default-image

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রিপাবলিকানরা নরম। তাঁরা শুধু নিজেদের লোকজনকেই আক্রমণ করতে পারেন, অন্যদের নয়। সিনেটর মিচ ম্যাককনেল তাঁর প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার জন্য কিছু সময় দিতে পারতেন। এতে রিপাবলিকান দল লাভবান হতো।

যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল বেতার ভাষ্যকার রাশ লিম্বোর মৃত্যুর পর নিউজম্যাক্স টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে রক্ষণশীল টিভি ভাষ্যকার গ্রেগ কেলিকে এই সাক্ষাৎকার দেন ট্রাম্প।

অভিশংসনের পর নিজের জনপ্রিয়তা বেড়েছে বলে সাক্ষাৎকারে দাবি করেন তিনি। হাজারো সমর্থক ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোর আবাসনের কাছে সমাবেশ করছেন, তাঁর সমর্থনে পতাকা নিয়ে অবস্থান করেছে বলে দাবি করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘ফেক মিডিয়া’ এসব প্রচার করছে না।

গ্রেগ কেলির প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু বলেননি। ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নেরও উত্তর এড়িয়ে গেছেন তিনি।

রক্ষণশীল বেতার ভাষ্যকার রাশ লিম্বো ৭০ বছর বয়সে ১৭ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। নিজের চেয়ে অল্প বয়সের একজন বন্ধুর মৃত্যু স্মরণ করে ট্রাম্প নিজের মৃত্যুচিন্তা নিয়ে কী ভাবেন?—এমন প্রশ্ন করেন গ্রেগ কেলি। জবাবে ট্রাম্প বলেন, তাঁর অনেক বন্ধু ৮০, ৯০ বছরেও বেঁচে আছেন।

ট্রাম্প এখনো মনে করেন, নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি জয়ী হয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, নির্বাচনে অনেক খারাপ ও অসৎ বিষয় ঘটেছে। নির্বাচনে চুরি-জালিয়াতি বন্ধ করার কথা যাঁরা বলেছেন, তাঁরা এমনিতেই কথাটি বলেননি।

বিষয়টিকে খুবই দুঃখজনক হিসেবে বর্ণনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, একদম তৃতীয় বিশ্বের মতো ঘটনা ঘটেছে। এসবের অবসান ঘটাতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ট্রাম্প বলেন, সিনেটর মিচ ম্যাককনেল যদি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বা সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলের নেতা চার্লস শুমারকে আক্রমণ করার জন্য সময় ব্যয় করতেন, তাহলে রিপাবলিকান দলের মঙ্গল হতো। তা না করে নিজের দলের লোকজনকে মিচ ম্যাককনেল আক্রমণ করছেন। এটাকে রিপাবলিকান দলের দুর্বলতা বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, টুইটার একঘেয়ে হয়ে গেছে। কোনো উত্তেজনা নেই। লাখ লাখ মানুষ টুইটার ছেড়ে চলে যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

টুইটারে পীড়নের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করে ট্রাম্প তাঁর সাড়ে সাত কোটি ভোটারের ভাবধারা প্রকাশের জন্য নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম করার চিন্তা করছেন বলে জানান। আপাতত তিনি নীরব থাকাটাই পছন্দ করছেন বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, টুইটারে ফিরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছে তাঁর নেই।

৩ নভেম্বরের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করতে থাকেন, ভোটে জালিয়াতি হয়েছে। তাঁর এই অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আদালত গ্রহণ করেননি। তিনি কোনো প্রমাণও উপস্থাপন করতে পারেননি।

ভোটের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার জন্য ট্রাম্প নানা চেষ্টা করেছেন। নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আইনপ্রণেতাদের দিয়ে ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করেছেন। ভোটের ফলাফল নিয়ে শেষ সাংবিধানিক কাজ চলার সময় তাঁর উগ্র সমর্থকেরা ক্যাপিটল হিলে হামলা চালান।

কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশন চলাকালে গত ৬ জানুয়ারির এই হামলায় পাঁচজন নিহত হন। তার জেরে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব গ্রহণ করে। আমেরিকার ইতিহাসে কোনো প্রেসিডেন্ট প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় দফা অভিশংসিত হন।

পরে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ট্রাম্পের অভিশংসন বিচার হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি এই অভিশংসন আদালতে তিনি দণ্ডপ্রাপ্তি থেকে রেহাই পান। অধিকাংশ আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের দণ্ডের পক্ষে ভোট দেন। কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী দুই-তৃতীয়াংশ সিনেট সদস্যের সমর্থন না থাকায় দণ্ড থেকে অব্যাহতি পান ট্রাম্প।

অভিশংসন দণ্ড কার্যকর হলে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদে আবার প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারতেন। তাঁর সমর্থকদের কাছে তিনি এখনো জনপ্রিয়। ট্রাম্প আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হবেন বা রিপাবলিকান দলের রাজনীতি তাঁকে ঘিরে আরও কিছুদিন আবর্তিত হবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন