বিজ্ঞাপন

‘আমরা যখন বই সংগ্রহ করি, তখন আমরা আনন্দকেই সংগ্রহ করি’—ভিনসেন্ট স্টারেটের এই উক্তির সঙ্গে অনেকেই একমত হবেন। তা না হলে বইমেলা, বই প্রকাশক, সাহিত্যচর্চা আজ এতটা এগোতে পারত না। অনেকের মতো আমিও নতুন বই সংগ্রহ করতে আনন্দ পাই। বই হাতে পাওয়া মাত্র ঘ্রাণ নেওয়া, পাতা উল্টে যেকোনো একটা লাইন থেকে পড়তে শুরু করা, ফ্ল্যাপ পড়া...। এভাবে পরিচয় পর্ব শেষে বইটা হয়তো তুলে রাখলাম। তারপর হাতের কাজ শেষ করে এক কাপ চা নিয়ে আরাম করে বসা। কুশনে হেলান দিয়ে শুরু করি পাঠ অবগাহন। সঙ্গে একটা পেনসিল থাকতেই হবে, পছন্দের লাইন দাগ দেওয়ার জন্য। পাঠ ঘোরে দুপুরের ভাত ঘুম ছেড়ে যায় চিলেকোঠায়, বিকেল শেষে সন্ধ্যার পিলসুজের আলো জ্বলে ওঠে বইয়ের পাতায়। বই সংগ্রহের চাইতে পাঠ আনন্দ আসলেই দ্বিগুণ।

আমাদের ব্যস্ত জীবন, বই পড়ার সময় কই? কারও কারও পুরো জীবনটাই সংগ্রামী, বিষাদ বেদনার গল্পে ভরা অতীত কিংবা বর্তমান। এমন জীবনে বই পড়ার ইচ্ছা থাকলেও মানসিক অবস্থা থাকে না। তবুও বলব, কেউ চাইলে অবশ্যই সেটা সম্ভব। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিংবা বাসে বা ট্রেনে অনায়াসে একটু পড়া যায়। এর জন্য ইচ্ছা শক্তিটাই বড়।

সংসার-সন্তানকে সময় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেকটা মানুষকে নিজেকে একটু সময় দেওয়া উচিত। সেটা যদি বইয়ের সঙ্গে কাটানো যায়, তাহলে মন্দ হয় না। বই পড়লে ব্যথার উপশম হয়। বই পারে হতাশা, অতৃপ্তি, ব্যর্থতা ভুলিয়ে রাখতে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ‘বই পড়াকে যথার্থ হিসেবে যে সঙ্গী করে নিতে পারে, তার জীবনের দুঃখ কষ্টের বোঝা অনেক কমে যায়।’

তাই আসুন বই পড়ি, বই হোক আমাদের নিরাপদ সঙ্গী।

সাজসজ্জা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন