default-image

অনেক দিন পরে কর্মজীবনের এই অবসরক্ষণে কানাডার রাজধানী অটোয়ার বুক দিয়ে প্রবাহিত রিডো খালের তীরে সবুজ ঘাসে বসে আছি, এমন সময় হঠাৎ খালের জলের তির তির ঢেউয়ের মধ্যে আমার বাংলার একটি খালের জলের ঢেউয়ের মিল খুঁজে পেলাম না শুধু, হৃদয় বিদারক ঘটনাটিও রক্তপদ্ম ঝাঁড়ের মতো প্রস্ফুটিত হয়ে স্বজল চোখে ভেসে উঠল।

একাত্তরের বাতাসে বারুদের গন্ধমাখা আগুনঝরা দিনগুলোর কথা তখনকার সাড়ে সাত কোটি বাঙালির মধ্যে একজনেরও অজানা ছিল না। এমনই দুর্বিষহ হতাশাগ্রস্ত জীবন সব দেশের জাতীয় জীবনে খুব কমই আসে। বাঙালির ইতিহাসে স্বজনহারা রক্তাক্ত সে দিনগুলোর কথা কেউ ভোলেনি, কোনো দিন ভুলবেও না। সেদিন শামীম নামের যে ছোট্ট ছেলেটি (আমার বড় বোনের কনিষ্ঠ ছেলে) তার মায়ের কোলে একেবারে অবুঝ ছিল, বড় হয়ে সেও মায়ের মুখে সংকটময় দুঃসহ দিন-রাতের কথা শুনে শুনে একাত্তরের প্রেক্ষাপট থেকে রক্ষিত হয়ে আছে তার হৃদয়ের কোণে একটা অথবা অনেকটা স্বাধীনতার স্মৃতি। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমি ছিলাম চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। নয় বছরে আমি কেবল পা দিয়েছি, তবুও স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে অনেক ঘটনা আমার স্মৃতির আকাশে সমুজ্জ্বল শুকতারার মতো এখনো জ্বল জ্বল করে।

১৯৭১ সালে বাঙালি জাতির জীবনের রক্তক্ষয়ী সেই দিনগুলৌ যারা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেছেন, তাদের অনেকে এখনো জীবিত আছেন। কেউবা প্রয়োজনের তীব্র তাগিদে স্বদেশ ছেড়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রবাস জীবনকে বরণ করে স্থায়ী কিংবা অস্থায়ী নিবাস গড়ে তুলেছেন। আমরা যারা পরবাসে আছি, তারা কেউ কি মা-মাটি আর মানুষকে হৃদয় থেকে মুছে ফেলতে পারছি? না পারছি না। স্বদেশ ভুলে থাকাটা কোনো দিন সম্ভব হবেও না। স্বদেশ প্রেম, সে মাতৃপ্রেমের মতোই স্পর্শকাতর! ব্যক্তিগতভাবে দেশের প্রতি আমার প্রাণের টান, সে এক অসম্ভব ব্যঞ্জনাময়ী টান। পৃথিবীর কোথাও যেন আমার মাতৃমৃত্তিকার মতো প্রিয়, পবিত্র এক টুকেরা মাটি আর নেই। পৃথিবীর কোথাও এমন তৃষ্ণাকাতর রূপশ্রী প্রকৃতি আর নেই, যা আমার বাংলা প্রকৃতিকে হার মানিয়ে দেবে। শ্যামল শান্ত সুন্দর জননী জন্মভূমির প্রতি আমার প্রাণের এমন নিবিড় টান না হলে, দেশের জন্য আমি এত কাঁদতে পারি কী করে! কী করে এত জল ঝরে আমার দুচোখ ভরে! মাটির প্রতি নাড়ির প্রবল টান আছে বলেই দেশে খুব যাই, সুযোগ পেলেই যাই। প্রবাসীদের কাছে স্বদেশের মাটিতে যাওয়ার চেয়ে পরম তৃপ্তি আর কী হতে পারে!

বিজ্ঞাপন

প্রবাসের কর্মব্যস্তমুখর এই জীবনে সুযোগ পেলেই মাঝে মাঝে অবসর নিতে নির্জনে খুব একা বসি, আর স্মৃতির বাগানে বিশ্রাম বিলাসে সময় কাটাই। আজ কাজ থেকে ফেরার পথে অটোয়া শহরের বুক চিরে প্রবাহিত রিডো খালের তীরে পড়ন্ত বিকেলে সূর্যের মিষ্টি রোদে বসে স্বস্তির নিশ্বাস নিচ্ছিলাম। রিডো খালের তির তির জলের ওপর আমার দৃষ্টি নামতেই দেখলাম, কতকগুলো শাপলার ঝাড় এবং অনেকগুলো শুভ্র শাপলা ফুল দল মেলে ফ্যাল ফ্যাল করে যেন তাকিয়ে আছে আমার দিকে। ফুলগুলোর দিকে তাকিয়ে মনে পড়ে গেল, যেমন করে আমিও একদিন আজ থেকে ৪৯ বছর আগে স্বদেশে বিয়ানীবাজার থানার মাথিউরা ইউনিয়নের বুক চিরে প্রবাহিত লোয়াই খালের তির তির জলের ওপর ফুটন্ত শাপলার দিকে আর বন্দুকের নলের অন্ধ গহ্বরের দিকে বারবার অসহায়ের মতো চেয়ে চেয়ে মৃত্যুদূতের প্রতীক্ষা দেখছিলাম। ভয়ানক সেই দিনটির কথা স্মরণ হতেই আমার সারা গায়ের লোম কাঁটা দিয়ে উঠল, আমার চোখ ভরে জল ছল ছল করে নেমে এল। বেঁচে থাকাটা বড়ই অর্থময় মনে হলো। সেই দিনটি ছিল যুদ্ধের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়। চারি দিকে তখন পশ্চিমা হায়েনা আর স্বদেশি বেইমান রাজাকারদের প্রবল উত্পীড়নে বাংলার মাটি নরকে পরিণত করেছিল। সারা বাংলার মানুষ তখন আহার নিদ্রা ছেড়ে দিবা-রাত্রির প্রতিটি মুহূর্ত আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় পার করছিল।

দিন-তারিখ ঠিক মনে নেই। তবে সময়টা জুলাই মাসের শেষ আর শ্রাবণের শুরুর দিকে হবে। মনে আছে, চারদিকে বর্ষার থই থই জল। শঙ্কাময় জীবনের মধ্যেও মানুষ একে অন্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা, আবদার-আবেদন একেবারে ছেড়ে-ছুড়ে ফেলতে পারেনি। আমার বাবাও পারলেন না, সেজ আপার বাড়ি থেকে আবদার আসল—তাকে নাইওর আনার জন্য। কালবিলম্ব প্রাণে সইল না বলেই পরের দিনই আমার বাবা সেজ বোনকে নাইওর আনতে একটি গুমটি নাও (ছই নৌকা, মনু মিয়ার নাও) ভাড়া করে রওনা দিলেন। আমি তাঁর সঙ্গী হলাম। আমি আমার আট ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলাম বলেই এমনিতেই বাবা আমাকে একটু বেশি আদর-সোহাগ করতেন। তার ওপর আবার গেল বছর মা মারা গেলেন। তাই, কোনো আবদারেই বিফল হই না, আর ছোটকাল থেকেই আমি বাবার সঙ্গে কুটুম্ব বাড়িতে সব সময় যাই, যেতেই হয় আমার। নৌকার মাঝি, আমি ও আমার বাবা কুশিয়ারা নদীর বুক দিয়ে রওনা দিলাম, ভাটির স্রোতে নৌকা ভাসতে ভাসতে জোহরের নামাজের সময় পৌঁছে গেল আছিরগঞ্জের ঘাটে, বোনের বাড়িতে।

ধর্মের নামে নিরীহ-নিরক্ষর মানুষদের আর ঠকতে দেওয়া যায় না। সবুজাভ এই বাংলার মাটিতে আর রক্তের প্লাবন বইতে দেওয়া যায় না। মুক্তমনা লেখক ও প্রকাশকদের নির্মম-নিষ্ঠুরভাবে হত্যা চলতে দেওয়া যায় না।

মধ্যাহ্নভোজ শেষ করে আছরের একটু আগেই একই নৌকায় বোনকে (নাইওরিকে) নিয়ে বাড়ি (কসবা) অভিমুখে তিলপাড়ার হাওর দিয়ে রওনা দিলাম। হাওরের অনেক পথ পেরিয়ে আমার নানা বাড়ির পাশ ছুঁয়ে বয়ে চলা পুরুষপাল ও মাথিউরা গ্রামের বুকের ওপর দিয়ে প্রবাহিত লোয়াই খালের ভেতর ঢুকে পড়লাম। চারদিকে তখন আজানধ্বনি জলের ঢেউয়ের ওপর দিয়ে সুমধুর সুরে ভেসে আসছে। কিছু দূর আসার পর মাথিউরা গ্রামের ইদগাহ বাজারের সীমানায় আসতেই আমাদের মনের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার হলো। কেননা, আমরা জানতাম, এই অঞ্চলের আতঙ্ক ও ত্রাস সৃষ্টিকারী দুটি কুখ্যাত রাজাকার ও দালাল আছে। একজনের নাম জামিল রেদ্ওয়ান ওরফে বুরখা হাজি আর অন্যজন প্রভাবশালী রাজাকার জলই মিস্ত্রি। ওদের নাম শুনলে মানুষ তখন প্রাণের ভয়ে মুরগির ছানার মতো নিরাপদ আশ্রয় খুঁজত! ওদেরকে রাস্তা-ঘাটে দেখলে গরু ছাগলও যেন ঘৃণা আর ভয়ে পথ ছেড়ে দিত!

জামিল রেদ্ওয়ান ওরফে বুরখা হাজি অনেকের ঘর-বাড়ি পুড়িয়েছে। মরমি শিল্পী কমর উদ্দিনসহ অনেক মানুষকে পশ্চিমা জালিমদের হাতে তুলে দিয়ে তাঁদের নির্মম মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। আর জলই মিস্ত্রির মতো নিষ্ঠুর মানুষটি রাতের অন্ধকারে অনেকের মেয়ে, বোনকে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে। তখনকার সময় এই বন্দুকধারী রাজাকার জলই মিস্ত্রির ইচ্ছার ওপর মানুষের বাঁচা-মরা নির্ভর করত। সেই জলই মিস্ত্রির কন্ঠে ‘এই নাইয়া নৌকা থামাও, কিনারে ভিড়াও’—এমন আওয়াজ আমাদের কানে ভেসে আসতেই আমরা আতঙ্কে আঁৎকে উঠলাম! সে দিন নাওয়ের ভেতরে ছিলাম আমি, আমার বাবা, আমার সেজ বোন ফয়জুন, তাঁর আড়াই বছরের ছেলে ফয়জুর রহমান, দেড় বছরের মেয়ে রোশনা এবং নৌকার মাঝি।

কী করা যায়! জলই মিস্ত্রির কথাতো মানতে হবে। নইলে খালের তীর থেকে গুলি করে বসতে পারে। উপায়ান্তর না দেখে বাবা মাঝিকে তীরে নৌকা ভিড়াতে বললেন। মাঝি নাও ভিড়ালে দূর্বাসা চেহারার জলই মিস্ত্রি এবং তার চেলা-চামুণ্ডারা এগিয়ে আসল আমাদের নৌকার সামনে। সে তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের নির্দেশ দিল, ছইয়ের ভেতর থেকে আমাদের বের করে আনতে। তৎক্ষণাৎ আরেক রাজাকার কর্কশ কন্ঠে আদেশ করল, আমরা যেন ভেতর থেকে বের হয়ে আসি। এমন ভয়ার্ত নির্দেশ সেদিন না মেনে উপায় ছিল না, তাই আমরা কাঁপতে কাঁপতে নৌকা থেকে বের হলাম ঠিকই, কিন্তু পাষাণে এমন নির্দয় নির্দেশ শুনে ভয়ে আতঙ্কে আমার ভেতর তখন সাহারার মরুর পিপাসার্ত পথিকের বিশুষ্ক বুকের মতো শুকিয়ে গিয়েছিল। আমি তখন ভয়ে ভয়ে এক আঁজলা জল পান করার জন্য যখনই পায়ের কাছে খাল থেকে জল তুলেছি, তখনই আমার বাবার মুখের সামনে আঙুল উঁচিয়ে হুংকার দিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘এই মিঞা, নাওয়ের সামনে গুলোইয়ে পাকিস্তানি পতাকা নেই কেন? ওটা বুঝি ভালো লাগে না?’

বিজ্ঞাপন

এই কঠিন কর্কশ হুংকার শোনামাত্র আঁজলা ভরা জল পড়ে গিয়েছিল। আমার আর জল পান করা হয়নি। আমি তখন শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে বাবার হাত শক্ত করে ধরে আছি। এই জল্লাদের প্রশ্নের উত্তরে বাবা কী যে বলবেন, মনে হয়েছিল তিনি যেন কোনো ভাষাই খুঁজে পাচ্ছেন না। আবার যখন রাজাকার চিত্কার দিয়ে একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করল, আমার বাবা তখন বললেন, ‘দেখো, নাওয়ের গুলুইয়ে পাকিস্তানি হাজার পতাকা রাখলে বা না রাখলে মুক্তিযুদ্ধ বন্ধ হবে না, স্বাধীনতার পথও রুদ্ধ হবে না, বাংলাদেশ একদিন স্বাধীন হবেই হবে। সুতরাং এসব নিয়ে ঝামেলা বা বেয়াদবি করার কোনো মানে হয় না।’

বাবার মুখে এমন কথা শুনে আমি তখন অবাক, আতঙ্কিত হয়ে গিয়েছিলাম। মনে মনে ভাবছিলাম, এই হারামজাদা উত্তেজিত হয়ে যদি আমাদের সবাইকে হত্যা করে! তবে তো এই সুন্দর ধরণী, সোনালি সকাল, রঙিন বিকেল দেখব না। এই শাপলা, পাতা, ফুল, পাখি, সবুজ বনানী চোখের আর দেখা হবে না! দেখা হবে না স্বাধীন হলে এ দেশটা দেখতে কেমন হবে? সাড়ে সাত কোটি মানুষের প্রাণের উচ্ছ্বাস কেমন করে আন্দোলিত হবে? এসব ভাবতে ভাবতে আমি যেন বিলীন হয়ে যাচ্ছিলাম। আরও ভাবলাম, ব্যাটা রাজাকার যদি খবর পায়, আমার বাবা আওয়ামী লীগের প্রাণপণ কর্মী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং স্বাধীনতার ঘোর সমর্থক। তবে যে সঙ্গে সঙ্গে বাবাকে গুলি করে মেরে ফেলবে।

বাবার কথায় রাজাকার তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে হাতের বন্দুক আমাদের দিকে তাক করে লোয়াই খালের তীরে আমাদের লাইন ধরে দাঁড়াতে অশালীন ভাষায় গালাগালি করে নির্দেশ দিল। অর্থাৎ, সে আমাদের গুলি করে মেরে ফেলার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে জানোয়ারের মতো চিল্লাচিল্লি শুরু করল। তার এই চিত্কার শুনে আশপাশ থেকে লোকজন দ্রুত দৌড়ে এসে জড়ো হল। এতে তার পরিকল্পনা ব্যহত হল। কারণ সেখানে রাজাকার জলই ও তার সহযোগীদের মুরব্বিরাও এসে উপস্থিত হয়ে গেলেন। তাঁরা আমার বাবাকে দেখামাত্রই চিনতে পারলেন। কারণ, বাবা তখনকার সময় একজন স্পষ্টভাষী নিষ্ঠাবান মুরব্বি হিসেবে পাঁচ গ্রামে পঞ্চায়েতের বিচার করতে যেতেন। সেই সুবাদে তিনি অনেকের পরিচিত। সেদিন জলই মিস্ত্রির মতো কুলাঙ্গারের কাছেও দাড়িপাকা স্থানীয় মুরব্বিরা হাতজোড় করে আমাদের ছেড়ে দিতে অনুরোধ জানাতে হয়েছিল। পাষাণ রাজাকার কী মনে করে সেদিন তার পাড়া-প্রতিবেশীদের অনুরোধ রক্ষা করল। আমরাও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে জড়সড় হয়ে কাঁপতে কাঁপতে আবার নৌকায় উঠে বাড়ি অভিমুখে রওনা দিলাম। বুকের ভেতর অসম্ভব এক অশান্তি আর ক্রোধ নিয়ে লোয়াই খালের বাকি পথটুকু অতিক্রম করে রাতে বাড়ি ফিরে এসেছিলাম। বাড়ি এসে দেখি, বাড়ির সবাই আমাদের বিলম্ব দেখে উৎকণ্ঠিত, কেউ কেউ আবার একটা কিছু ঘটে গেছে ভেবে কান্নাকাটি করছেন। কারণ, একাত্তরের যুদ্ধ চলাকালে যেখানে-সেখানে রাজাকার এবং পাকিস্তানি হায়েনারা যাকে ইচ্ছা তাকে গুলি করে মেরে ফেলতো।

সে দিন আমরা প্রাণে বেঁচে বাড়ি ফিরে এসেছিলাম ঠিকই, কিন্তু পেছনে রেখে এসেছিলাম এক ভয়ানক নির্মম স্মৃতি। আর রেখে এসেছিলাম সেই এলাকার শুভাকাঙ্ক্ষী মুরব্বিদের অপরিশোধিত চির ঋণ; যা আজ কেন—কোনো দিনই আমরা শোধ করতে পারব না।

স্বদেশি দালাল, আলবদর, রাজাকার, আলশামস এবং পাকিস্তানি নরপশুদের কোনো দিনই আমরা ক্ষমা করব না; ক্ষমা করতে পারব না। সরকারের কাছে আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা ও প্রাণের দাবি, দেশদ্রোহী আলবদর, রাজাকারদের আর যেন পুনরুত্থান না হয়। ধর্মের নামে অরাজকতা সৃষ্টিকারী এবং ওদের উত্তরসূরিদের যেন সমূলে নির্মূল করা হয়। আমরা চাই না, ধর্মের নামে আর ভণ্ডামি অব্যাহত থাকুক, আর মায়ের বুক খালি হোক। আমাদের মনে রাখতে হবে, পৃথিবীর কোনো ধর্মই ধর্ষণ, ডাকাতি, লুটপাট, জ্বালাও, পোড়াও করার কথা বলেনি, অরাজকতা সৃষ্টির কথা বলেনি। ইসলাম শান্তির ধর্ম। সুতরাং ধর্মের নামে নিরীহ-নিরক্ষর মানুষদের আর ঠকতে দেওয়া যায় না। সবুজাভ এই বাংলার মাটিতে আর রক্তের প্লাবন বইতে দেওয়া যায় না। মুক্তমনা লেখক ও প্রকাশকদের নির্মম-নিষ্ঠুরভাবে হত্যা চলতে দেওয়া যায় না। দেশের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, আরেকটি যুদ্ধের ভেতর দিয়েই হারিয়ে যাওয়া আমাদের স্বদেশকে ফিরিয়ে আনতে হবে।

ইমেইল: [email protected]

উত্তর আমেরিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন