default-image

আচমকা বিচিত্র শব্দে বেজে চলেছে মোবাইল ফোন। না, ফোনের কোনো সমস্যা নয়। ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি দুটো জরুরি খুদে বার্তা। ফরাসি আর ইংরেজি ভাষায়। বাইরে থেকে দেশে ফেরা কানাডীয়দের সঙ্গনিরোধ মানার ব্যাপারে সতর্ক করতেই এই জরুরি খুদে বার্তা।

এত দিন বিষয়টা শুধু অনুরোধ–উপরোধের মধ্যে ছিল। ২৮ মার্চ অন্টারিও রাজ্যজুড়ে প্রচারিত এই জরুরি বার্তা জানাচ্ছে, এখন থেকে সেটা আইন। দেশের বাইরে থেকে ফিরে বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের সঙ্গনিরোধে না যাওয়াটা এখন থেকে বিবেচিত হবে অপরাধ হিসেবে। এই দুই সপ্তাহের মধ্যে এমনকি দোকানে যাওয়া বা আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দেখা করাও নিষিদ্ধ। ঘটনা মোটামুটি পরিষ্কার। কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে এবারে আরও কঠোর কানাডা।

পৃথিবীর এই দুঃসময়ে আপাতত কানাডার লোকজনের জন্য স্বস্তির সংবাদ বলতে দুই। রোগমুক্তি ঘটেছে দেশের প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর স্ত্রী সোফি ট্রুডোর। কানাডার অন্যতম প্রধান সংবাদমাধ্যম সিবিসিসহ বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, পুরোপুরি সেরে উঠেছেন সোফি ট্রুডো। তাঁর ফেসবুকে পোস্টে সোফি জানিয়েছেন, এখন পুরোপুরি সুস্থ এবং চমৎকার বোধ করছেন তিনি। সোফির পুরোপুরি করোনামুক্তির খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর চিকিৎসকও।

যুক্তরাজ্য থেকে ফেরার পর ১২ মার্চ করোনা শনাক্ত হয় সোফির। এরপর থেকে সঙ্গনিরোধ পালন করছিলেন তিনি।

দ্বিতীয় সুখবরটি কত বড় মাপের, সেটি বোঝার জন্য হয়তো অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন। সেটি এসেছে কানাডার আরেক রাজ্য ব্রিটিশ কলাম্বিয়া থেকে। গত কদিনে অনেকটাই কমে এসেছে এই রাজ্যে নতুন করোনায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। বেড়েছে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যাও।

কিন্তু এর বাইরে কানাডীয়দের জন্য আর কোনো ভালো খবর নেই। বিশেষ করে, অন্টারিও এবং কুইবেক রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে উদ্বেগজনকভাবে। ২৯ মার্চ পর্যন্ত অন্টারিও রাজ্যে নিশ্চিতভাবে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৫৫। কুইবেকে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৮৪০ জন। সব মিলিয়ে পুরো কানাডায় করোনা রোগীর সংখ্যা এখন ৬ হাজার ২৫৮।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0