default-image

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে বিখ্যাত ট্রাম্প প্লাজা হোটেল অ্যান্ড ক্যাসিনো ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার সকালে ডিনামাইট দিয়ে স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

একসময়ে ট্রাম্পের মালিকানাধীন নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটির সমুদ্রতীরের এই স্থাপনাটি পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্যস্থল ছিল। গতকাল সকালে হাজারো লোকজন জড়ো হয়ে স্মৃতিময় এই স্থাপনাটিকে বিদায় জানান।

১৯৮৪ সালে ট্রাম্প প্লাজা হোটেল অ্যান্ড ক্যাসিনো চালু হয়। ২০১৪ সালে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ক্যাসিনো ব্যবসায় ধস নামা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকতে না পারার কারণেই মূলত এই হোটেল অ্যান্ড ক্যাসিনোটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন এই ক্যাসিনো ও হোটেলে বেশ কিছু বাংলাদেশিও কাজ করতেন।

বুধবার সকালে ট্রাম্প প্লাজার দাঁড়িয়ে থাকা ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। এ জন্য দীর্ঘ এলাকাব্যাপী নিরাপত্তাবেষ্টনী দেওয়া হয়। হোটেল ও ক্যাসিনোটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার সময় হাজারো লোক শীতল আবহাওয়া উপেক্ষা করে একসময় মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো ভবনটির ভেঙে পড়া দেখে। পাশাপাশি তারা স্মৃতিতর্পণ করে।

বিজ্ঞাপন
default-image

ট্রাম্প প্লাজা হোটেল ও ক্যাসিনোর মালিকানা ২০০৯ সালে হারান ট্রাম্প। ট্রাম্প কয়েক দফা নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণার পর নিলাম থেকে কার্ল সি একাহান স্থাপনাটি কিনে নেন। মালিকানা না থাকলেও হোটেল ও ক্যাসিনোটি ২০১৪ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। তারপর এটির তেমন আর রক্ষাণাবেক্ষণ করা হয়নি।

ক্যাসিনো ও মনোরম সব হোটেলে সাজানো নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ‘লাস ভেগাস’ হিসেবে অভিহত করা হতো। আটলান্টিক সিটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল ট্রাম্প প্লাজা হোটেল অ্যান্ড ক্যাসিনো। দিন–রাত আলো ঝলমলে থাকা এই হোটেলে সারা বিশ্বের প্রধান প্রধান সেলিব্রিটিদের আগমন ঘটে। মুষ্টিযুদ্ধের তারকা মোহাম্মদ আলী থেকে মাইক টাইসন। অপরাহ্ উইনফ্রে থেকে শুরু করে হলিউডের নামীদামি তারকাদের পদভারে সরগরম থাকত ট্রাম্প প্লাজা হোটেল অ্যান্ড ক্যাসিনো। কয়েক বছর ধরে বন্ধ হয়ে থাকায় এটি অনেকটাই ভঙ্গুর হয়ে উঠেছিল।

আটলান্টিক সিটির অবস্থা এখন আগের মতো নেই। ক্যাসিনোগুলোর ধুঁকে ধুঁকে টিকে থাকার চেষ্টার মধ্যে করোনার অতিমারি হাজির হয়। ফলে ক্যাসিনো ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। সাগরপারের হোটেলগুলোতে এখন পর্যটক নেই। নানা অনুষ্ঠান-উৎসবে নিত্যদিন জমে থাকা আটলান্টিক সিটিতে এখন উজ্জ্বল আলোর ঝলকানিও নেই।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন