বিজ্ঞাপন

মঙ্গলে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সফলভাবে অবতরণ করে নাসার রোভার পারসিভারেন্স। এরপরে পুরো গ্রীষ্মে অবতরণের স্থান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণে সরে যায় বলে প্রকল্পের বিজ্ঞানী কেন ফারলি জানিয়েছেন। এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘কোটি কোটি বছর আগে মঙ্গল গ্রহের পরিবেশ কেমন ছিল, সে সম্পর্কে আমরা এখন জানতে চাই।’ নাসার গবেষক দলের ধারণা, মঙ্গল গ্রহের এই জায়গায় একটি লেক ছিল এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি ভরাট হয়ে গেছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশও তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

এসব নমুনা বিশ্লেষণ করলে শিলাগুলোর রাসায়নিক ও খনিজ উপাদান এবং সেগুলোর সাংগঠনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। এগুলো আগ্নেয়গিরির ফলে সৃষ্টি হয়েছিল নাকি পলি জমে তৈরি হয়েছে, তা বেরিয়ে আসবে। এ ছাড়া অঞ্চলের ভৌগোলিক ধারণা পেতে বিজ্ঞানীরা যেসব ঘাটতির মুখোমুখি হচ্ছেন, তা পূরণে ওই এলাকায় প্রাচীন অণুজীবের উপস্থিতির কোনো চিহ্ন আছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে রোভার পারসিভারেন্স।

নমুনা সংগ্রহ করার জন্য পারসিভারেন্স প্রথমে মঙ্গলের পৃষ্ঠে তার ৭ ফুট (দুই মিটার) দীর্ঘ রোবটিক বাহু স্থাপন করবে। এরপর রোভারটি শিলাগুলোর ওপরের স্তর কেটে মঙ্গলপৃষ্ঠে প্রবেশ করানো যায় এমন সরঞ্জাম ব্যবহার করবে। এরপর পারসিভারেন্সের সরঞ্জামের মাধ্যমে মঙ্গলের পৃষ্ঠের ওই জায়গার রাসায়নিক ও খনিজ উপাদান বিশ্লেষণ করা হবে। এর মধ্যে একটি যন্ত্রের নাম সুপারক্যাম। সেটি শিলার ওপর লেজার ফেলে সেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করবে।

২০৩০ সালের মধ্যে নমুনা সংগ্রহ করে বিশ্লেষণের জন্য পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির সঙ্গে যৌথ মিশনের পরিকল্পনা করছে নাসা। এসব নমুনা ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিজ্ঞানীরা বলতে পারবেন, আদৌ সেখানে কোনো প্রাণের লক্ষণ ছিল কি না।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন