সাজসজ্জা

প্রবাসে ঈদের দিন

ঈদে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার প্রবাসীরা একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়

কোভিড-১৯ এর পৃথিবীতে ঈদ গত বছর থেকে রংহীন হয়ে উঠছে। আসন্ন ঈদসহ করোনাকালে তিনটা ঈদ উদ্‌যাপন করতে যাচ্ছি। করোনাকালীন সময় অতিক্রম করতে পারছি না। সবার প্রশ্ন আমরা কেমন আছি? আমরা আসলে ভালো নেই। প্রবাসে আমরা কম বেশি সবাই করোনার টিকা দিয়েছি। তবে রমজানটা মনের স্বাদ মিটিয়ে পালন করা গেল না। বিশেষ করে মসজিদে তারাবিহ নামাজ পড়তে না পারার আক্ষেপ থেকে গেল। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা কত হতে পারে? সঠিক আন্দাজ করা না গেলেও ধরে নেওয়া যায়‍, সংখ্যাটি ৬ লাখের কাছে। নিউইয়র্ক, মিশিগান, বাফেলো, ফ্লোরিডা, আটলান্টা, শিকাগো, নিউজার্সি, ভার্জিনিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের দেড় শতাধিক সিটিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আছেন।

বাংলাদেশিরা কমিউনিটি ভিত্তিক থাকেন। সে হিসেবে প্রবাসের ঈদগুলো অনেক প্রাণবন্ত হয়। ঈদের নামাজের পর একজন আরেকজনের বাসায় যান। সারা দিনই ঘুরে বেড়ানোর রেওয়াজ। যদিও তা অনেকটা নির্ভর করে আপনি কী রকম সামাজিকতা মেনটেইন করেন তার ওপর। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ভাইবোন, শ্বশুর বাড়ির লোকজন পাশাপাশি বসবাসের রেওয়াজ থাকায় এখানে আনন্দটা অন্যরকম। তারপর বন্ধু-বান্ধবের একটা বড় সার্কেল নিয়ে সবার বসবাস।

করোনাকালেও দেশের আদলে ঈদ উদ্‌যাপন করার চেষ্টা চলে এখানে। অনেকেই এবার নতুন পোশাকের জন্য ভারতীয় অনলাইন শপে অর্ডার করেছেন। কিন্তু ভারতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সন্দেহ দেখা দিয়েছে, ঈদের পোশাক সময় মতো পৌঁছাবে কিনা। এই সময়ে অনলাইনে কেনাকাটা করছেন প্রবাসীরা। বিদেশের শপগুলোতে অর্ডার ও রিটার্ন সহজ হলেও ভারতসহ অন্য দেশের অনলাইন শপিংয়ে রিটার্ন পলিসি কঠিন। তাই অনেক সময় ঈদের কাপড় নিয়ে নানা বিড়ম্বনা দেখা দেয়।

এ দেশে ঈদের নামাজে নারী-পুরুষ এক সঙ্গে জামাতে নামাজ পড়ার সুযোগ রয়েছে। তবে করোনার এ সময়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নামাজ পড়তে হয়। সঙ্গে মাস্ক পরতেই হয় এবং নিজের জায়নামাজ সঙ্গে রাখতে হয়। যদিও এবার প্রায় সবাই টিকা দিয়েছেন, তারপরও করোনার কারণে কোলাকুলি ও হ্যান্ডশেক করার সুযোগ নেই।

ঈদের নামাজ পড়ে অনেকেই আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানান। পাড়াপড়শির বাসায় যান। অনেকেই আবার ঝামেলা এড়াতে চান, বেশি মেলামেশা করতে চান না। তবে আগামী প্রজন্মকে জানানো উচিত যতই কাজের বা স্কুল কলেজের অজুহাত থাকুক, সবার উচিত ঈদের আনন্দ উপভোগ করা।

আমাদের শহর ফ্লোরিডার কিসিমি। এখানে ১৫০ পরিবার আশপাশে বাস করি। আমরা মসজিদে নামাজ পড়ে সেখানে কুশল বিনিময় করে বাসায় চলে আসি। মসজিদে কফি, ডোনাট ও নানা রকম হালকা স্ন্যাক্সের ব্যবস্থা থাকে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাসায় বন্ধরা আসতে থাকে। এরপর বাবা-মা, ভাইবোনদের বাসায় যাই। তারপর সন্ধ্যা থেকে আবার বাসায় অতিথিদের জন্য অপেক্ষা করি। রাত ১০-১১টা পর্যন্ত চলে অতিথিদের আনাগোনা। সে এক অন্য রকম অনুভূতি। ঈদের পরদিন আশপাশের বন্ধুদের বাসায় যাই। অনেকেই বিশ্বাস করবেন না, আমরা তিন দিন ঈদের আনন্দ উপভোগ করে থাকি আমাদের শহরে। কোভিড চলাকালীন তা সীমিত হলেও আমাদের হৃদ্যতা চলতেই থাকে।

প্রবাসী অধ্যুষিত নিউইয়র্ক, মিশিগান, বাফালো, নিউজার্সি, আটলান্টা, সাউথ ফ্লোরিডা, সেন্ট্রাল ফ্লোরিডাসহ ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশি এলাকায় ঈদের আনন্দ দেশের মতোই।

প্রবাসের ঈদের জামাত করোনার আগে হাজারো প্রবাসীর উপস্থিতিতে বড় মাঠে অনুষ্ঠিত হতো। সেখানে ঈদগাহর আমেজ পাওয়া যেত। করোনাকালীন গত বছর দুটি ও এবার ঈদুল ফিতর নিয়ে মোট তিনটি ঈদ প্রবাসীরা সামাজিক দূরত্ব মেনে সিডিসির গাইড লাইন মেনেই উদ্‌যাপন করেছেন ও করবেন। প্রবাসের ঈদ আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। ঈদের আগের দিন আমরা চাঁদ রাত পার্টি করি। সেখানে ছোট শপিংয়ের ব্যবস্থা থাকে ও মেহেদি দেওয়ার লাইন পড়ে যায়। এই ঈদেই আমরা বাংলাদেশের ৬৪ জেলার প্রবাসীরা একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাই।