default-image

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন আদালতের কার্যক্রম আগামী সপ্তাহে মার্কিন সিনেটে শুরু হচ্ছে। এই অভিশংসন কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের পক্ষ থেকে অভিশংসন আদালতে মূল অভিযোগ পাশ কাটানোর চেষ্টা করা হবে। ট্রাম্পের পক্ষের শিবির গত ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলবে।

৩ নভেম্বরের আগে থেকেই ট্রাম্প বলছিলেন, নিজের পছন্দ না হলে ভোটের ফলাফল তিনি মানবেন না। করেছেনও তাই। নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় পর একের পর এক কারচুপির অভিযোগ করেন তিনি। অনিয়ম, কারচুপি ও জালিয়াতির দাবি নিয়ে আদালতে অর্ধশতাধিক মামলা করেন ট্রাম্প। তবে তাঁর এসব দাবি কেউ মেনে নেয়নি।
ট্রাম্প রাজনৈতিক প্রভাব দিয়ে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ারও চেষ্টা করেন। ৬ জানুয়ারি কংগ্রেসে ভোটের ফলাফল নিয়ে শেষ সাংবিধানিক কার্যক্রম চলাকালে তাঁর সমর্থকেরা ক্যাপিটল হিলে হামলা চালায়।

বিজ্ঞাপন

এসব কেন্দ্র করে অভিশংসন প্রস্তাবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষমতা জবরদখল ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

কংগ্রেসে অভিশংসন প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর সাজা কার্যকরের বিষয়টি এখন সিনেটে গঠিত অভিশংসন আদালতের এখতিয়ার। আগামী মঙ্গলবার থেকে সিনেটে অভিশংসন আদালতের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর জন করনাইন বলেছেন, ডেমোক্রেটিক পার্টি সংবিধান অনুযায়ী অভিশংসন আদালত পরিচালনার চেয়ে এ নিয়ে একটি বড় ধরনের প্রচার চালাতে চাইছে।

ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এর মধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, জবানবন্দি দেওয়ার জন্য তিনি আদালতে উপস্থিত হবেন না। আইনজীবীরাই অভিশংসন আদালত মোকাবিলা করবেন। রিপাবলিকান পার্টির পাঁচজন সিনেটর সিনেটে ট্রাম্পের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অভিশংসন দণ্ড কার্যকর করার জন্য আরও ১২ জন রিপাবলিকান সিনেটরের সমর্থন পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

সিনেটে অভিশংসন আদালতের কাজ সম্প্রচার করা হবে। মানুষ টিভিতে সরাসরি আদালতের বিস্তারিত কার্যক্রম দেখার সুযোগ পাবে।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজন এবং নিয়োজিত আইনজীবীরা অভিশংসন আদালতে ট্রাম্পের নির্বাচন কারচুপির ভুয়া দাবিকে নানাভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করবেন। সংবাদমাধ্যম পলিটিকো বলেছে, এমন পরিস্থিতি আবারও ঝিমিয়ে পড়া সমর্থকদের চাঙা করবে।
ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন বলেছেন, ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পকে শাস্তি দিতে চান। তাঁর উসকানি ও মদদেই যে ক্যাপিটল হিলে নজিরবিহীন হামলা হয়েছে, সে কথাই অভিশংসন আদালতে বলার চেষ্টা করবেন ডেমোক্র্যাটরা।

রিপাবলিকানরা অবশ্য এ নিয়ে কোনো বিতর্কে যেতে রাজি নন। তাঁরা সংবিধান অনুযায়ী অভিশংসন আদালত চলতে পারেন না বলেই যুক্তি দিয়েছেন। ট্রাম্পের আইনজীবীরা বলছেন, ক্ষমতা থেকে কোনো প্রেসিডেন্টের চলে যাওয়ার পর অভিশংসন করার কোনো কথা মার্কিন সংবিধানে নেই।

রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর জন করনাইন বলেছেন, ডেমোক্রেটিক পার্টি সংবিধান অনুযায়ী অভিশংসন আদালত পরিচালনার চেয়ে এ নিয়ে একটি বড় ধরনের প্রচার চালাতে চাইছে।

ব্রুস ক্যাস্টর ও ডেভিড স্কোয়েন নামের দুজন খ্যাতনামা আইনজীবী ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন আদালত মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। পলিটিকো জানিয়েছে, তাঁরাও আদালতে ৬ জানুয়ারির ঘটনা নিয়ে বিতর্ক চান না।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম দফা অভিশংসনের সময় আইনজীবী হিসেবে যুক্ত ছিলেন অ্যাটর্নি এলেন ডারশোইটিজ। তাঁর মতে, ট্রাম্পের আইনজীবীরা ৬ জানুয়ারির ঘটনা এড়িয়ে যাওয়ার যে কৌশল নিয়েছেন, তা ঠিক না। ১৯৬৯ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ‘ব্রেন্ডেনবার্গ বনাম ওহাইও’ মামলার সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সহিংসতায় উসকানি দেওয়া অপরাধ নয়।

জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির আইনের অধ্যাপক জনাথন টারলই বলেছেন, ট্রাম্পের অভিশংসন আদালতে বহু উত্তাপ ছড়াবে। ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান পার্টি তাদের নিজেদের সমালোচনাগুলোই নিয়ে আদালত সরগরম করবে বলে তিনি মনে করছেন।

বিজ্ঞাপন
উত্তর আমেরিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন