default-image

ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গায় উসকানির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মিসিসিপি থেকে নির্বাচিত ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যান ব্যানি থমসন ১৬ ফেব্রুয়ারি নাগরিক অধিকার আইনে এই মামলা করেন। মামলায় ট্রাম্পের আইনজীবী রুডি জুলিয়ানিসহ দুটি শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী গোষ্ঠীকে বিবাদী করা হয়েছে।

ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব কালার পিপল (এনএএসিপি) এই মামলার সমর্থনে এগিয়ে এসেছে।

ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া ফেডারেল কোর্টে দায়ের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ও জুলিয়ানি ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গায় উসকানির ষড়যন্ত্র করেছেন। তাঁদের এই কাজের সহযোগী ‘প্রাউড বয়েজ’ ও ‘ওথ কিপার্স’ নামের দুটি কট্টর ডানপন্থী সংগঠন। ক্যাপিটল হিলে কংগ্রেস যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যয়ন করছিল, তখন সহিংসতা ও ষড়যন্ত্র করে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেছেন বিবাদীরা।

বিবাদীদের এসব কর্ম ‘কু ক্লাক্স ক্লান অ্যাক্ট’ নামের আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। দাসপ্রথা-পরবর্তী সময়ে আমেরিকায় আইনটি শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের হাত থেকে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান ও আইনপ্রণেতাদের রক্ষা করার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছিল।

মামলা দায়ের-পরবর্তী সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের আরও দুজন সদস্য হ্যাঙ্ক জনসন ও বানি ওয়াটসন কোলম্যানও এই মামলায় বাদী হিসেবে শিগগির যোগ দেবেন।

সিনেটের অভিশংসন আদালতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত অভিযোগই এই মামলার বিবরণীতে উল্লেখ হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, ট্রাম্প উসকানি দিয়ে ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলের ঘটনা ঘটিয়েছেন। ওই সহিংসতায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার জন্য ক্যাপিটল হিলে হামলা করা হয়েছে। ট্রাম্প-সমর্থকেরা ক্যাপিটল হিলে ঢোকার পর তাঁর আইনজীবী রুডি জুলিয়ানি আইনপ্রণেতাদের নির্বাচনের ফলাফল প্রণয়নপ্রক্রিয়া ধীরে করার জন্যও বলেছেন বলে মামলার বিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে।

অভিশংসন আদালতে সংখ্যাগরিষ্ঠ সিনেট সদস্য ট্রাম্পের দণ্ডের পক্ষে ভোট দেন। কিন্তু তিন-চতুর্থাংশ ভোট না পড়ায় অভিশংসন দণ্ড থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন ট্রাম্প। ১৩ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় সিনেটের অভিশংসন আদালতে দণ্ড থেকে অব্যাহতি পান তিনি।

কংগ্রেসম্যান ব্যানি থমসন বলেছেন, ১৩ ফেব্রুয়ারির পর অন্য কোনো নাগরিক অধিকার সংগঠন মামলা দায়ের না করায় তিনিই এগিয়ে এসেছেন। তাঁকে এ কাজে সহযোগিতার জন্য প্রভাবশালী নাগরিক অধিকার সংগঠন এনএএসিপির এগিয়ে আসার কথা তিনি জানান।

এনএএসিপির প্রেসিডেন্ট ডেরিক জনসন বলেছেন, ‘আমরা যদি অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদকে বাধা দিতে না পারি, তাহলে আমেরিকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অচেনা হয়ে উঠবে। রাষ্ট্রদ্রোহ ও রাষ্ট্রক্ষমতা জবরদখলের চেষ্টাকারীদের শক্তভাবে দমন করতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তাঁর প্রচারণা উপদেষ্টা জেসন মিলার বলেছেন, ভূত খোঁজার মতো সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন আদালতে অপরাধ খোঁজার চেষ্টা আগে করা হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৬ জানুয়ারির হামলার কোনো পরিকল্পনা করেননি। হামলায় কোনো ইন্ধন দেননি।

প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ও ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র কেন অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করলেন না, সে প্রশ্নের উত্তর তাঁদের দিতে হবে বলে জেসন মিলার তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন।

৬ জানুয়ারি ট্রাম্পের উসকানিমূলক বক্তব্যকে তাঁর সমর্থকেরা সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে দেওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ব্যবহার বলে উল্লেখ করছেন। তবে মার্কিন আইনপ্রণেতারা অভিশংসন আদালতেই বলেছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার আইনে করা মামলায় সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির নেতা সিনেটর মিচ ম্যাককনেলের বক্তব্য সংযুক্ত করা হয়েছে। সহিংসতায় উসকানির জন্য ট্রাম্প দায়ী বলে উল্লেখ করেছিলেন সিনেটর ম্যাককনেল। যদিও অভিশংসন আদালতে ট্রাম্পকে দণ্ড না দেওয়ার পক্ষে ভোট দেন তিনি। এ জন্য সমালোচিত হচ্ছেন প্রবীণ এই রিপাবলিকান সিনেটর।

সিভিল আইনে করা মামলার জের ধরে অনেক নতুন তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্পসহ অন্যদের বিরুদ্ধে এই মামলা আরও অভিযোগের পথ খুলে দিতে পারে।

মামলার আইনজীবী জোসেফ সেলার বলেছেন, মামলায় সুনির্দিষ্টভাবে কংগ্রেসের দায়িত্ব পালন বাধাগ্রস্ত করার প্রতিকার চাওয়া হয়েছে। এ ধরনের মামলার নজির অল্প উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনা কতটা ব্যতিক্রমের, তা মামলায় বলা হয়েছে।

প্রতিনিধি পরিষদে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির প্রধান কংগ্রেসম্যান থমসন এক বিবৃতিতে বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান ট্রাম্পের কৃতকর্মের জন্য তাঁকে দায়ী করার বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলের অশুভ পরিকল্পনার জন্য তাঁকে অবশ্যই দায় নিতে হবে। এ কাজে ব্যর্থ হলে কর্তৃত্ববাদী ও চরম ডান অগণতান্ত্রিক শক্তি আমেরিকাকে ধ্বংস করে দেবে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন