সভাকবি হন অ্যামান্ডা গোরম্যান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের শপথ অনুষ্ঠানে নিজের কবিতা পড়া সর্ব কনিষ্ঠ কবি তিনি।

গোটা পৃথিবী যখন করোনায় বিপর্যস্ত। পৃথিবীর মোড়লখ‍্যাত যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র যখন রাহুর কবলে, ঐক্যে আর ঐক্যবদ্ধতার ওপর যখন অনাকাঙ্ক্ষিত আঘাত পড়ছে, তখন সারা বিশ্বের মানুষের দৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রের ক‍্যাপিটল হিলে নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ‍্যারিসের অভিষেক অনুষ্ঠানের দিকে।

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর নেতা, সমবেত অতিথি এবং মিডিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকা বিশ্ববাসীর মনে কবিতার সম্মোহনী শক্তিতে, সৌন্দর্যে আকস্মিক জ্বলে উঠলেন এক অল্প বয়সী কবি। নিজেকে যিনি পরিচয় দেন-দাসদের উত্তরসূরি, চর্মসার এক কৃষ্ণাঙ্গ মেয়ে হিসেবে।

অ্যামান্ডার ‘দ্য হিল উই ক্লাইম্ব’ শিরোনামের কবিতায় অবাক সবাই, স্তব্ধ চারিদিক। পিনপতন নীরবতায় কবিতার প্রতিটি শব্দ, কবি গেঁথে দিলেন তাবৎ বিশ্ববাসীর হৃদয়ে। তাঁর শব্দচয়ন, চমৎকার সব উপমা, তেজে বলীয়ান জোরালো দৃপ্ত উচ্চারণে অবাক, মুগ্ধ, তাবৎ দুনিয়াসহ সাবেক-বর্তমান, প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, ফার্স্ট লেডিসহ সবাই। অ্যামান্ডা বললেন—

‘যখন দিন আসে, আমরা নিজেদের কাছে প্রশ্ন রাখি

এই আবছা অন্ধকারে কোথায় খুঁজে পাব আলো

সেই শক্তিকে দেখছি আমরা যা

ভাগাভাগি করার চেয়ে ছিন্নভিন্ন করে

দেবে আমার দেশকে

গণতন্ত্র বিলম্বিত হলে—

আমার দেশকে ধ্বংস করে দেবে

সেই প্রচেষ্টায় তারা সফল হয়েছিল প্রায়

কিন্তু গণতন্ত্র পর্যায়ক্রমিকভাবে বিলম্বিত হতে পারে

তাই বলে গণতন্ত্রকে

স্থায়ীভাবে পরাজিত করা যায় না’

বিশেষ সময়ে, বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য এই তাঁর সময়োচিত কবিতা। তিনি কবিতায় যে শব্দ ব‍্যবহার করেছেন তা সারা বিশ্বের মানুষের মনে আজ, আগামীকাল এবং ভবিষ্যতেও অনুরণিত হতে থাকবে।

বিজ্ঞাপন
সাহিত্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন