default-image

সাত সকালে ঝুমুর কল করেই রায়হানের বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার আরম্ভ করে দিল,আমাকে কিছু বলার সুযোগই দিচ্ছে না। জামাইয়ের বদনাম করেই যাচ্ছে, কিছুক্ষণ শোনার পর আমি শুধু বললাম, একটু পানি খেয়ে নাও কিংবা নিশ্বাস নিতে ভুল করো না। তাহলে আবার হাসপাতালে রায়হানকেই দৌড়াতে হবে,এ কথা শুনে আরও তেলেবেগুণে জ্বলে উঠল।

জামাইয়ের বিরুদ্ধে হেন অভিযোগ নেই, যা কিনা সেন্সরের তোয়াক্কা না করে বলেই চলছে। যেটা আমাকে বলার মতো ভাষা না, সেটাও অকপটে বলে যাচ্ছে। আমি কায়দা করে বললাম, ধরো, একটি কল ফিরিয়ে নেই। এই ফাঁকে রায়হানকে কল করে শুধু বললাম, কেমন আছ। শান্ত গলায় বলল, বেশ তো ভালোই আছি। বললাম, ঝুমুর কেমন আছে। নরম কণ্ঠের উত্তর, ওই পাগলিটা ভালো আছে। মাঝে মাঝে রাগ করলেও ওর মনটা না অনেক ভালো। মাঝে মাঝে পাগলামি করলেও খুব ভালো মেয়ে।

রায়হানকে বললাম, একবার একটু আমার এখান থেকে ঢুঁ মেরে যা। বলল, এই আসছি।

সরি ঝুমুর, একটু দেরি করে ফেললাম। ঝুমুর বলল, ভাইয়া, আপনি ওঁকে কল করেছেন। আমি বললাম, কেন? কোনো উত্তর না দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বলা শুরু করতেই বললাম, আমি কি একটু পরে কথা বলতে পারি তোমার সঙ্গে?। বলল আচ্ছা। লাইন কেটে দিতেই কলিং বেলের শব্দ। বুঝে ফেললাম, রায়হান এসেছে।

বিজ্ঞাপন

ঘরে ঢুকেই স্বভাবজাত ভঙ্গিতে এক গাল হেসে বলল, জরুরি তলব কেন রে? কী বলব, কীভাবে শুরু করব ভেবেই পাচ্ছি না। শুধু বললাম, সত্যি করে বল, ঝুমুরের সঙ্গে তোর কি কিছু হয়েছে?

এবার বলল, না তেমন কিছু না। ও পাশের বাসার ভাবির সঙ্গে ফোনে কথা বলছিল ঘণ্টা কয়েক যাবৎ। তারপর মুড অফ। আমাকে কিছুই বলেনি। শুধু বলল আমি আর এখানে থাকব না—এটুকুই। কিন্তু কেন, কী হয়েছে।

আমি বললাম, না কিছু হয়নি। ততক্ষণে আমি বুঝে গেছি যা বোঝার। বিষটা কোথা থেকে এসেছে বুঝতে বাকি রইল না। আমি ওঁকে এক কাপ চা দিয়ে বললাম, পৃথিবীটা বড় আজব জায়গা। যার সঙ্গে সারা জীবন থাকার জন্য গাঁটছড়া বাঁধা, সেই কিনা ঘৃণার পাত্র হয়ে যায় মুহূর্তে পরের কথায়। একটুও বিচার করে নয়, শুধু পরের কথায় অতি আপনজনকে ভুল বোঝা।

আমি খোঁজ নিয়ে জানলাম, ওই নারী নাকি একা থাকেন জামাইকে ডিভোর্স না দিয়েই। পরিষ্কার হয়ে গেল আমার কাছে। নিজে তো ডুবেছে, সঙ্গে আর কাউকে নিয়ে ডুবতে চাচ্ছে।

আচ্ছা রায়হান, ঝুমুরের তো অনেক সমস্যা। আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি, কিন্তু কোনো দিন ওর বিরুদ্ধে বা বিপক্ষে একটি কথাও তুই বলিসনি। অথচ ঝুমুর তোর চরিত্র থেকে আরম্ভ করে এমন কিছু নেই, যা বলেনি। এরপরও তার স্তুতি তোর মুখে সারাক্ষণ, তুই হলি এ যুগের শ্রেষ্ঠ সন্তান।

আবার হাসি দিয়ে রায়হান বলে, ও একটা পাগলি। আবার একরাশ স্তুতি বউকে নিয়ে। এরপর হঠাৎ বলল, থাক এসব কথা। আজ উঠিরে। আরেক দিন কথা বলব।

বিজ্ঞাপন

আমি অবাক হয়ে ভাবতে থাকি অনেক কথা। মনের কোণে ভেসে উঠে আমারও একটি ঘটনা। এই কিছুদিন আগে একই রকম খেল আমার সঙ্গেও খেলতে চেয়েছিল কোন একজন। বুঝতে পেরে সাবধান হয়ে যাই। তাকে বর্জন করি। তারপর আর কোন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারেনি। বলা চলে, সফল হয়নি তার কূটচালে।

বেশির ভাগ মেয়ে মানুষ সুযোগ পেলেই স্বামী সম্পর্কে অন্য মানুষের কাছে ইনিয়ে-বিনিয়ে এটা বুঝিয়ে দেয়, তার স্বামী হচ্ছে এ জগতের সবচেয়ে খারাপ চরিত্রের একজন মানুষ। পক্ষান্তরে প্রায় এক শ পার্সেন্ট পুরুষ তার বউকে অন্যের কাছে সব সময় ভালো বলে তাকে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করে। বউকে নিয়ে কিছু বললেই তার প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠে, পার্থক্যটা স্পষ্ট।

যে সব নারী তার স্বামীকে অন্যের কাছে রাজার আসনে বসান, সে নারী কিন্তু মনের অজান্তেই রানির আসনে নিজেও অধিষ্ঠিত হন। আর অন্যের কাছে নিজ স্বামীকে খারাপ চরিত্রের তকমা দিলে প্রকারান্তরে নিজেও ওই সমগোত্রীয় হয়ে যান।

সাহিত্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন