default-image

বাংলাদেশের রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাওয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ ৬০ লাখ ডলার রেখে গেছেন।

উন্নয়নশীল দেশের ‘এলন মাস্ক’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন ৩৩ বছর বয়সী ফাহিম। গত বছরের জুলাইয়ে নিউইয়র্কের হাউস্টন স্ট্রিটের অ্যাপার্টমেন্টে খুন হন তিনি। ফাহিমের হত্যাকারী হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী টাইরেস ডেভোঁ হ্যাসপিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এখন তাঁর বিচার চলছে।

খুন হওয়ার আগে ফাহিম কোনো আইনগত উত্তরাধিকারপত্র (উইল) রেখে যাননি। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন আইন রয়েছে।

নিউইয়র্কের ম্যানহাটন সারোগেট আদালতে ফাহিমের বোন রিফায়েত সালেহ তাঁর ভাইয়ের সম্পত্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে আবেদন জানিয়েছেন। এই আবেদনের সূত্র ধরেই জানা যায়, ফাহিম ৬০ লাখ ডলার রেখে গেছেন।

ফাহিম অবিবাহিত ছিলেন। ম্যানহাটনের অ্যাপার্টমেন্টের জন্য ফাহিমের ১৮ লাখ ডলারের ঋণের তথ্য রয়েছে আদালতে করা তাঁর আবেদনে।

বিজ্ঞাপন

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য আইন অনুযায়ী, ফাহিম অবিবাহিত হওয়ায় এবং কোনো উইল না থাকায় তাঁর সমুদয় অর্থের আইনগত উত্তরাধিকার হবে তাঁর মা রায়হানা সালেহ ও বাবা সালেহ উদ্দিন আহমেদ।

পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে ফাহিমের রেখে যাওয়া অর্থের জন্য দ্রুততার সঙ্গে প্রশাসক নিয়োগের আবেদন জানানো হয়েছে। ফাহিমের ব্যবসার কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার জন্য এটা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতে করা আবেদনে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সাফল্যের আগেই ফাহিমকে নিষ্ঠুরতার সঙ্গে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাবা, মা ও বোনেরা ফাহিমের ব্যবসা ও তাঁর স্বপ্ন জিইয়ে রাখতে ইচ্ছুক।

বিচারক ফাহিমের অর্থ থেকে ৪০ লাখ ডলার উত্তোলনের জন্য আবেদনকারীকে অনুমোদন দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে নিউইয়র্ক পোস্টসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে পরিবার এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি।

default-image

গত বছরের ১৪ জুলাই বিকেলে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের নিজ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ফাহিমের খণ্ড খণ্ড লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শুরুতে এই হত্যাকাণ্ডকে চরম পেশাদার কোনো খুনির কাজ বলে ধারণা করা হয়েছিল। ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফাহিমের ঘাতককে গ্রেপ্তার করে নিউইয়র্ক পুলিশ। গ্রেপ্তার ২১ বছর বয়সী হ্যাসপিল ছিলেন ফাহিমের সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী।

ফাহিম হত্যায় গ্রেপ্তার হ্যাসপিলকে জামিন দেওয়া হয়নি। নিউইয়র্কের নির্জন কারাগারে তাঁকে রাখা হয়েছে। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন।

গত বছরের ১৮ জুলাই হ্যাসপিলের আইনজীবী স্যাম রবার্টস এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘আমরা সত্য ঘটনার খুবই প্রারম্ভিক অবস্থায় রয়েছি। এই মামলা দীর্ঘ ও জটিল হবে।’

এই মামলা একজনের গ্রেপ্তার ও অভিযোগের চেয়ে আরও বিস্তৃত বলে হ্যাসপিলের আইনজীবী তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাস, লকডাউনসহ নানা কারণে নিউইয়র্কের আদালতগুলোর কার্যক্রম এখনো স্বাভাবিক হয়নি। ফাহিম সালেহ হত্যায় জড়িত হ্যাসপিল সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো নতুন তথ্য আর জানায়নি পুলিশ।

প্রসিকিউশন এই হত্যাকাণ্ডের ‘উদ্দেশ্য’ সম্পর্কে অর্থের লেনদেন ও ব্যক্তিগত বিরোধের কথা জানিয়েছিল।

ফাহিমের কাছ থেকে ধার নেওয়া ৯০ হাজার ডলার ফেরত না দেওয়ার জন্য হ্যাসপিল হত্যাকাণ্ডে প্ররোচিত হয়েছিলেন বলে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তের পর জানিয়েছিল।

শুরুতে হ্যাসপিলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার (সেকেন্ড ডিগ্রি) হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের জন্য হ্যাসপিলের দায়ের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম মাত্রা (ফার্স্ট ডিগ্রি) অভিযোগ আনা হয়।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন