‘বাবু গো, দুটো পয়সা দেবে?’—বেহালা বাজারে এমনিতে ভিড়, তার ওপর ভিখারির উৎপাত। লোকেরা হেয় চোখে তাকিয়ে চলে যাচ্ছে। মিনতি আবার এক মহিলার শাড়ির আঁচল ধরে বলল, ‘দিদি গো দুটো পয়সা দাও, মেয়ে দুটারে খাওয়াব।’

বিজ্ঞাপন

মহিলা যেন পালে বাঘ পড়েছে—এমন করে চিৎকার করে দূরে সরে গেল। দোকানদাররা ধমক দিয়ে মিনতিকে ওখান থেকে সরিয়ে দিল। মিনতি হার মানল না। তার ছোট দুটো মেয়ে রোজ তার মুখ চেয়ে বসে থাকে। মিনতি যেকোনো উপায়ে কিছু খাবার ওদের জন্য নিয়ে যায়। মাঝেমধ্যে তাকে অনেক খারাপ লোকের খপ্পরে পড়তে হয়। সে কোনোক্রমে পালিয়ে বাঁচে। সে বারবার চেষ্টা করে টাকা তোলার। কিন্তু পারে না। এই দোকান, সেই দোকান ঘুরে সে হতাশ হয়। অথচ তার একবারও কাউকে ঠকানোর কথা মাথায় আসে না। যখন সে ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখনই দু-চারটে হাত তার পিঠে এসে পড়ে। তার কানে আসে, ‘দূর কর এটাকে, এই তো সেদিন গাড়ির লোকটার সঙ্গে ফষ্টিনষ্টি করছিল।’ মিনতি রাস্তার ধারে পড়ে যায়। তার আর টাকার জোগাড় হয় না।

তারাতলার কাছে মেয়ে দুটোকে নিয়ে মিনতিকে বসে থাকতে দেখে দুজন সাধারণ মহিলা এগিয়ে আসে। তারা অনেক পুরোনো জামা কাপড়, খাবার, চাদর দিয়ে যায়। মিনতি অবাক চোখে চেয়ে থাকে। সে শুনতে পায় ওরা বলাবলি করছে, আবার আসবে। মিনতি শুধুই চেয়ে থাকে। তার বিশ্বাস হয় না।

বিজ্ঞাপন

তারপর একদিন জ্যামর আটকে থাকা বাস থেকে মিনতিকে কেউ ডাকে। হাত বাড়িয়ে লজেন্স, বিস্কুট দেয়। মিনতি দ্যাখে তার মতো আরেক মা তারই হাতে পরম যত্নে হাত ছোঁয়ায়। মিনতি ফিরে আসে তার মেয়েদের কাছে। মেয়েরা তখন মাকে পেয়ে আহ্লাদে আটখানা।

সাহিত্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন