default-image

সব বয়সী নারী সুন্দর থাকতে চান। সব বয়সী নারীই চান নিজের রূপটাকে ধরে রাখতে। একজন মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে রূপচর্চার জন্য কিছু টিপস তুলে ধরব এই লেখায়। আমেরিকায় এখন শীতকাল, তাই আমি এই সময়ের স্কিন কেয়ার বা ত্বকের চর্চা নিয়ে কথা বলব। এ সময় আমাদের হাইড্রেশন খুব জরুরি। কারণ শীতকালে ত্বক এমনিতেই খুব বেশি শুষ্ক হয়ে থাকে। শুষ্ক ত্বকে যদি ঠিকমতো ময়েশ্চারাইজ না হয়, সে ক্ষেত্রে চামড়া উঠতে পারে, চুলকাতে পারে, চুলকানোর ফলে দাগও হতে পারে। এ জন্য একটি সঠিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা খুব প্রয়োজন। বিষয় হচ্ছে, আমরা এখন কীভাবে সঠিক ময়েশ্চারাইজার নির্বাচন করব? আমরা বেশির ভাগই জানি না, আমাদের ত্বকে কোন ধরনের ময়েশ্চারাইজার স্যুট করবে। যার ফলে দেখা যায়, শুষ্ক ত্বক অনেক সময় শুষ্কই থেকে যায়, তৈলাক্ত ত্বকে ঠিকমতো ময়েশ্চারাইজিং নির্বাচন না হলে সে ক্ষেত্রে ব্রণ হতে পারে। সাধারণত স্বাভাবিক ত্বকে কোন সমস্যা হয় না।
আমাদের ত্বক ৫ ধরনের হয়ে থাকে—১. স্বাভাবিক ত্বক (তৈলাক্ত বা শুষ্ক কোনোটাই নয়) ২. ড্রাই স্কিন (শুষ্ক ত্বক) ৩. তৈলাক্ত ত্বক (অয়েলি স্কিন) ৪. সেনসেটিভ স্কিন (কিছু লাগালেই র‌্যাশ হতে পারে। স্পর্শকাতর ত্বক, চুলকায়, র‌্যাশ হয়, ব্রণ হতে পারে) ৫. কম্বিনেশন স্কিন (টি জোন থাকে তৈলাক্ত, ফেসের বাকি অংশ যেমন কপাল, নাক, গাল তৈলাক্ত থাকে এবং বাদবাকি অংশ শুষ্ক থাকে।
চুল বা ত্বকেরর জন্য যোযোবা অয়েল খুব উপকারী। তবে এখানে শুধু ত্বক নিয়ে আলোচনা করব।
শুষ্ক ত্বক বা ড্রাই স্কিনের যোযোবা অয়েল, নারিকেল তেল প্রয়োজন। অ্যালোভেরা ড্রাই স্কিনের জন্য খুবই ভালো। ময়েশ্চারাইজার কেনার ক্ষেত্রে এই ইনগ্রেডিয়েন্টসগুলো দেখে নিতে পারেন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য গ্লিসারিন। সেটা রাতের জন্য নয়। রাতের জন্য আলাদা নাইট ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। ময়েশ্চারাইজার সমৃদ্ধ এসপিএফসহ ময়েশ্চারাইজার লাগাতে পারেন, তবে কিছু স্পেশাল ময়েশ্চারাইজারও বাজারে পাওয়া যায়। দিনের বেলায় টু ইন ওয়ান sundock in containing ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। অ্যান্টি এইজ–অ্যান্টি এজিং ময়েশ্চারাইজার আছে অ্যান্টি এইজিং প্রপার্টিজ।
স্কিন পিগমিনটেশনের ওপর কাজ করে এমন ডারমাটোলজি টেন্টেড ক্লিনিক্যালি প্রুভেন, যাদের ত্বক তৈলাক্ত শীতকালে তারা সকালে ঘুম থেকে উঠে একবার রাতে লাগাবেন হাইড্রেশনের জন্য। দিনে যখন ত্বক টানবে তখন লাগাবেন। তবে শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে ঘন ঘন লাগাতে হবে। কম্বিনেশন স্কিন, অয়েলি স্কিন যখনই টানবে তখনই লাগাতে হবে। গোসলের পর পর যখন ত্বক ভেজা থাকছে, তখন বেষ্ট টাইম ময়েশ্চারাইজার লাগানোর। সূর্যের আলোর ক্ষতিকর উপাদান থেকে সানস্ক্রিন আমাদের ত্বককে রক্ষা করে। সূর্যের আলোয় আমাদের যত রকমের খারাপ প্রভাব আছে তার মধ্যে যেমন আছে—ডার্ক স্পট, কিংকেলস, ফাইন লাইন, খসখসে ত্বক এমনকি ত্বকের ক্যানসার হওয়ার শঙ্কা।
ইদানীং ওজোন লেয়ার কমে আসার কারণে সরাসরি সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি আমাদের পৃথিবীতে এসে পড়ে বলে আরও বেশি ক্ষতিকারক দিকটা চলে আসে। এসব জিনিস প্রতিরোধের জন্যই আমাদের সানস্ক্রিন ব্যবহার করা প্রয়োজন। আরও অনেক স্কিন সমস্যা বা স্কিন ডিজিজ আছে যা কিনা সূর্যের রশ্মি বা সান রে’তে বেড়ে যায়। ফলে সান রে থেকেও আমাদের রক্ষা করবে। বর্ষার দিন, রোদেলা দিন, বাসার বাইরে, গাড়িতে, ট্রেনে, বাসে সব জায়গায় চলাচলের ক্ষেত্রেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।
বয়স, ত্বকের ধরন ও রং অনুযায়ী সানস্ক্রিন নির্বাচন করতে হবে। স্কিন কালার ও বয়স ভেদে স্টোরগুলোতে সানস্ক্রিন পাওয়া যায়। বয়স ভেদে ত্বকের টেকশ্চার অনুযায়ী সানস্ক্রিন ভাগ করা আছে। কালো দাগের জন্য, অয়েলি স্কিনের জন্য, ড্রাই স্কিনের জন্য, অ্যান্টি এজিং হিসেবে। যাদের সানস্ক্রিনের কেমিক্যাল সহ্য হয় না, কারও কারও কেমিক্যালে অ্যালার্জি হয়, সে ক্ষেত্রে মিনারেল সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে।
এখন আমি অয়েলি ফেসের জন্য অয়েল ফ্রি-ফেসওয়াশের ঘরোয়া টিপস দিতে চাই। প্রতিদিন সম্ভব না হলে সপ্তাহে অন্তত তিন দিন মসুরের ডাল অথবা বেসন ব্লেন্ড করতে হবে। তার সঙ্গে একটু কাঁচা দুধ এবং গোলাপ জল দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করতে হবে। এই প্যাকটি তৈলাক্ত ভাব দূর করতে সাহায্য করবে এবং স্কিন কালার আরও উজ্জ্বল করবে।
বিদেশ বিভুঁইয়ে আমরা প্রত্যেকেই সপ্তাহে পাঁচ থেকে ছয় দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করি। ফলে আমাদের অনেকেরই ঘরে বসে নিজের ত্বকের যত্ন করা হয়ে উঠে না। সে জন্যই এখানে পাড়া মহল্লায় প্রতিটি ক্লকেই বিউটি সেলুন রয়েছে, যেখানে আপনারা সহজেই মাসে অন্তত একবার হলেও ত্বক বা চুলের পরিচর্যা করতে পারেন। খুব বেশি ব্যয়বহুল না, এমন বেশ কিছু ফেসিয়াল আইটেম রয়েছে—যা এই শীতে ত্বকের পরিচর্যায় খুবই উপকারী। যেমন হারবাল ফেসিয়াল (নন-কেমিক্যাল, ফ্রুটস ফেসিয়াল, ভেজিটেবল ফেসিয়াল ইত্যাদি) এবং মাসে অন্তত একবার হলেও সেলুনে গিয়ে হেয়ার ট্রিটমেন্ট করা কর্মজীবী নারীদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
শীত মৌসুমে হাত–পায়ের যত্নের কথা যদি বলি, তাহলে আমি বলব মাসে অন্তত একবার হলেও বিউটি সেলুনে গিয়ে ম্যানিবিউর, প্যাডিকিউর করুন। ত্বকের ধরন অনুযায়ী হাতে ও পায়ে লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। যাদের পায়ের গোড়ালি ফাটে তাদের অবশ্যই রাতে ঘুমানোর আগে কুসুম গরম পানি দিয়ে পা ধুয়ে পায়ের গোড়ালিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাসলিন মাখিয়ে মোজা পরে ঘুমাতে যেতে হবে।
আরেকটি বিষয় না বললেই নয়, বিভিন্ন শপে দিনে ও রাতে ব্যবহারের জন্য দুটি ভিন্ন ধরনের লিপ বাম কিনতে পাওয়া যায়, সেটিও চাইলে ব্যবহার করতে পারেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0