অন্ধকারে ডুবে যেতে গেলেও অন্ধকারের ভাষাটা রপ্ত করতে হয়। অবিনাশ অন্ধকারে ডুবে যেতে যেতে লক্ষ্য করলে তার চারপাশে যেসব অন্ধকারের প্রাণী, তাদের মতো বন্ধু আর নেই। তার এই পথে আসার কোনো প্রয়োজন ছিল না। তবুও সে এসেছে অন্ধকারকে নিয়ে গল্প লিখবে বলে।

অন্ধকারের অনেকগুলো শেড। এক একটা শেডের বন্ধুরা একেক রকমভাবে তাকে সঙ্গ দেয়। তবে সবার একটা ব্যাপারে ভীষণ মিল। তারা সবাই গভীর থেকে গভীরতর অন্ধকারের দিকে তার পথটাকে সুগম করে তোলে।

অবিনাশ লিখতে থাকে অন্ধকারের কথা। ক্রমশ সেই অন্ধকার তার আঙুল বেয়ে শিরা-উপশিরায় ছড়িয়ে পড়তে থাকে। সে আতঙ্কিত হয়। কিন্তু লিখতে তাকে হবেই। একটা অন্যরকম কিছু লিখে সে প্রমাণ করে দেবে, সে কতখানি শক্তিশালী লেখক। গতানুগতিক প্রেম বা দুঃখের কাহিনি অনেক হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তার এই জগতের নতুন বন্ধুরা দিনের বেলাতেও আলোর কাছে যায় না। নানান পিচ্ছিল গলিঘুপচির সন্ধান দেয়। অবিনাশ সেই সব গলিতে পা বাড়াতে থাকে। ফিরে আসতে চাইলে দেখে দরজা একটা ছিলে ঠিকই, কিন্তু সেটা এখন মরীচিকার মতো পথভ্রষ্ট করে ফেলে। অবিনাশের চারপাশে অন্ধকারের বন্ধুরা নানা রকম ছিপ ফেলে রাখে; গিরগিটির মতো হাসে। অবিনাশ অন্ধকারকে আঁকড়ে ধরে; অনুভব করতে চায়। অক্ষরে নামিয়ে আনতে চায় ভয়ংকর আঁধার।

অবিনাশের কাছে এখন কেউ যেতে চায় না। অবিনাশ ডাকলেও আলোর প্রাণীরা দূরে সরে থাকে। এক রাতে সে মল্লিকার ঘরে ঢোকে। মল্লিকা অবিনাশকে দূরে সরিয়ে দেয়। অবিনাশ দেখতে পায় অন্ধকারকে প্রতিবাদ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। সে মল্লিকাকে চড় মারে। মল্লিকা প্রতিবাদী হয়। কিন্তু অন্ধকার তখন অস্ত্র হয়ে উঠেছে। অবিনাশের আঙুলগুলো ফণা তোলা সাপ হয়ে এগিয়ে যায় মল্লিকার গলার দিকে।

বিজ্ঞাপন

অবিনাশ এখন চার দেয়ালের অন্ধকারে বসে থাকে। তাকে লিখতে দেওয়া হয় না। অবিনাশ অন্ধকারে সাঁতার কাটতে কাটতে বুঝতে পারে এই অন্ধকার তাকে আলোর আভাস দেয়। সে জানে আর কয়েক দিন পরই তাকে একটা মঞ্চে উঠতে হবে। তারপর একটা দড়ি পরিয়ে দেওয়া হবে তার গলায়। তারপর একটা পাটাতন সরে গেলেই নিচে অনন্ত অন্ধকার। ওই অন্ধকারটা দেখা শেষ হলেই সে আবার লেখায় হাত দেবে।

সাহিত্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন