যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন–২০২০

ভোটে সংঘাতের উসকানি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রে তিন সন্তানের সামনে কৃষ্ণাঙ্গ জ্যাকব ব্লেককে পেছন থেকে সাতবার গুলি করে পুলিশ। এর প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ভবনে টাঙানো দেশের পতাকা আগুনে পুড়ছে। সোমবার উইসকনসিনের কেনোশায়
যুক্তরাষ্ট্রে তিন সন্তানের সামনে কৃষ্ণাঙ্গ জ্যাকব ব্লেককে পেছন থেকে সাতবার গুলি করে পুলিশ। এর প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ভবনে টাঙানো দেশের পতাকা আগুনে পুড়ছে। সোমবার উইসকনসিনের কেনোশায় এএফপি
বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাস মহামারিতে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র। অর্থনীতির অবস্থাও খুবই নাজুক। কোটি কোটি মানুষ বেকার। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এবারের মতো এতে ‘রাজনৈতিক বিভেদ’ নিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হতে দেখা যায়নি। রক্ষণশীল বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাট জো বাইডেনের মধ্যে ভোটের লড়াই শুরু হলেও এই লড়াইয়ের ডালপালা আরও অনেক দিকে ছড়িয়েছে। ভোটের আগেই ট্রাম্প অভিযোগ করে আসছেন, ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনে চুরি করতে চান। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া রিপাবলিকান পার্টির সম্মেলনে সেই অভিযোগ আরও বড় করে তুলে ধরলেন তিনি। ভোট চুরি ঠেকাতে দলের কর্মী–সমর্থকদের সজাগ থাকারও নির্দেশ দেন তিনি।

প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের থেকে জনসমর্থনে অনেক পিছিয়ে রয়েছেন ট্রাম্প। নির্বাচনে হারতে যাচ্ছেন, এমন আঁচ পেয়েই ট্রাম্প নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। ট্রাম্পের এ ধরনের বক্তব্য ভোটে একধরনের উসকানিও বটে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, নর্থ ক্যারোলাইনার চার্লটে রিপাবলিকানদের চার দিনের জাতীয় সম্মেলন শুরু হয় সোমবার। এদিনই দলের প্রতিনিধিরা ট্রাম্পকে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে লড়াইয়ে চূড়ান্ত অনুমতি দেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথা অনুযায়ী, সম্মেলনের শেষের দিন প্রার্থিতা গ্রহণ করেন এবং বক্তৃতা দেন প্রার্থীরা। কিন্তু ব্যতিক্রমী ট্রাম্প প্রার্থিতা নিশ্চিতের পরপরই হাজির হন চার্লটে সম্মেলনকেন্দ্রে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে সীমিত পরিসরে খুবই কম লোকের উপস্থিতিতে ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনের বেশির ভাগ কার্যক্রম হচ্ছে অনলাইনে।

সম্মেলনের প্রথম দিনে এক ঘণ্টার বক্তৃতায় দলীয় প্রতিনিধিদের ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ডেমোক্র্যাট) নির্বাচনে চুরির চেষ্টা করছে। একমাত্র জালিয়াতির নির্বাচনের মাধ্যমেই আমাদের নির্বাচনে হারানো যাবে। এ ছাড়া কোনোভাবেই নির্বাচনে হারানো যাবে না।’ ডাকে ভোট গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানোর মাধ্যমে এই জালিয়াতির চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর বিরুদ্ধে সব রিপাবলিকানকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান ট্রাম্প।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

বিরোধীরা বলছেন, ডাকে ভোট গ্রহণে জালিয়াতির সুযোগ খুবই কম। করোনার মধ্যে নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি যাতে কম হয়, সে কারণে ডাকে ভোটগ্রহণ নিয়ে ট্রাম্পের বিরোধিতা। ডাকে ভোট গ্রহণের পরিমাণ বাড়ালে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বাড়বে। এতে সুবিধা হবে বাইডেনের।

রিপাবলিকান পার্টির এবারের সম্মেলন অনেকটাই ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। সম্মেলনে দ্বিতীয় দিন গতকাল মঙ্গলবার বক্তৃতা দেওয়ার কথা ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছেলে এরিখ ট্রাম্প ও মেয়ে টিফ্যানি ট্রাম্পের। পরদিন উপস্থিত থাকছেন অপর মেয়ে ও ট্রাম্পের উপদেষ্টা ইভাঙ্কা ট্রাম্প। জনপ্রিয়তা বাড়াতে রিপাবলিকান নেতাদের চেয়ে পরিবারকে ব্যবহারের চেষ্টা করছেন ট্রাম্প, এমনটাই মনে হচ্ছে।

গতকাল ট্রাম্পের পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও সম্মেলনে বক্তৃতা দেওয়ার কথা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও, সিনেটর র‍্যান্ড পল, আইওয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর কিম রেনল্ডস, ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডসহ দলের ট্রাম্পঘনিষ্ঠ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নেতার। দলের মনোনয়ন গ্রহণ করে ট্রাম্প মূল বক্তৃতা দেবেন আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাতে। তবে সম্মেলনের প্রতিদিনই নিজে উপস্থিত থাকবেন বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ট্রাম্পের ভাবমূর্তি গড়ার চেষ্টা

প্রথম আলোর নিউইয়র্ক প্রতিনিধি জানান, সম্মেলনের প্রথম দিনে ট্রাম্পকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরার নানা প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। বিভিন্ন পেশার মানুষকে এনে বক্তৃতা করানো হয়েছে। ট্রাম্প একজন সহানুভূতিশীল নেতা, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য তাঁর মতো নেতাই এখন প্রয়োজন, ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্র তার মূল ভাবধারা থেকে সরে যাবে, দেশে বাম নৈরাজ্যবাদ সৃষ্টি হবে ইত্যাদি আশঙ্কার কথা তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। ট্রাম্প দুই দফা উপস্থিত ছিলেন এ সম্মেলনে। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সামনের সারির স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে একবার উপস্থিত হন তিনি। আর তাঁর শাসনামলে বিদেশে জিম্মি অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া লোকজনকে নিয়ে আরেকবার হাজির হন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সম্মেলনের প্রথম দিন জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি নিকি হ্যালির নেতৃত্বে একদল নারী বক্তার প্রাধান্য ছিল। কৃষ্ণাঙ্গ সিনেটর টিম স্কটের নেতৃত্বে আরেক দল কৃষ্ণাঙ্গ বক্তাদেরও নিয়ে আসা হয়। সিনেটর টিম স্কট ট্রাম্পকে কৃষ্ণাঙ্গদের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, জো বাইডেন মনে করেন কৃষ্ণাঙ্গ ভোটের ওপর তাঁদের একচ্ছত্র অধিকার। এমন মনে করার কোনো সংগত কারণ নেই।

জনমত জরিপে জাতীয়ভাবে নারী ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প জো বাইডেনের চেয়ে পিছিয়ে আছেন। কৃষ্ণাঙ্গ ও নারী বক্তাদের মাধ্যমে ট্রাম্প শিবির থেকে এদিকটাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন