সাজসজ্জা
টিকায় সত্যিই কাজ হচ্ছে
করোনার টিকা নিলাম। এর অনেক উপকারিতা আছে, তাও জানতাম। করোনাকালে ভাইরাস নিয়ে বেশ লেখাপড়া করেছিলাম। তারপরও বিজ্ঞানের ওপরে আমার আস্থা রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানও বিজলি বাতি বা কম্পিউটারের মতো আরেকটি বিজ্ঞান। ২৫০ মাইল ড্রাইভ করে দ্বিতীয় টিকা নিতে হয়েছিল। অনেকেই বললেন, ‘টিকার জন্য এত গলদঘর্ম? কাছে ধারে পাওয়া গেল না? আমারটা তো একবার রাস্তার ওপাশের সিভিএস থেকে দিয়ে দিল!’ একেকজনের অবস্থা একেক রকম। গায়ে মাখলাম না।
সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) বলছে, দ্বিতীয় টিকার দুই সপ্তাহ পর পূর্ণাঙ্গ সুফল পাওয়া যাবে। সুফলের মধ্যে, মানুষটি সহজে কোভিড-১৯ রোগটিতে আক্রান্ত হবে না। হলেও অল্পেই সেরে যাবে। হাসপাতালে যেতে হবে না।
খবর পেলাম, সবে অভিবাসী হওয়া আমার এক ভগ্নির জ্বর-কাশি-দুর্বলতার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। থাকে আটলান্টার এক শহরতলিতে। কী করবে বুঝতে পারছে না। বাসার সবাই একই রোগে আক্রান্ত। করোনায় উড়োজাহাজের টিকিট সস্তা। মানুষ ভয়ে ভ্রমণ করে না, কিন্তু আমি তো মোটামুটি ইমিউনড। ভাবলাম, গিয়ে দেখি কী অবস্থা। সেদিনই আবার সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, আমার টিকা পূর্ণাঙ্গ হয়েছে। কাজেই, ‘হু কেয়ারস।’
অনেকেই মানা করলেন। কেউ কেউ শঙ্কিত হলেন। যা হোক, গেলাম সেখানে। জায়গাটির নাম লরেন্স ভিল। গিয়ে দেখলাম, কেউ তাদের বাসায় ঢুকতে সাহস পাচ্ছে না। শুভাকাঙ্ক্ষীরা বাইরে খাবার বা ওষুধ রেখে চলে যায়। যারা টিকার পূর্ণ ডোজ নিয়েছেন, তারাও তাদের মুখ দর্শন করছেন না। প্লেগ বলে কথা!
আমি মুখে মাস্ক পরে গটগট করে ভেতরে ঢুকলাম। টেম্পারেচার হাই, অক্সিজেন লেভেল কম। নিশ্চয়ই কোভিড–১৯। দেরি করা সমীচীন নয়। দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
সে এক আশ্চর্য ইমার্জেন্সি, রোগীর থেকে চিকিৎসক–নার্স বেশি। এক মিনিট বসিয়ে রাখছে না। যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরের একটি জনবহুল অঙ্গরাজ্য থেকে সেখানে গিয়ে খানিকটা অবাকই হতে হলো। যা হোক, রোগী এক ঘণ্টা পরে ফোন করে নিজেই জানাল, কোভিড–১৯ পজিটিভ এসেছে, সঙ্গে নিউমোনিয়া। স্যালাইনের সঙ্গে নানা ওষুধ দেওয়া শুরু করেছে। একটু পরে খবর পেলাম, প্লাজমা থেরাপিও দেবে।
হাসপাতালে সুচিকিৎসায় তিন দিনের মাথায় রোগী বাসায় ফিরে এল। চার দিনের মাথায় আমি ওয়াশিংটনে ফিরে এলাম। ফিরেই দেখি, অনেকে আর আমার ছায়া মাড়ায় না। কারণ, আমি কোভিড–১৯ রোগীর কাছাকাছি গিয়েছিলাম। আমাকে এখন ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন থাকতে হবে।
সিডিসির গাইডলাইন চেক করে দেখলাম, টিকার পূর্ণ ডোজ নেওয়া একজন যদি কোভিড রোগীর সংস্পর্শেও আসে, তাকে কোয়ারেন্টিন করতে হবে না। তাকে কোভিড–১৯ টেস্টও করাতে হবে না। এটিই হলো টিকার সুফল। কে শোনে কার কথা! জোর গলায় কথাবার্তা বললেও, ভেতরে-ভেতরে শঙ্কায় ছিলাম। দেখা গেল আমারই খুসখুসে কাশি, জ্বর, শরীর হঠাৎ খুব দুর্বল লাগছে! তখন?
যা হোক, আজ ১৪ দিন পার হলো। এক বাড়িতে, এক গাড়িতে কোভিড–১৪ রোগীর সঙ্গে সহাবস্থান করার পরও কোভিড হয়নি।
১৪ দিন না হওয়া পর্যন্ত মিনমিনে গলায় বলেছিলাম, আজ জোর গলায় বলতে পারি, টিকা কাজ করে। আমি নিজেই তার প্রমাণ।
ভ্যাকসিন নিন। বিষয়টি ভালোভাবে জানুন। শুধু ‘আমার মনে হয়’, ‘আমি তো শুনলাম’, ‘ওই যে বিলকিস ভাবির ভাসুর...’—এসব বললে হবে না। সিডিসি আপনার গণ্ডির সবকিছুই আমলে এনে এবং তারও বেশি পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে তবে একটি কথা বলে। তাদেরও ভুল হতে পারে, সেটিকে তারাই আবার দ্রুত চিহ্নিত করে শুধরে নেয়।
শিগগিরই পৃথিবীর সব দেশের, সব মানুষের কাছে টিকা পৌঁছে যাক, সেই কামনাই করি।
মনে রাখতে হবে, মহামারি আসে, মারামারি যায়; শুধু চির সমুন্নত থাকে মানুষ।
Also Read
-
সংক্রমণের ৮০ শতাংশই ভারতীয় ধরন, অজানা একটি ধরনও শনাক্ত
-
বাজেটে একধরনের ‘ভাঁওতাবাজি’ করা হয়েছে: মির্জা ফখরুল
-
আপনার জন্য যা থাকছে
-
অর্থমন্ত্রী কত নম্বর পেলেন?
-
আমরা কেবল দুর্নীতিবাজ নই, আমরা অদক্ষও