default-image

মার্কিন নির্বাচনের আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। ভোটের এই শেষ মুহূর্তে এসে দেশব্যাপী জাতীয় জনমত জরিপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে ১২ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে আছেন ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন।

সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি জরিপ ও বাজার গবেষণা সংস্থা এসএসআরএস পরিচালিত সিএনএনের একটি নতুন জরিপে ট্রাম্প ও বাইডেনের জনমতের এই ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে।

সেখানে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে জাতীয়ভাবে বাইডেনের পক্ষে ৫৪ শতাংশ ও ট্রাম্পের পক্ষে আছেন ৪২ শতাংশ ভোটার। এ ছাড়া সিএনএন পরিচালিত প্রতিটি জরিপসহ গত বসন্ত থেকে দেশব্যাপী সব জাতীয় জনমত জরিপেই এগিয়ে আছেন বাইডেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থীর জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয় রাজ্যের ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে। ভোটের ঠিক আগ মুহূর্তের এই জাতীয় জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, গত দুই দশকে দেশটির যেকোনো প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর চেয়ে অনেক এগিয়ে আছেন ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন।

জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা ইতিমধ্যে আগাম ভোট দিয়ে দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে ৬৪ শতাংশ ভোট দিয়েছেন বাইডেনকে, আর ৩৪ শতাংশ দিয়েছেন ট্রাম্পকে। যারা এখনো আগাম ভোট দেননি, কিন্তু দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তাঁরা জরিপে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ ভোটার বাইডেনকে ও ৩৩ শতাংশ ভোটার ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। আর বাকিরা ৩ নভেম্বর ভোটের দিন কেন্দ্র গিয়েই ভোট দেবেন।

যারা ইতিমধ্যে আগাম ভোট দিয়ে দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে ৬৪ শতাংশ ভোট দিয়েছেন বাইডেনকে, আর ৩৪ শতাংশ দিয়েছেন ট্রাম্পকে
বিজ্ঞাপন

জরিপে আরও দেখা গেছে, বাইডেনের পক্ষে নারী ভোটার আছে ৬১ শতাংশ, ট্রাম্পের ৩৭ শতাংশ। আর পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ ট্রাম্পের পক্ষে, বাইডেনের পক্ষে এই হার এক শতাংশ কম। বাইডেন ও ট্রাম্পের মধ্যে অশ্বেতাঙ্গ ভোটারের সমর্থনের ব্যবধান অনেক। বাইডেনকে ভোট দেবেন ৭১ শতাংশ অশ্বেতাঙ্গ ভোটার আর ট্রাম্পের পক্ষে আছেন ২৪ শতাংশ।

এদিকে শ্বেতাঙ্গ ভোটার ট্রাম্পের পক্ষে বেশি, ৫০ শতাংশ। বাইডেনের পক্ষে এই ভোটারদের হার ৪৮ শতাংশ। অশ্বেতাঙ্গ নারী ভোটারের মধ্যে ৭৭ শতাংশ বাইডেনের পক্ষে আর ট্রাম্পের পক্ষে তা খুবই কম, মাত্র ২১ শতাংশ। এদিকে শ্বেতাঙ্গ নারী ভোটারের মধ্যে বাইডেনের পক্ষে আছেন ৫৪ শতাংশ। ট্রাম্পের পক্ষে এই হার ৯ পয়েন্ট কম।

অশ্বেতাঙ্গ পুরুষ ভোটারের মধ্যে ৬৪ শতাংশ বাইডেনের পক্ষে আর ট্রাম্পের পক্ষে তা ৩৬ পয়েন্ট কম। শ্বেতাঙ্গ পুরুষ ভোটারের মধ্যে ট্রাম্পের পক্ষে আছেন ৫৬ শতাংশ। বাইডেনের পক্ষে এই হার ১৫ পয়েন্ট কম।

কলেজ পাস করা শ্বেতাঙ্গ ভোটারের মধ্যে বাইডেনের পক্ষে আছেন ৫৮ শতাংশ আর ট্রাম্পের পক্ষে ৪০ শতাংশ। যারা এখনো চার বছরের ডিগ্রি সম্পন্ন করেননি তাঁদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থক বেশি, ৫৮ শতাংশ। আর বাইডেনের পক্ষে আছেন ৪০ শতাংশ।

৩৫ বছর বয়সের কম বয়সী তরুণ ভোটারদের মধ্যেও বাইডেন জনপ্রিয়তায় ট্রাম্পের চেয়ে ৩৮ পয়েন্ট বেশি নিয়ে এগিয়ে আছেন। বাইডেন ও ট্রাম্পের এই হার যথাক্রমে ৬৮ ও ৩০ শতাংশ। আর ৩৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে বাইডেন ও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার সমান, ৪৮ শতাংশ।

এসএসআরএস পরিচালিত সিএনএনের এই জরিপটি ২৩ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালনা করা হয়েছে। সারা দেশের ৮৮৬ জন সম্ভাব্য ভোটারসহ এক হাজার পাঁচজনের ওপর টেলিফোনে এই জরিপ চালানো হয়েছে

জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রাপ্ত বয়স্ক ৪২ শতাংশের কাছে ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতা আছে, আর অগ্রহণযোগ্যতা আছে ৫৫ শতাংশের মধ্যে। সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতা আছে ৪২ শতাংশের, আর অগ্রহণযোগ্যতা আছে ৫৬ শতাংশের মধ্যে।

বাইডেনের সমর্থকদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা মূলত ট্রাম্পের বিপক্ষে ভোট দিতেই বাইডেনকে বেছে নিয়েছেন। আর ৪৮ শতাংশ পছন্দের প্রার্থী হিসেবে বাইডেনকেই ভোট দেবেন। অন্য দিকে ট্রাম্পের সমর্থকদের (৭৯ শতাংশ) মধ্যে প্রতি ১০ জনে আটজন জানিয়েছেন, তাঁরা প্রেসিডেন্টকে পছন্দ করেই ভোট দেবেন। আর বাইডেনের বিরোধিতা করে ট্রাম্পকে ভোট দেবেন ১৭ শতাংশ সমর্থক।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে কে বেশি সৎ ও বিশ্বাসযোগ্য—এই প্রশ্নে বাইডেনের পক্ষে ৫৪ শতাংশ ভোটার আর ট্রাম্পের পক্ষে ৩৭ শতাংশ ভোটার আছেন। কে বেশি জনগণের কথা ভাববেন—এই প্রশ্নে বাইডেনের পক্ষে ৫৪ শতাংশ ভোটার আর ট্রাম্পের পক্ষে ৪০ শতাংশ ভোটার আছেন। বিপদ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করবেন কে—এই প্রশ্নে বাইডেনের পক্ষে আছেন ৫২ শতাংশ ভোটার আর ট্রাম্পের পক্ষে আছেন ৪৫ শতাংশ ভোটার।

এসএসআরএস পরিচালিত সিএনএনের এই জরিপটি ২৩ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালনা করা হয়েছে। সারা দেশের ৮৮৬ জন সম্ভাব্য ভোটারসহ এক হাজার পাঁচজনের ওপর টেলিফোনে এই জরিপ চালানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0