আর মাত্র তিনটি দিন বাদেই সারা বিশ্বব্যাপী উদ্‌যাপিত হতে যাচ্ছে ইংরেজি নববর্ষ। বিগত ৩৬৫ দিনের সব ভালো লাগা, মন্দ লাগার বর্ণিল দিনগুলোর স্মৃতিকে পেছনে ফেলে সূচনা হবে একটি নতুন প্রভাতের। নতুন বছরের।

‘হেথা হতে যাও পুরোনো।

হেথায় নূতন খেলা আরম্ভ হয়েছে।
আবার বাজিছে বাঁশি, আবার উঠিছে হাসি,
বসন্তের বাতাস বয়েছে।’
কবিগুরুর মতোই আমরা সবাই নতুনের পূজারি। ‘পুরোনো’ সব সময় স্মৃতি জাগানিয়া হলেও রহস্যময় ‘নতুন’ হলো আগ্রহ জাগানিয়া। আগ্রহ জাগানিয়া নববর্ষ ২০১৯ এখন আমাদের দরজায় দাঁড়িয়ে কড়া নাড়ছে। আমরা কেউ জানি না, তার ঝুলিতে সে কী নিয়ে এসেছে বিশ্ববাসীর জন্য। তবুও তার অভিষেক আর আপ্যায়নের জন্য বিশ্বজুড়েই চলছে নানা আয়োজন। নানা দেশে নানাভাবে এই বর্ষবরণ পালিত হলেও অনেকেরই হয়তো অজানা ‘নিউ ইয়ার’ তথা ইংরেজি নববর্ষের ইতিহাস। কবে, কীভাবে প্রচলন হলো ইংরেজি মাসগুলোর? চলুন, পেছনে ফিরে জেনে নেওয়া যাক নিউ ইয়ারের খুঁটিনাটি।
১ জানুয়ারি ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন। পৃথিবীর প্রায় সব দেশে সব ভাষার মানুষই এখন সময় গণনায় মোটামুটি খ্রিষ্ট নববর্ষের ওপর নির্ভরশীল। ইংরেজি নববর্ষ হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক একটি উৎসব। এই বর্ষবরণ উৎসবটি কিন্তু বিশ্বব্যাপী পালিত উৎসবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন। খ্রিষ্টপূর্ব ২০০০ অব্দে সে সময়কার ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস নদীর তীরে গড়ে ওঠা মেসোপটেমীয় সভ্যতায় প্রথম বর্ষবরণ উৎসব পালনের প্রমাণ পাওয়া যায়। বর্তমান ইরাকের প্রাচীন নাম ছিল মেসোপটেমিয়া। এই মেসোপটেমীয় সভ্যতা আবার চারটি পর্যায়ে বিভক্ত ছিল। সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, অ্যাসেরীয় সভ্যতা ও ক্যালডীয় সভ্যতা। এদের মধ্যে বর্ষবরণ উৎসব পালন করা শুরু হয় ব্যাবিলনীয় সভ্যতায়। সে সময় বেশ জাঁকজমকের সঙ্গেই পালন করা হতো বর্ষবরণ উৎসব। তবে তা এখনকার মতো জানুয়ারির ১ তারিখে পালন করা হতো না। পালিত হতো বসন্তের প্রথম দিনে। যেহেতু বসন্তের শুরুতে শীতের রুক্ষতা ঝেড়ে ফেলে প্রকৃতি আবার নতুন করে সাজতে শুরু করে। গাছে গাছে নতুন পাতা, বাহারি রঙের ফুল আর পাখিদের কল-কাকলিতে প্রাণ ফিরে পায় প্রকৃতি। প্রকৃতির এই নতুন করে জেগে ওঠাকেই তারা নতুন বছরের শুরু বলে চিহ্নিত করেছিল। তখন চাঁদ দেখেই বছর গণনা হতো। বসন্তের প্রথম চাঁদ উঠলেই, শুরু হতো বর্ষবরণ উৎসব। তখন চাঁদের হিসেবে ১০ মাসে বছর হতো।
ব্যাবিলনীয় সভ্যতার পর জাঁকজমক করে নববর্ষ পালন শুরু করে রোমানরা। গ্রিকদের কাছ থেকে একটি বর্ষপঞ্জিকা পেয়েছিল রোমানরা। এই ক্যালেন্ডারের ওপর ভিত্তি করে রোমের প্রথম সম্রাট রোমুলাস ৭৩৮ খ্রিষ্টপূর্বে রোমান ক্যালেন্ডার চালু করার উদ্যোগ নেন। এই রোমান ক্যালেন্ডারও প্রথমে চাঁদের হিসেব দেখেই বানানো। তারা এই ক্যালেন্ডারের নাম দিয়েছিল রোমুলাস ক্যালেন্ডার।
পরে রোমুলাস ক্যালেন্ডারে সম্রাট নুমা পন্টিলাস আগের ১০ মাসের সঙ্গে জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারি নামে আরও দুটো মাস যোগ করেন। রোমান যুদ্ধ দেবতা ‘মারটিয়াস’–এর নামানুসারে রোমুলাস ক্যালেন্ডারে বছরের শুরুর মাসটি ছিল মারটিয়াস বা মার্চ মাস। জানুয়ারি মাসের নামকরণ করা হয় রোমান দেবতা জানুসের নামে। লাতিন শব্দ জানুস অর্থ দরজা। সম্রাট সিজার ভাবলেন, জানুয়ারি অর্থাৎ দরজা দিয়েই নতুন বছরের আগমন হওয়া উচিত। পরে সিজারও এই ক্যালেন্ডারে অনেকটা পরিবর্তন করেন। সিজারের ঘোষণা অনুসারে খ্রিষ্টপূর্ব ১৫৩ সালের ১ জানুয়ারি নতুন বছর পালনের সিদ্ধান্ত নেয় রোমান সিনেট। এরপরই বর্ষবরণ উৎসব মার্চ মাস থেকে চলে এল জানুয়ারিতে।
মধ্য আমেরিকার মেক্সিকোতে ‘মায়া সভ্যতা’ নামে এক বিস্ময়কর সভ্যতার উদয় হয়েছিল। মায়ারা একসময় আবিষ্কার করল যে, সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর ৩৬৫ দিন লাগে। সৌর এবং চন্দ্র গণনায় বেশ পার্থক্য ছিল। চন্দ্র বর্ষের অসুবিধাগুলোর কারণেই পরে সৌরবর্ষ হিসাব গণনা শুরু হলো। খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬ অব্দে সিজার মিসর দেশের প্রচলিত ক্যালেন্ডারটি রোমে এনে কিছুটা সংস্কার করে রোমে তা চালু করেন। এই ক্যালেন্ডারে জুলিয়াস সিজারের নামানুসারে সিজারের জন্মমাস প্রাচীন কুইন্টিলিস মাসের নাম পাল্টে রাখা হয় জুলাই। মিসরীয়রা বর্ষ গণনা করত ৩৬৫ দিনে। মিসরীয় ক্যালেন্ডার সংস্কার করে সিজার প্রবর্তিত ক্যালেন্ডারে বছর করা হলো ৩ শ সাড়ে পঁয়ষট্টি দিনে।
সিজার ‘লিপ ইয়ার’ বছরেরও প্রচলন করেন। তিনি আলেকজান্দ্রিয়া থেকে গ্রিক জ্যোতির্বিদ মোসাজিনিসকে ক্যালেন্ডার সংস্কারের জন্য এনেছিলেন। মোসাজিনিস দেখলেন, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৬ ঘন্টা। ৩৬৫ দিনে বছর হিসাব করলেও প্রতি চতুর্থ বছরে ৩৬৬ দিনে বছর হিসাব করলে হিসাবের কোনো গরমিল হয় না। তাই মোসাজিনিস এই অতিরিক্ত একদিন যুক্ত করে এই বছরটির নাম করেন ‘লিপ ইয়ার’।
এ গেল যিশুর জন্মের আগের কথা। যিশু খ্রিষ্টের জন্মের পর তার জন্মের বছর গণনা করে ১৫৮২ সালে রোমের পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি সিজারের ক্যালেন্ডারের নতুন সংস্কার করেন, যা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার নামে পরিচিত। এরপর থেকে আস্তে আস্তে সবাই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহার শুরু করে। গ্রেট ব্রিটেনে এই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রচলিত হয় ১৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে।
এই যুগে আমরা যে ইংরেজি সাল বলি, এটিই হচ্ছে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। এটি একটি সৌর সাল। নানা পরিবর্তন, পরিমার্জন, পরিবর্ধন, বিবর্তন ও যোগ-বিয়োজনের মধ্য দিয়ে বর্ষ গণনায় এই বর্তমান কাঠামোটি এসেছে। আমাদের আগের মানুষ চন্দ্র-সূর্য দেখে সময় হিসাব করলেও তারও আগে মানুষ বুঝতই না, সময় আসলে কী। ধারণাটা প্রথমে এসেছিল চাঁদের হিসাব থেকে। চাঁদ ওঠা ও ডুবে যাওয়ার হিসাব করে দিন, মাস ও বছরের হিসাব করা হতো। তারা চাঁদ ওঠার সময়কে বলত ক্যালেন্ডস, পুরো চাঁদকে বলত ইডেস, চাঁদের মাঝামাঝি অবস্থাকে বলত নুনেস। সিজার চাঁদের এই হিসাব বাদ দিয়ে মাসের দিন ও তারিখ ঠিক করেন। অবশ্য সৌর গণনার হিসাব আসে অনেক পরে।
যেহেতু প্রাচীন রোমানদের হাতেই এই ক্যালেন্ডারের বিবর্তন। তাই ইংরেজি বছরের ১২ মাসের বেশির ভাগ মাসেরই নামকরণ করা হয়েছে রোমান দেবতা বা সম্রাটদের নামানুসারে। যেমন—
জানুয়ারি: রোমান দেবতা জানো’স–এর নামানুসারে।
ফেব্রুয়ারি: ল্যাটিন শব্দ ফেব্রুয়া থেকে নেওয়া হয়েছে, যার অর্থ পবিত্র।
মার্চ: রোমানদের যুদ্ধ দেবতা মার্সের নামানুসারে।
এপ্রিল: ল্যাটিন শব্দ এপ্রিলিস নামানুসারে, যার অর্থ খোলা।
মে: বসন্তের দেবী মায়ার নামানুসারে।
জুন: বিয়ে ও নারী কল্যাণের দেবী জুনোর নামানুসারে।
জুলাই: রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের নামানুসারে।
আগষ্ট: জুলিয়াস সিজারের পুত্র অগাস্টাস সিজারের নামানুসারে।
সেপ্টেম্বর: ল্যাটিন সপ্তম সংখ্যা সেপ্টেম–এর নামানুসারে
অক্টোবর: ল্যাটিন অষ্টম সংখ্যা অক্টো–এর নামানুসারে।
নভেম্বর: ল্যাটিন নবম সংখ্যা নভেম–এর নামানুসারে।
ডিসেম্বর: ল্যাটিন দশম সংখ্যা ডিসেম–এর নামানুসারে।
অবশ্য, অনেক দেশ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারকে এখনো পর্যন্ত গ্রহণ করেনি। যেমন সৌদি আরব, নেপাল, ইরান, ইথিওপিয়া ও আফগানিস্তান। এসব দেশে ইংরেজি নববর্ষ পালন করা হয় না। আবার ইসরায়েল গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করলেও ইংরেজি নববর্ষ পালন করে না। তারা অ-ইহুদি উৎস হতে উৎপন্ন রীতিনীতি পালনে উৎসাহী নন।
আবার কিছু কিছু জাতি ও দেশের নিজস্ব নববর্ষ আছে। ইংরেজির পাশাপাশি তারা নিজের সেই কৃষ্টি আর সংস্কৃতিকেও ধরে রেখেছে মর্যাদার সঙ্গে। যেমন বাঙালি, চীনা, ইহুদি ও মুসলমানরা তাদের নিজ নিজ ক্যালেন্ডার অনুসারে নববর্ষ পালন করে থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, বর্তমানে আমরা যে আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার ব্যবহার করছি, এ অবস্থায় পৌঁছাতে মানবজাতির কয়েক শ বছর সময় লেগেছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে এই নববর্ষ পালন শুরু হয় ১৯ শতক থেকে। বিভিন্ন দেশে নববর্ষের দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবে উদ্‌যাপিত হয়। সারা বিশ্ববাসী একত্রে, একটি বিশেষ দিনে, এই নতুন বছরকে স্বাগত জানালেও বিভিন্ন দেশে দিনটি পালনে রীতিনীতিতে কিছু কিছু পার্থক্য রয়েছে। কিছু বিশ্বজনীন মিল থাকলেও দিবসটি উদ্‌যাপনের সঙ্গে যোগ হয়েছে বিভিন্ন দেশের দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য।
নববর্ষের একটা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিও রয়েছে প্রায় প্রত্যেকটা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলো নতুন বছর উপলক্ষে নানান রঙে-বেরঙের ক্যালেন্ডার, ডায়েরি ছেপে তাদের মক্কেল, কর্মকর্তা, আত্মীয়স্বজনদের উপহার দিয়ে থাকে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নববর্ষ উপলক্ষে শুভেচ্ছা কার্ড ছেপে গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের কাছে পাঠায়৷ ব্যক্তিগত পর্যায়েও অনেক শুভেচ্ছা কার্ড পাঠানো হয়; এসব কার্ড শপিংমলগুলোতে কিনতে পাওয়া যায়। যদিও ইদানীং এসএমএস, ই–মেইল আর ফেসবুকের চাপে কার্ডের বাজার কিছুটা হলেও মন্দা৷ মানুষ পরস্পর দেখা হলে কিংবা টেলিফোনে ‘শুভ নববর্ষ’ বলে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে ভোলে না।
টিভি চ্যানেলগুলোতেও বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। সংবাদপত্রগুলো বের করে বিশেষ নববর্ষ সংখ্যা৷ এতে থাকে বছরের সালতামামি ও উল্লেখযোগ্য ঘটনার মূল্যায়ন৷ অনেক পত্রিকার সঙ্গে একপাতার রঙিন ক্যালেন্ডার পাওয়া যায় বিনা মূল্যে৷ কিছু সাপ্তাহিক ও পাক্ষিক অতিরিক্ত সংখ্যা হিসেবে বের করে নতুন বছরের রাশিচক্র৷
বিভিন্ন দামি বুটিক হাউস, ফ্যাশন-হাউস, শপিংমল ও আসবাবপত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দামি অথবা কমদামি সব দোকানেই থাকে বিশেষ ‘সেল’৷ নিউইয়র্ক নগরের ম্যানহাটনের হেরাল্ড স্কয়ারে অবস্থিত নামকরা শপিংমল মেসিসের করে সাজানো চোখ ধাঁধানো উইন্ডো ডিসপ্লে, রকফেলার সেন্টারের অভূতপূর্ব আলোকসজ্জা, অফিস-আদালত, নানা বিপণিবিতানসহ আবাসিক বাসা-বাড়ির আলোক সজ্জায় সজ্জিত ঝলমল নিউইয়র্ক নগর দেখতে শুধু নগরবাসীই নয়; দূরদূরান্ত থেকে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকেরাও ভিড় জমায়।
নববর্ষের আগের রাতকে বলা হয় ‘নিউ ইয়ার ইভ’ বা থার্টিফার্স্ট নাইট। ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টা এক মিনিট থেকেই শুরু হয় নববর্ষ উদ্‌যাপনের উন্মাদনা। শ্যাম্পেনের বোতল খুলে নববর্ষ উদ্‌যাপন করা হয়। শুরু হয়ে যায় একে অন্যকে জড়িয়ে নববর্ষের শুভকামনা জানানো। মুহূর্তেই সারা আকাশে ছড়িয়ে পড়ে আতশবাজির আলোকছটা। আজকাল আধুনিক বিশ্বে আন্তর্জাতিক নিউ ইয়‍ার ডে সর্বজনীন একটি ঐতিহ্যে রূপান্তরিত হয়েছে।
তবে আমরা বাঙালিরা দেশে বা বিদেশে যেখানেই বসবাস করি না কেন, আমরা একই সঙ্গে জাতিক ও আন্তর্জাতিক৷ তাই দুটো নববর্ষই আমরা মহাসমারোহে উদ্‌যাপন করি। এই দুধরনের নববর্ষ উদ্‌যাপনের ধরন অবশ্য কিছুটা আলাদা৷ বাংলা নববর্ষ বরণ করা হয় সূর্যোদয়ের সঙ্গে। আর ইংরেজি নববর্ষ মধ্যরাতে শুরু হয়। আমরা অন্যদের তুলনায় এই ব্যাপারে অনায়াসেই কিছুটা গর্ব করতে পারি; কারণ, আমাদের একটি নিজস্ব বর্ণমালা ও একটি বর্ষপঞ্জি রয়েছে, যা বিশ্বের অনেক জাতির নেই। বাংলাদেশে মোট তিনটি বর্ষের প্রচলন রয়েছে—ইংরেজি, বাংলা ও হিজরি। এসব বর্ষের আবার সুদীর্ঘ ইতিহাসও রয়েছে।
নিউইয়র্কের একজন বাসিন্দা হিসেবে আমাদের পরিবারেও শুরু হয়ে গেছে নতুন বছরকে বরণ করার প্রস্তুতি। নতুন পোশাক, উপহার বিনিময় ছাড়াও আছে আত্মীয়-স্বজন আর বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে উন্নতমানের খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন। নববর্ষ ও বড়দিন—এই দুটো বড় উৎসবকে উপলক্ষ করে নিউইয়র্ক নগরও সেজে উঠেছে অপরূপ সাজে। আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন রকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্ট, পার্টি ইত্যাদি।
পুরোনোকে ঝেড়ে নতুন উদ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য আমরা মোটামুটিভাবে তৈরি হয়েই আছি। নতুন বছরে সব মানুষের মনেই তৈরি হয়ে আছে নতুন নতুন প্রত্যাশা। অনেকে নতুন বছরকে সামনে রেখে জীবনকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করে রেখেছেন। হয়তো তার সবকিছুই পূরণ হবে না। তাতে কী? মানুষতো এসব নতুন নতুন আশা নিয়েই বেঁচে থাকে। এখন শুধু একটি নতুন সূর্যোদয়ের অপেক্ষা। অপেক্ষা ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ রাত ১২টা ১ মিনিটের। নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ঐতিহ্যগতভাবে স্থানীয় সময় রাত ১২টা এক মিনিটে চোখ ধাঁধানো ওয়াটারফোর্ড ক্রিস্টাল বল ড্রপের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেবে আমেরিকাবাসী।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0