default-image

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসন আদালতে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য সিনেটরদের প্রতি ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা বলেছেন, ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করা না হলে ভবিষ্যতে যে ৬ জানুয়ারির মতো ঘটনা আর ঘটবে না, তা কেউ বলতে পারে না।

অভিশংসন আদালতে তৃতীয় দিনে ট্রাম্পের করা অপরাধ প্রমাণের জন্য ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। গত মঙ্গলবার শুরু হওয়া আদালতের কার্যক্রমের তৃতীয় দিনে ডেমোক্র্যাট অভিশংসন ম্যানেজাররা তাঁদের শেষ দিনের যুক্তি তুলে ধরেন।

অভিশংসন কৌঁসুলিদের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের অপরাধ প্রমাণের জন্য তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সহিংসতা দৃশ্যমান ছিল, ট্রাম্প সহিংসতাকে উৎসাহিত করেছেন ও তিনি নিজ ইচ্ছায় পরিকল্পিতভাবে ঘটনা ঘটিয়েছেন।

১১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে শুরু হওয়া অভিশংসন আদালত তৃতীয় দিনের মতো মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় সময় ১২ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দুপুরে শুরু হবে অভিযোগ খণ্ডনের জন্য ট্রাম্পের আইনজীবীদের বক্তব্য। তাঁরা দুই দিনে ১৬ ঘণ্টায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খণ্ডন করবেন।

এরপর অভিশংসন আদালতে জুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সিনেটরদের প্রশ্ন করার পালা। আদালতে দেওয়া বক্তব্যের সূত্র ধরে সিনেটররা নিজ নিজ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য উভয় পক্ষকে প্রশ্ন করবেন।

কোনো সাক্ষ্য উপস্থাপনের জন্য তলব (সফিনা) দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে আদালত ভোটে যেতে পারেন।

সর্বোচ্চ চার ঘণ্টার সরাসরি যুক্তিতর্ক থাকবে উভয় পক্ষের মধ্যে। সর্বশেষ সিনেটররা নিজেদের বক্তব্য রাখার পর ট্রাম্প অভিযুক্ত কি না, এ নিয়ে ভোট গ্রহণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার অভিশংসন আদালতে আগের ধারাবাহিকতায় ট্রাম্পের নির্দেশনায় কীভাবে ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলা হয়েছে, তার সচিত্র প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়।

অভিশংসন আদালতে বলা হয়, ট্রাম্প মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে দেওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অপব্যবহার করেছেন। তাঁর কর্মকাণ্ডে আমেরিকার ভাবমূর্তি বিনষ্ট হয়েছে। আমেরিকার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিপন্ন হয়েছে। এসব উল্লেখ করে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার জন্যই ট্রাম্পের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যতম কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কংগ্রেসম্যান জো নেগাস বলেছেন, ‘ট্রাম্পের কৃতকর্মের ব্যাপারে যদি আমরা নীরব থাকি, তাহলে এমন ঘটনা যে আবার ঘটবে না, তা কেউ বলতে পারে না।’

প্রধান কৌঁসুলি  হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কংগ্রেসম্যান জ্যামি রাস্কিন বলেছেন, ট্রাম্প নির্বাচনের ফলাফল অস্বীকার করে আমেরিকার মানুষের অধিকারকে খর্ব করেছেন। আমেরিকার জনগণ সংবিধানের প্রথম সংশোধনী রক্ষার জন্যই প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্প তা মেনে নিতে অস্বীকার করেন।

ট্রাম্প এমন সহিংসতার জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করেছিলেন বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যুক্তি তুলে ধরা হয়। তার জন্য মিশিগান অঙ্গরাজ্যকে পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র করা হয়েছিল বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

আদালতে উপস্থাপিত তথ্যসূত্রের মাধ্যমে দেখানো হয়, ট্রাম্পের সমর্থকেরা মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্রিচেন উইটমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন। একপর্যায়ে উগ্রবাদীদের মিশিগানের গভর্নরকে অপহরণ করার পরিকল্পনাও এফবিআই উদঘাটন করে।

ট্রাম্পের সমর্থকদের হামলা ও হামলার জের ধরে মারা যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। আমেরিকার গণতন্ত্রের জন্য তাঁরা শহীদ হয়েছেন বলে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের দেওয়া এক পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ৬ জানুয়ারি ট্রাম্পের সমর্থকদের হামলায় ক্যাপিটল হিলের এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। হামলা-তাণ্ডবের জের ধরে ওয়াশিংটন মেট্রো পুলিশের আরও দুজন সদস্য পরে আত্মহত্যা করেন। তাঁদের সবাইকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মাননা ‘কংগ্রেসনাল গোল্ড মেডেল’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্পিকার পেলোসি।

অভিশংসন আদালতে ট্রাম্পের দণ্ড কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক রিপাবলিকানের সমর্থন পাওয়া যাবে না। সর্বোচ্চ মাত্র ছয়জন রিপাবলিকান সিনেটরের সমর্থন পাওয়া যাবে। ট্রাম্পের অভিশংসন দণ্ড কার্যকর করার জন্য আরও অন্তত ১২ জন রিপাবলিকান সিনেটরের সমর্থন দরকার।

সহিংসতা ও ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনায় ট্রাম্পের দায়ের বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে প্রমাণাদি শক্তভাবে উপস্থাপন হয়েছে বলে রিপাবলিকান দলের নেতারাও মনে করেন। যদিও দলের অবস্থানের বাইরে তাঁরা মুখ খুলছেন না।

অভিশংসন আদালতে প্রকাশ্যে ভোট হবে। ফলে ট্রাম্পের বিপক্ষে ছয়জন ছাড়া অন্য কোনো রিপাবলিকান সিনেটরের শক্ত অবস্থান নিতে দেখা যাচ্ছে না।

শুক্রবার দুপুরে অভিশংসন আদালত আবার শুরু হলে ট্রাম্পের আইনজীবীরা সংক্ষেপে তাঁদের যুক্তি তুলে ধরবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁরা চাচ্ছেন, দ্রুততার সঙ্গে অভিশংসন আদালতের কার্যক্রম শেষ হোক। ট্রাম্পও এমনটাই চাচ্ছেন।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ডেমোক্রেটিক দল অভিশংসন আদালত নিয়ে বেশি সময় ব্যয় না করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। করোনা সহায়তা বিলসহ বাইডেন প্রশাসনের সাংবিধানিক কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে কংগ্রেস ও সিনেটে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করাকে অগ্রাধিকার মনে করছেন তাঁরা।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন