বন্দুক ও গুলির সংকটে কানাডার শিকারিরা

বিজ্ঞাপন
default-image

কানাডার অন্টারিওর উত্তরাঞ্চলের শিকারিদের এ বছর বেশ সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলেই মনে হচ্ছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন সামনে রেখে বন্দুকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দেশটি থেকে আমদানি কমছে। বন্দুক ও গুলির জোগানের অভাবে কানাডার শিকারিদের বেশ বিপাকেই পড়তে হবে এবার।

সিবিসি কানাডার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক ও গুলি মজুতের প্রবণতা বেড়েছে। এতে দেশটি থেকে বন্দুক রপ্তানি কমছে। কানাডা এ ধরনের হালকা আগ্নেয়াস্ত্রের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল।

অন্টারিওর রামাকো’স সোর্স ফর অ্যাডভেঞ্চার ইন সাডবারির ব্যবস্থাপক ওয়াল্টার বোসওয়াল্ড অবশ্য এখনই সতর্ক ঘণ্টা বাজাতে চান না। তবে তিনি শিকার মৌসুম শুরুর আগেই শিকার সরঞ্জাম মজুতের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘এগুলো এখানেই মজুত করা দরকার। যদিও আমাদের হাতে সরঞ্জাম এখনো যথেষ্টই আছে।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
সিবিসি কানাডার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক ও গুলি মজুতের প্রবণতা বেড়েছে। এতে দেশটি থেকে বন্দুক রপ্তানি কমছে। কানাডা এ ধরনের হালকা আগ্নেয়াস্ত্রের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল

বোসওয়াল্ড শিকার-সরঞ্জামের সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের কথা না বললেও একটা বিঘ্ন যে ঘটছে, তা স্বীকার করেন।

কোভিড-১৯ মহামারির এ সময়ে চিকিৎসা সরঞ্জামের স্বল্পতার বিষয়টি না হয় বোঝা গেল। কিন্তু শিকার সরঞ্জামের সরবরাহের সংকটটি ঠিক কেন? উত্তর, যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনের কারণেই অনেক মার্কিন বর্তমানে বন্দুক ও গুলি মজুত করছে। প্রত্যক্ষ কারণ হচ্ছে, দেশটিতে চলমান সহিংসতা। আরও কারণ রয়েছে, সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনের আগে দেশটির বহু মানুষ হালকা অস্ত্র মজুত করতে শুরু করে। গত এক দশকের প্রবণতা অন্তত তেমনই।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্রেটিক দল বহু বছর ধরে একটি কঠোর বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আছেন। এর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান রিপাবলিকানদের। ফলে নির্বাচনের আগে দেশটির অনেকেই ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে বন্দুক বা গুলি কেনা কঠিন হয়ে যাবে—এমন ধারণা থেকে এগুলো মজুত করতে শুরু করেন। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনকে ঘিরে শুরু হওয়া সহিংসতা।

শিকার সরঞ্জাম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান পেরি’স গ্রেট নর্দার্ন গান অ্যান্ড বো শপের মালিক রেগ পেরি বলেন, ‘৩০ বছর ধরে এ ব্যবসা করছি। এর আগেও সরবরাহ সংকট হয়েছে। কিন্তু ধরনের দিক থেকে এবারেরটি আগের চেয়ে আলাদা। কোভিড-১৯ এর কারণে আরোপিত লকডাউন একটা কারণ। লকডাউনের আগে আগে অনেকেই বিভিন্ন জিনিস মজুত করেছেন। আবার চলমান অস্থিরতার কারণে এই সময়েও অনেকে অস্ত্র মজুত করছেন। এমনটা আগেও দেখা গেছে। মুশকিল হচ্ছে এবার অস্থিরতা দীর্ঘ হচ্ছে। নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা যত বাড়বে, এই সংকটও তত বাড়বে। এমন পরিস্থিতিতে কানাডা বিপদে পড়ে।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
গত বছরে যে পরিমাণ হালকা ও মাঝারি অস্ত্র বিক্রি হয়েছিল, এ বছরের ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তার চেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক বিক্রি বেড়েছে ৫৭ দশমিক ৮ শতাংশ

রেগ পেরির এ কথার সত্যতা পাওয়া গেল মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্মল আর্মস অ্যানালাইটিকস অ্যান্ড ফোরকাস্টিংয়ের তথ্যে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির জানাচ্ছে, গত বছরে যে পরিমাণ হালকা ও মাঝারি অস্ত্র বিক্রি হয়েছিল, এ বছরের ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তার চেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক বিক্রি বেড়েছে ৫৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

এর সঙ্গে আরেকটি কারণের কথা উল্লেখ করলেন জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির আইনের অধ্যাপক টিমোথি লাইটন। সিবিসি কানাডাকে তিনি বলেন, ‘বন্দুক কাছে রাখতে পছন্দ করেন-এমন বহু মানুষ প্রশাসনের প্রবণতা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। কোভিড-১৯-এর প্রেক্ষাপটে প্রশাসন জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। একই প্রবণতায় বন্দুক কেনা-বেচার বিষয়েও বিধিনিষেধ আসতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

লাইটন জানান, সাধারণত রিপাবলিকান সরকারের সময় বন্দুক কেনা-বেচায় তেমন বিধিনিষেধ থাকে না। যখন খুশি তখন কেনা যায় বলে বিকিকিনিও একটু মন্থর হয়ে যায়। ট্রাম্প জমানায়ও এর ব্যত্যয় হয়নি। কিন্তু শেষ বছরে এসে, বিশেষত গত মে মাস থেকে পরিস্থিতি বদলে গেছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন