default-image

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তিনটি অঙ্গরাজ্যে ঘণ্টায় তিন ইঞ্চি করে তুষারপাত হচ্ছে। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও কানেটিকাট অঙ্গরাজ্যের কোথাও কোথাও দুই ফুট বরফের স্তূপ জমে গেছে। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সময় গত রোববার বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই তুষারপাত আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত চলতে পারে বলে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে।

তিনটি অঙ্গরাজ্যেই আবহাওয়াজনিত জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে। লোকজন কার্যত ঘরবন্দী হয়ে আছেন।

ঘণ্টায় ঘণ্টায় বরফের স্তূপ উঁচু হচ্ছে। সড়কে লোকজন নেই, নেই যানবাহন। তবে জরুরি বিভাগ ও বরফ পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত গাড়ি চলতে দেখা যাচ্ছে।

তুষারপাতের সঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ মাইল বেগে দমকা হাওয়া বইছে। তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে। আগামী সপ্তাহ নাগাদ তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও তা হিমাঙ্কের কাছাকাছি থাকবে বলে আবহাওয়া বার্তায় বলা হচ্ছে।

নিউইয়র্কের ট্যাক্সি ও লিমোজিন কমিশনের এক বার্তায় মঙ্গলবার পর্যন্ত জনপরিবহন বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশি ক্যাবচালক মোহাম্মদ রহমান প্রথম আলোকে বলেন, লকডাউন ও করোনার কারণে এমনিতেই কাজকর্ম নেই; তার ওপর বিরূপ আবহাওয়া তাঁর মতো পেশাজীবীদের অবস্থা নাজুক করে তুলেছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

নিউজার্সির অভিবাসন অফিসে গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় উপস্থিত হওয়ার সময় নির্ধারণ ছিল প্রবাসী সিরিল হাসানের। সকাল থেকে অভিবাসন অফিসে ফোন করে কোনো উত্তর না পেয়ে তিনি অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে ২০ মাইল দূরত্বের পথ পাড়ি দেন। ১০০ ডলার উবার ভাড়া দিয়ে সেখানে গিয়ে দেখেন, অফিসে তালা ঝুলছে। অভিবাসন নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা এই প্রবাসীকে এখন অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তী সময়সূচির জন্য।

বাড়ির পাশে পার্ক করা গাড়ি বরফের নিচে চাপা পড়েছে। বুধবারের কর্মদিবসের আগেই বরফের স্তূপ থেকে গাড়ি বের করতে হবে। বাড়িসংলগ্ন এলাকার বরফও নিজেদের পরিষ্কার করতে হবে।

বাড়ির সামনে স্তূপ হয়ে যাওয়া শক্ত বরফ পরিষ্কার করা নিয়ে উৎকণ্ঠার কথা জানালেন নিউইয়র্কে বসবাসরত লেখিকা রাণু ফেরদৌস।

বরফ গলে গিয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে সমুদ্রতীরবর্তী এলাকার লোকজনকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

তিন অঙ্গরাজ্যের অনেক এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগে ফোন করা হলে সেখান থেকে জানানো হচ্ছে, অপেক্ষার পালা দীর্ঘ হবে।

অধিকাংশ লোকজনই সপ্তাহের খাবার মজুত রেখেছেন। দোকানপাট সব বন্ধ।

তিন অঙ্গরাজ্যে জরুরি কাজে বাইরে বেরিয়ে কেউ কেউ দুর্ঘটনায় পড়ছেন। ফলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দুর্ঘটনায় আহত লোকজন দেখা যাচ্ছে।

টিকাদান কেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। তালিকাভুক্ত লোকজনকে নতুন সময়সূচি পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

তিন অঙ্গরাজ্যের সব বিমানবন্দর তুষারপাতের কারণে গতকাল বন্ধ রাখা হয়। এ কারণে হাজারো যাত্রী বিমানবন্দরগুলোয় আটকা পড়েন। যাঁদের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, তাঁদের এয়ারলাইনসে যোগাযোগ করা জন্য বলা হচ্ছে।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো বলছেন, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

নাগরিকদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়ে গভর্নর বলেছেন, তুষারপাত থামলে দ্রুততার সঙ্গে যান চলাচল স্বাভাবিক করার সব প্রস্তুতি রয়েছে।

যেকোনো বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে জরুরি বিভাগে ফোন দেওয়ার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন