জ্যাকব ব্ল্যাক গুলিবিদ্ধ

বিক্ষোভে উত্তাল উইসকনসিন, নিহত ২

জ্যাকব ব্ল্যাককে গুলি করে হত্যার চেষ্টার  প্রতিবাদে উইসকনসিনের কেনোশা কাউন্টিতে বিক্ষোভ এখনো চলছে
জ্যাকব ব্ল্যাককে গুলি করে হত্যার চেষ্টার প্রতিবাদে উইসকনসিনের কেনোশা কাউন্টিতে বিক্ষোভ এখনো চলছে রয়টার্স
বিজ্ঞাপন

জ্যাকব ব্ল্যাক নামের এক কৃষ্ণাঙ্গকে গুলি করে হত্যার চেষ্টার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্য। গত রোববার রাতে জ্যাকবকে পুলিশ গুলি করে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিক্ষোভ শুরু হয় উইসকনসিনে। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে একের পর এক সংঘর্ষ হয়। এরই মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার রাতে দুজন বিক্ষোভকারী নিহত হন। তবে তারা পুলিশের হাতে নাকি নিজেদের মধ্যে হওয়া কোনো সংঘর্ষে মারা গেছে কিনা তা নিশ্চিত নয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল রাত স্থানীয় সময় ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে একাধিক গুলির আওয়াজ পাওয়া যায়। পরে দুজন ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এ ছাড়া আরেক ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। আহত ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

উইসকনসিনের কেনোশা কাউন্টিতে গত রোববার রাতে জ্যাকব ব্ল্যাক নামের ২৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গাড়িতে ওঠার সময় দুই পুলিশ কর্মকর্তা তাঁকে গুলি করেন। পরে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। গুলির সময় জ্যাকবের সন্তান গাড়ির ভেতরেই ছিল। জ্যাকবকে গুলি করার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণও পুলিশ জানাতে পারেনি। এ অবস্থায় ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে উইসকনসিন।

টানা তিন দিন ধরে চলা বিক্ষোভ বেশ কয়েকবারই সহিংস হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার রাতে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে দুজন নিহত হয়। তবে ঠিক কার বা কাদের গুলিতে তারা মারা গেছে, তা নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে কেনোশা কাউন্টির শেরিফ ডেভিড বেথ নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে হওয়া কোনো সংঘর্ষে নাকি অন্য কোনোভাবে এ ঘটনা ঘটেছে তা তাঁর কার্যালয় তদন্ত করে দেখছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

মঙ্গলবার রাতে হওয়া সহিংসতার সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, ওই সময় সাধারণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একজন বন্দুকধারীর ধস্তাধস্তি হয়। বন্দুকধারী ব্যক্তিটিকে এক সময় অনেকে মিলে ধরাশায়ী করে। তবে তার আগেই তাকে ধরতে এগিয়ে আসা লোকেদের লক্ষ্য করে তাকে গুলি চালাতে দেখা যায়।

উইসকনসিনে চলমান বিক্ষোভে এটিই প্রথম গুলির ঘটনা। এর আগে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছুড়তে দেখা গেছে। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অবশ্য শুরু থেকেই বেশ কঠোর ভূমিকায় রয়েছে। মঙ্গলবারের ঘটনার পর সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, জর্জ ফ্লয়েড হত্যার পর শুরু হওয়া বিক্ষোভের প্রধান দাবি ছিল পুলিশ সংস্কার। অপরাধী ধরার নামে নির্যাতন বন্ধ করা এবং পুলিশের আচরণকে জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসা। সে সময় তড়িঘড়ি কিছু সংস্কার করা হলেও অবস্থার যে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি, তা গত ২২ আগস্ট লুইজিয়ানায় পুলিশের হাতে ট্রেফোর্ড পেলেরিন নামের এক কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যুর মধ্য দিয়েই প্রমাণিত। পেলেরিনের মৃত্যু ফ্লয়েড হত্যা ও বিক্ষোভের ফলাফল নিয়ে এক বড় প্রশ্ন তুলে দিয়ে যায়। সেই প্রশ্নের রেশ মিলাতে না মিলাতেই পুলিশের গুলিতে বিদ্ধ হলেন জ্যাকব ব্ল্যাক। আর এর মধ্য দিয়ে কাঠামোগত বর্ণবাদের অভিযোগটি আরও জোরালো হলো।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন