বিজ্ঞাপন

আমরা বাঙালিরা খেয়ে-না খেয়ে সারা জীবনে একটি বাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখি। তাই এখন অনেকেই বাড়ি কেনার জন্য হন্যে হয়ে পড়েছেন। সেই সুযোগে বিক্রেতারাও দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

ফ্রি মার্কেট ইকোনমির এই দেশে, রিয়েল এস্টেটের মার্কেটকে এখন বলা হচ্ছে ‘সেলারস মার্কেট’। একটি বাড়ির ওপর ১০-১২টা অফার আসছে। কেউ একজন ভাগ্যবান সেই ‘সোনার হরিণ’ অর্জন করে মানসিক তৃপ্তি পাচ্ছেন। কিন্তু এই প্রক্রিয়ার মাঝে মধ্যবিত্তের ‘আমেরিকান ড্রিম’ অনেক দূরে চলে যাচ্ছে।

নিউইয়র্কে বাড়ির দামের এই ঊর্ধ্বগতি এক বায়ার পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। প্রতি সপ্তাহে বাড়ি দেখছে, কিন্তু বাজেটের মধ্যে মিলছে না।

তিন যুগ আগে ফ্যামিলি ভিসায় আসা এই পরিবারের মাথা, যিনি ভাষাগত ব্যবধানের কারণে অন্যান্য কাজ করতে না পারায় দরজির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। এই জীবন সায়াহ্নে এসে একটি ছোট্ট বাড়ি এ শহর তাঁকে কেনার ক্ষমতা দেয়নি।

রিয়েল্টর ডটকমের বিশ্লেষণ বলছে, গত মে মাসে প্রতিটি বাড়িতে কমপক্ষে ১৫ দশমিক ২ শতাংশ বেশি আসকিং প্রাইস ছিল গত বছরের তুলনায়। অবশ্য গত বছরের হিসাব পুরোটাই ভিন্ন। নিউইয়র্কে বাড়ি কিনতে না পেরে তাঁরা বাফেলো, পেনসিলভানিয়াসহ অন্যান্য স্টেটে পাড়ি জমাচ্ছেন।

চিন্তা ভাবনা না করেই অনেকেই স্ত্রী-সন্তানদের মতামত ছাড়াই নিজের একক সিদ্ধান্তে বাড়ি কিনে স্থানান্তর হয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের জন্য বলি, বাড়ি কেনা আপনার স্বপ্ন হতে পারে কিন্তু তা আপনার ছেলের স্বপ্ন নাও হতে পারে।

নিউইয়র্কের মতো মেগাসিটির এক ধরনের চুম্বক আকর্ষণ আছে যা থেকে বেরিয়ে আসা খুব কঠিন। আপনার একটি ভুল সিদ্ধান্ত আপনার সন্তান, বৃদ্ধ মা-বাবার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আসন্ন ফল সিজনেই এই বাড়ির দাম কিছুটা কমে যেতে পারে। তখন হয়তো অনেকেরই একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়ে যাবে।

সাজসজ্জা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন