জো বাইডেন
জো বাইডেনরয়টার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর কিছুদিন বাকি। নির্বাচন সামনে রেখে বেশ উজ্জীবিত অবস্থায় রয়েছে ডেমোক্র্যাট শিবির। আগামীকাল সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় কনভেনশন, চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। এবার প্রথমবারের মতো এই সম্মেলন অনলাইনে ভার্চ্যুয়াল পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রথমবারের মতো ভার্চ্যুয়াল পরিসরে ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্মেলন অনুষ্ঠান নিয়ে দলের পক্ষ থেকে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নতুন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে এই সম্মেলন অনুষ্ঠান নিয়ে যদিও এখনো রয়েছে অনেক অনিশ্চয়তা। এরই মধ্যে বেশ কিছু প্রশ্ন সামনে হাজির হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই রাজনৈতিক সম্মেলন এভাবে কতটা আবেদন সৃষ্টি করতে পারবে? মার্কিনিরা কনভেনশনের সময় স্ক্রিনের সামনে উপস্থিত থাকবেন তো? যদি না থাকেন, তাহলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের মধ্যে যে ঐক্য স্থাপন জরুরি, তা কীভাবে করা সম্ভব হবে?

বিজ্ঞাপন
default-image

আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের জন্য নিজেদের মধ্যে ঐক্য স্থাপনই সবচেয়ে জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ডেমোক্র্যাটদের জন্য। গেল নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টিকে দায়ী করা হয়, তা হলো অনৈক্য। এবারও সেই দ্বিধাবিভক্ত ডেমোক্রেটিক পার্টিই সবার সামনে উপস্থিত হয়েছে। মার্কিন নির্বাচন পদ্ধতিতে একাধিক প্রার্থীর মধ্য থেকে একজন বেছে নেওয়ার জন্য যেমন দলীয় কনভেনশন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ওই প্রার্থীর পেছনে গোটা দলের এক জোট হয়ে দাঁড়ানোর বার্তা দেওয়ার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ। এত দিন এই প্রাথমিক বাছাই পেরিয়ে একক প্রার্থীর পেছনে গোটা দলকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজটি করা হচ্ছিল জাতীয় কনভেনশনের মাধ্যমে। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সেটি আর সম্ভব হচ্ছে না।

গত মার্চে করোনাভাইরাসের শুরুর ধাপে কিন্তু প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেনের করা ভার্চ্যুয়াল বক্তৃতা সেভাবে সফল হয়নি। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়নি সে সময়। সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া কনভেনশনে বাইডেনসহ তাঁর পক্ষকে মোকাবিলা করতে হবে ভারমন্ট সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ঘরানার সঙ্গে। এই চ্যালেঞ্জ আরও বেড়ে গেছে রানিংমেট হিসেবে কামালা হ্যারিসের নাম ঘোষণার পর। কারণ, দুজনই মধ্যপন্থী হিসেবে পরিচিত। অর্থাৎ, নির্বাচনের দৌড়ে বাম ঘরানার কারও উপস্থিতি নেই। যদিও তাঁর অনুসারী ও সমর্থকেরা হাওয়া হয়ে যায়নি। ফলে কনভেনশনের মধ্য দিয়ে একটি দলীয় ঐক্য স্থাপন ভীষণভাবে জরুরি।

নিউইয়র্ক টাইমস–এর প্রতিবেদনে আগামীকাল অনুষ্ঠেয় ডেমোক্রেটিক সম্মেলন নিয়ে বিদ্যমান অনিশ্চয়তা বোঝাতে উদাহরণ হিসেবে হাজির করেছে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ২০০৮ সালের কনভেনশনের কথা। ওই সম্মেলনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়া ওবামার বক্তব্যই ডেমোক্র্যাট শিবিরে ঐক্যের ভিত গড়ে দিয়েছিল। এই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে তিনি প্রেসিডেন্সির দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করেছিলেন।

দলীয় কনভেনশনের দিকে সাধারণত সব ভোটারের নজর থাকে। এটি বিশেষভাবে স্বতন্ত্র ভোটারদের দলে টানার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। কিন্তু এবারের সম্মেলন ভার্চ্যুয়াল পরিসরে হওয়ায়, তা ঠিক কতটা ভোটার আকর্ষণ করতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, মহামারির এই সময়ে ঘরবন্দী মানুষ এমনিতেই সবকিছু ভার্চ্যুয়ালি করতে করতে ক্লান্ত। ফলে তাদের আকর্ষণ করাটা তুলনামূলক কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

রয়েছে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও সংশয়। সম্মেলন চলাকালে কেউ নিজের অজান্তে সরব হয়ে উঠলে, তা বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। যেকোনো বেফাঁস কথা এমনকি বড় কেলেঙ্কারিরও জন্ম দিতে পারে। সঙ্গে ডাকযোগে ভোট দান নিয়ে বিতর্ক তো রয়েছেই। বিষয়টিকে উসকে দিয়ে হালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমনকি নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার মতো বিষয়ও পরোক্ষে উত্থাপন করেছেন।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন