default-image

অভিশংসন দণ্ড থেকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অব্যাহতি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টি চরম রক্ষণশীলতার দিকে আরও ঝুঁকে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

২০২৪ সালে ট্রাম্পের বয়স হবে ৭৮ বছর। এই বয়সে তাঁর আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কথা কারও ভাবনায় ছিল না। কিন্তু ট্রাম্প এখন নিজেই বলেছেন, ‘যাত্রা সবে শুরু হয়েছে।’

‘মেক আমেরিকা গ্রেট’ আন্দোলনকে ট্রাম্প আরও বেগবান করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

ট্রাম্পের অন্ধ অনুসারীরা তাঁর সঙ্গেই আছেন। তাঁদের কাছে ট্রাম্প শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি কট্টর শ্বেতাঙ্গবাদীদের প্রতিভূও।

সিনেটে অভিশংসন আদালত থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরদিন ১৪ ফেব্রুয়ারি ফ্লোরিডায় গলফ খেলেন ট্রাম্প। এদিন ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম।

পরে সাংবাদিকদের সিনেটর গ্রাহাম বলেন, ট্রাম্প চমৎকার বোধ করছেন। তাঁর সমর্থনে আইনজীবীসহ দলের যাঁরা এগিয়ে এসেছেন, সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।

গ্রাহাম জানান, ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টি পুনর্গঠন করার কথা বলেছেন। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে দলকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজে নামছেন তিনি। এ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আগামী সপ্তাহে আবার কথা হবে বলে জানান সিনেটর গ্রাহাম।

ট্রাম্পকে রিপাবলিকান পার্টির প্রাণবন্ত নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন গ্রাহাম। তিনি বলেন, ট্রাম্পের আন্দোলন এখনো ভালোভাবেই চলমান।

রিপাবলিকান পার্টির প্রথম সারির নেতা হিসেবে পরিচিত সিনেটর মিচ ম্যাককনেল গত ৬ জানুয়ারির সহিংসতা নিয়ে ট্রাম্পের দায় আছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি ট্রাম্পের বিপক্ষে বক্তব্য দিলেও তাঁকে দণ্ড দেওয়ার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।

অভিশংসন আদালতের রায়ের পরদিন সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির নেতা মিচ ম্যাককনেল বলেছেন, ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের ভালো ফলের দিকেই তিনি নজর দিচ্ছেন। মনোনয়ন দেওয়া থেকে শুরু করে সর্বত্র যাঁরা জিতে আসতে পারবেন, তাঁদের প্রতিই তিনি মনোযোগী হচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

মিচ ম্যাককনেলের অবস্থান ট্রাম্পের বিপক্ষে নয়। ফলে, ট্রাম্পবিরোধী যে দুর্বল উদারনৈতিক রক্ষণশীল লোকজন রিপাবলিকান পার্টিতে আছেন, তাঁরা অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন।

ট্রাম্পের আমেরিকায় মধ্যপন্থী রিপাবলিকানদের অবস্থা ভালো ছিল না। উগ্রবাদ ও বিদ্বেষ উসকে দিয়ে চরম রক্ষণশীলতার মধ্যেই ট্রাম্প তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ দেখেছেন। তিনি এখনো তা–ই দেখছেন।

ট্রাম্পের আশপাশে কখনো উদারনৈতিক রক্ষণশীলদের স্থান হয়নি। উপেক্ষিত রক্ষণশীল এসব উদারনৈতিক জর্জ বুশের সময় পর্যন্ত রিপাবলিকান পার্টির মূল কর্মচাঞ্চল্যে ছিলেন।

দলের নবীন লোকজনের মধ্যে ট্রাম্পের প্রভাব বেশি। তাঁরাসহ চরম রক্ষণশীল শ্বেতাঙ্গরা ট্রাম্পকেই তাঁদের রাজনৈতিক রক্ষাকর্তা হিসেবে মনে করছেন।

প্রতিনিধি পরিষদে ১০ জন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেন। সাতজন রিপাবলিকান সিনেটর অভিশংসন আদালতে ট্রাম্পের দণ্ডের পক্ষে ভোট দেন। এসব রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার মধ্যে অনেকেই অবসরে যাচ্ছেন। কিংবা নিজেদের আসনে তাঁদের অবস্থান অনেকটাই নড়বড়ে। ফলে, এসব আইনপ্রণেতাকে ঘিরে রিপাবলিকান পার্টিতে কোনো পাল্টা স্রোত জেগে ওঠার লক্ষণ নেই।

রিপাবলিকান পার্টির জাতীয় কমিটির সভায় আমন্ত্রিত হচ্ছেন ডান রক্ষণশীল ট্রাম্পের একান্ত সমর্থকর নেতারা। ফলে, ট্রাম্পই রিপাবলিকান পার্টিকে মাতিয়ে রাখবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

দলকে চরম রক্ষণশীল ঘরানায় রেখেই ট্রাম্প আমেরিকার রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকার চেষ্টা করবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ভবিষ্যতে আরও অসহিষ্ণু, আরও সংঘাতময় হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন