default-image

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার সীমান্ত পারাপার বন্ধের মেয়াদ আবারও বাড়ানো হয়েছে। গত ১৮ মার্চ থেকে দুই দেশের সীমান্ত পারাপার বন্ধ রয়েছে। প্রতি মাসে এই সময়সীমা বাড়ানো হচ্ছে।

কানাডার জননিরাপত্তা ও জরুরি প্রস্তুতি মন্ত্রী বিল ব্লেয়ার ১২ জানুয়ারি ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার সীমান্ত করোনাভাইরাস মহামারির ফলে কানাডীয়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি অবধি বন্ধ থাকবে। সীমান্ত পারাপার বন্ধ থাকলেও জরুরি সেবা, স্বাস্থ্যসেবা, বিমান পরিষেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, ট্রাকচালক, চিকিৎসা সামগ্রীসহ জরুরি মালামাল পরিবহন অব্যাহত থাকবে।

ব্লেয়ার মঙ্গলবার টুইট করে বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণের ওপর ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিধিনিষেধ বাড়িয়ে দিচ্ছি। আমাদের সরকার করোনাভাইরাস থেকে কানাডীয়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সর্বোত্তম জনস্বাস্থ্যের পরামর্শের ভিত্তিতে আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’

বিজ্ঞাপন

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ২০২০ সালের ১ ডিসেম্বর কানাডীয় ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, করোনা সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্ত পারাপার বন্ধ থাকবে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান, কৃষিপণ্য, ওষুধসহ জরুরি পণ্য পরিবহন অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শুধু মানুষের পারাপার বন্ধ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুলনায় নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের করোনা মহামারি সম্পর্কে স্পষ্ট ও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের করোনা পরিস্থিতি এখনো গুরুতর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে কিছুটা সময় লাগবে। করোনা মহামারির আগে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন গড়ে চার লাখ মানুষ পারাপার হতো। দীর্ঘদিন সীমান্ত পারাপার বন্ধ থাকায় দুই দেশের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী শহর বা এলাকা থেকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যারা চাকরি বা ব্যবসা করেন, তাঁরা বেশ বিপাকে পড়েছেন। এ ছাড়া অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। কানাডা থেকে প্রতি বছর প্রচুর মানুষ মিশিগানে বেড়াতে আসেন। এটি বন্ধ থাকায় মিশিগানের পর্যটন খাতে এরই মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

মন্তব্য করুন