default-image

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করাতে চান পরিবারের সদস্যরা। এ জন্য তাঁরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্যের কাছে আবেদনও করেছেন তাঁরা।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাতে চান বলে পরিবারের সদস্যরা আবেদনে উল্লেখ করেছেন। এ জন্য সুপারিশ করতে খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত চিকিৎসক বোর্ডের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। অবশ্য এই চিঠির পর বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান জানায়নি। তবে কর্তৃপক্ষ চিঠিটি খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে। 

খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বের করার অংশ হিসেবে এটাই প্রথম কোনো লিখিত আবেদন। আবেদনটি করেছেন খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার। বোন সেলিমা ইসলামেরও এতে সম্মতি আছে। যদিও খালেদা জিয়ার দল বিএনপি এ বিষয়টি জানে না বলে জানিয়েছে। এই দলের বর্তমান নেতৃত্বে আছেন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান। অবশ্য বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেছেন, পরিবারের আবেদনের বিষয়ে তাঁরা কিছু জানেন না। তবে খালেদা জিয়ার জীবনই এখন তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়।
খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপির আইনি ও রাজপথের আন্দোলন চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নাকচ হয়ে গেছে। আর আন্দোলন করে বিএনপি সরকারের ওপর এমন কোনো চাপ তৈরি করতে পারেনি যাতে সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে।
এমন একটা পরিস্থিতিতে মূলত তাঁর পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এসেছেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বিএনপির চেয়ারপারসনের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বলেছেন। সেই রায়ের আলোকেই খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা এবং তাঁকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করাতে চায় পরিবার। এ জন্য মেডিকেল বোর্ড সুপারিশ করলে সেই অনুযায়ী পরিবার ব্যবস্থা নেবে। চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিতে চায় পরিবারে। সেখানে আগেও কয়েক দফা চিকিৎসা করিয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
গত মঙ্গলবার আবেদনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য অধ্যাপক শহীদুল্লাহ শিকদারের কাছে দিয়ে এসেছেন খালেদার ভাই শামীম ইস্কান্দার। তিনি জানান, আবেদনটি তাঁরা দিয়েছেন। এখন কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয়, সেটা তো তাদের ব্যাপার। অবশ্য বোন সেলিমা ইসলাম প্রথম আলোকে বলেছেন, তারা খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা করাতে চান। এ জন্য যেকোনো উপায়ে তার মুক্তি চান। এটা যদি প্যারোলে হয়, তাতেও তাঁদের আপত্তি নেই।
সেলিমা ইসলাম বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) খুবই অসুস্থ। তাঁর সুচিকিৎসা দরকার। এ জন্য তাঁর মুক্তি চাই। আমরা মনে করি সবার আগে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা হওয়া দরকার।
সহ–উপাচার্য অধ্যাপক শহীদুল্লাহ শিকদার গত মঙ্গলবার হাসপাতালে প্রথম আলোকে বলেন, খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা হয়েছে। মেডিকেল বোর্ড যে ধরনের চিকিৎসার জন্য সুপারিশ করবেন সেই অনুযায়ী তাঁর চিকিৎসা হবে। তিনি বলেন, তাঁরাও চান রোগীর সর্বোচ্চ চিকিৎসা হোক। তিনি জানান, খালেদা জিয়ার ভাইয়ের আবেদনটি মেডিকেল বোর্ডের কাছে পাঠানো হয়েছে।
দুর্নীতির দুটি মামলায় সাজা নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া কারাবন্দী আছেন। গত বছর অসুস্থ হলে খালেদা জিয়াকে ১ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। এখন পর্যন্ত তিনি সেখানেই আছেন। খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য তাঁর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছে বিএনপি। মানবিক বিবেচনায় খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে তাঁর আইনজীবীরা আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। সর্বশেষ গত ১২ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানিতে মেডিকেল রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ জামিন আবেদন খারিজ করে খালেদা জিয়ার সম্মতিতে বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী চিকিৎসার নির্দেশ দেন। আদালতের এমন নির্দেশ পাওয়ার পর সহসাই আইনি পথে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে বলে মনে করছে না তাঁর দল। বিএনপির শীর্ষ আইনজীবীরাও দীর্ঘদিন ধরে তা বলেও আসছেন।
খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্য গত মঙ্গলবার বিএসএমএমইউতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তাঁরা আর কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। যেকোনো উপায়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি চান যাতে তাঁর চিকিৎসা করানো যায়।
বোন সেলিমা ইসলাম বলেছেন, ‘জামিন ছাড়া তাঁর উন্নত চিকিৎসা সম্ভব নয়। সরকারকে বলছি ওনার বয়স, শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে মুক্তি দেওয়া উচিত। সরকারের কাছে এটাই আবেদন করছি, তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হোক।’ খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে সেলিমা ইসলাম বলেন, ‘তাঁর শরীর খুবই খারাপ। তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছেন, কথাই বলতে পারছেন না। উঠে দাঁড়াতে পারেন না। বাম হাত তো সম্পূর্ণভাবে বেঁকে গেছে। এখন ডান হাতটাও বেঁকে যাচ্ছে। খেলে বমি হচ্ছে। জ্বর আছে, গায়ে প্রচণ্ড ব্যথা। গায়ে হাত দিলেই চিৎকার করছেন। যে অবস্থায় এসেছিলেন, এখন সেই অবস্থায় নেই। খালেদা জিয়া হাঁটাচলা করতেন। এখন তিনি পাঁচ মিনিটও দাঁড়াতে পারেন না। বিছানা থেকে টয়লেটের দূরত্ব দুই-তিন হাত হলেও ওইটুকু পথ যেতে তাঁর ২০ মিনিট সময় লাগে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য জমিরউদ্দিন সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘খালেদার মুক্তি দলের সবচেয়ে বড় চিন্তা। আইনি পথে তাঁর মুক্তি হবে না। কিছু একটা করতে হবে। এভাবে তো জেলে রাখা যাবে না ওনাকে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0