বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ঘর বাড়ির মূল্য এক বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে ২০ শতাংশ। ঘরের বাইরে হোটেল, রেস্তোরাঁ, বার এবং ফাস্ট ফুডের মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে এক বছরে ৪ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের জীবনধারার অপরিহার্য অংশ গাড়ি। নতুন ও পুরোনো গাড়ির মূল্য এখন আকাশচুম্বী। মহামারির কারণে গাড়ি তৈরির কারখানা বন্ধ থাকায় চাহিদার চেয়ে এখন সরবরাহ কম। এক বছর আগেও গাড়ি কেনার জন্য ডিলার শিপে গেলে টানাটানি শুরু হতো। এখন ক্রেতাকে হন্য হয়ে ঘুরতে হচ্ছে গাড়ি কেনার জন্য।

জেডি পাওয়ার নামক একটি সংস্থার মতে, গাড়ি বিক্রি হচ্ছে কারখানা কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যের বেশি মূল্যে। ঝোলানো তালিকা থেকে কম মূল্য দিয়ে কেনার এখন সময় নেই। ক্ষেত্র বিশেষে পাঁচ শতাংশ বেশি মূল্য দিয়ে নতুন গাড়ি কিনতে হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি চাহিদা পুরোনো গাড়ির। কেনার জন্য এমন পুরোনো গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। এক বছর আগে কেনা পুরোনো গাড়ি বেশি দামে বিক্রি করা যাচ্ছে।

অ্যাডমান্ডস ডট কম নামের গাড়ি ক্রয়-বিক্রয় সংস্থার মতে, এক বছর আগে কেনা গাড়ি এখন ১০ শতাংশ বেশি মূল্য দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। গাড়ির বাজারে কবে স্থিরতা আসবে, তাও অনুমান করা যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে আসার জন্য এখনো বছরের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে। একবার মূল্য বৃদ্ধি ঘটে গেলে অনেক কিছুই আর আগের মূল্যে ফিরে আসে না বলেও শঙ্কা বিরাজ করছে।

মার্কিন জীবনধারায় ভ্রমণ স্বাভাবিক জীবনের অংশ। সপ্তাহান্তে দূরের কোনো রাজ্যের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ার চিত্র নিত্যনৈমিত্তিক। গ্রীষ্মকালে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় এবং আবহাওয়া অনুকূল থাকায় বছরের সবচেয়ে বেশি যাতায়াত ঘটে এ সময়ে। যাতায়াত এখন মহামারির আগের সময়ের চেয়ে ব্যয় বহুল হয়ে উঠেছে। রেন্টাল কার বা ভাড়া করার জন্য গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। রেন্ট এ কারের মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে ১৫০ শতাংশ।

ভ্রমণ বিষয়ক শীর্ষ সংস্থা ‘ট্রিপল এ’ জানিয়েছে, এখানেও চাহিদার চেয়ে সরবরাহের অপ্রতুলতা থাকার কারণে চরম মূল্য বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে। বেড়ে গেছে জ্বালানি তেলের মূল্য। পেট্রল, ডিজেলের মূল্য ২০১৯ সালের তুলনায় এখন ৪০ শতাংশ বেড়ে গেছে।

হোটেল বা মোটেলগুলো ২০১৯ সালের বেশির ভাগ সময় এবং ২০২০ সালের পুরো সময় খালি ছিল। জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হোটেল-মোটেলে আবাসনের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, গত সপ্তাহে হোটেল-মোটেলের কক্ষ প্রতি মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে আগের সপ্তাহের চেয়ে গড়ে ৩৫ শতাংশ।

উৎসব বিনোদনের মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে অনেক বেশি। বিনোদন এবং উৎসব প্রধান মার্কিন জীবনধারা স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পিছিয়ে যাওয়া বিয়ের অনুষ্ঠানসহ, পারিবারিক সামাজিক অনুষ্ঠান নিয়ে জনসমাজের মধ্যে তাড়না সৃষ্টি হয়েছে। লোকজন হামলে পড়েছে এমন উৎসব অনুষ্ঠানের নানা আয়োজনে। এক বছর অপেক্ষা করেও অনুষ্ঠানের জন্য হল ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মীও পাওয়া যাচ্ছে না।

বাল্টিমোরভিত্তিক ‘ইনোভেটিভ পার্টি প্ল্যানিং’ নামক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হেইডি হাইলার বলেছেন, প্রত্যাশা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী এখন উৎসব আয়োজন করা যাচ্ছে না। সবকিছুর মূল্য বৃদ্ধির ফলে উৎসব আয়োজনে বাজেট বৃদ্ধি করতে হচ্ছে প্রতিটি পরিবারকে। তিনি বলেন, এমন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে মহামারি পরবর্তী স্বাভাবিকতায় ফিরে আসার সময়টিকে নাজুক করে তুলেছে।

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, কর্মী সংকট ও ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির ফলে সব ধরনের খাদ্য সামগ্রীর মূল্য বাড়ছে। সরকারি সহযোগিতা, বেকার ভাতাসহ মহামারি সময়ের নাগরিক সুবিধাগুলো সংকুচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকদের ওপর চাপ বেড়েছে।

সর্বত্র মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের স্বল্প আয় এবং মধ্যম আয়ের লোকজনের জীবনযাত্রাকে ক্রমশ কঠিন করে তুলেছে। এ কঠিন সময়কে মোকাবিলার জন্য অনেকেই বাড়তি সময় কাজ করে পোষানোর উদ্যোগ গ্রহণ করছে। অনুষ্ঠান আয়োজনে লোকজন এবং প্রয়োজনের বাইরে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন