default-image

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনা তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। গত ৬ জানুয়ারির এ হামলার নেপথ্য কারণ উদ্‌ঘাটনের লক্ষ্যে তিনি আইনপ্রণেতাদের চিঠি দিয়েছেন।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর এমন স্বাধীন কমিশন গঠন করা হয়েছিল।

গতকাল সোমবার স্পিকার পেলোসি কংগ্রেসের উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের চিঠি দেন। চিঠিতে ‘সেপ্টেম্বর ইলেভেন’ আদলে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের আহ্বান জানান তিনি। কমিশনে দায়িত্ব কে বা কারা পালন করবে—এ প্রশ্নের উত্তরে স্পিকার পেলোসি জানিয়েছেন, অবশ্যই স্বাধীন ব্যক্তিদের দিয়ে কমিশন গঠন করা হবে। এই কমিশনে কোনো ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা থাকবেন না, এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন পেলোসি।

ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের ঐকমত্যের মাধ্যমে এমন কমিশন গঠনের কথা বলেছেন পেলোসি। তিনি বলেছেন, কমিশন ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনার সত্য উদ্‌ঘাটন করবে। এই হামলার কারণগুলো চিহ্নিত করবে।

ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিশংসিত হলেও সাজা থেকে তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট।

ট্রাম্প তাঁর সমর্থকদের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে জড়ো করেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের শেষ সাংবিধানিক কার্যক্রম নিয়ে সেদিন কংগ্রেসে যৌথ অধিবেশন চলছিল। এ সময় উগ্র ট্রাম্প-সমর্থকেরা ক্যাপিটল হিলে হামলা চালান।

হামলায় একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন নিহত হন। আহত হন অনেকে।

ক্যাপিটল হিল ঘিরে সহিংস ঘটনার জেরে প্রতিনিধি পরিষদ দ্রুততার সঙ্গে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা অভিশংসন প্রস্তাব গ্রহণ করে। ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়ার পরপর সিনেটে অভিশংসন আদালতে তাঁর বিচার হয়। বিচারে সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পকে দায়ী করে দণ্ড দেওয়ার পক্ষে ভোট দেন। কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন না থাকায় দণ্ড থেকে ট্রাম্প অব্যাহতি পান।

বিজ্ঞাপন

ট্রাম্প দণ্ড থেকে অব্যাহতি পেলেও ক্যাপিটল হিলে ৬ জানুয়ারির হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল বাইরে থেকে। যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা প্রথমবারের মতো হয়েছিল। ওই হামলার ঘটনার এক বছর পর একটি কমিশন গঠন করে তখনকার কংগ্রেস। ‘নাইন ইলেভেন কমিশন’ নামে গঠিত ওই কমিশন দেশ-বিদেশে তদন্ত করে ১১ সেপ্টেম্বর হামলার নেপথ্য কারণ উদ্‌ঘাটন করে। এমন ঘটনা প্রতিরোধ করার বিষয়ে তারা নানা সুপারিশ করে।

স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাঁর চিঠিতে একই ধরনের কমিশন গঠনের কথা বলেছেন। সেখানে স্বতন্ত্র লোকজন স্বাধীনভাবে তদন্ত করে ৬ জানুয়ারির ঘটনার কারণ উদ্‌ঘাটন করবে। এমন ঘটনা ভবিষ্যতে কীভাবে প্রতিহত করা যায় বা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে কমিশন সুপারিশ করবে।

৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলা নিয়ে এমন একটি কমিটি গঠনের কথা রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও বলেছেন। গত রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিনেটর গ্রাহাম বলেন, ক্যাপিটল হিলে এমন ঘটনা ভবিষ্যতে ভালোভাবে প্রতিহত করার জন্যই নাইন ইলেভেন কমিশনের মতো একটি কমিশন গঠন করতে হবে।

স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি জানিয়েছেন, মার্কিন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল রাসেল হোনোর ইতিমধ্যে ক্যাপিটল হিলে সংগঠিত ঘটনার নানা দিক তদন্ত করছেন। তার বাইরে কংগ্রেসের সিদ্ধান্তে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের ব্যাপারে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে একধরনের মতানৈক্য সৃষ্টি হয়েছে।

স্পিকার পেলোসি তাঁর চিঠিতে বলেছেন, কমিশন আমেরিকার অভ্যন্তরীণ উগ্রবাদীদের তৎপরতা, ৬ জানুয়ারির ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর ভূমিকা নিয়ে তদন্ত করবে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন