default-image

পূর্বসূরিদের হাত ধরে আমেরিকায় আসা বাংলাদেশি অভিবাসীদের পদভারে সরগরম নিউজার্সির প্যাটারসন। এ নগরের সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে দুই নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলম্যান পদপ্রার্থী সমাজসেবক ও সংগঠক শাহীন খালিক।

কমিউনিটির এই চেনা স্বজন, সাবেক কাউন্সিলম্যানকে আবারও তাদের ওয়ার্ডে বিজয়ী দেখতে চায় প্যাটারসনের বাংলাদেশি কমিউনিটি।

আগামী ৩ নভেম্বর নির্বাচন। নির্বাচনের আগে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন সাবেক কাউন্সিলম্যান শাহীন খালিক। এবারের নির্বাচনে লড়ছেন আরও কয়েকজন প্রার্থী। এর মধ্যে একজন বাংলাদেশি প্রার্থীও রয়েছেন।

নিউজার্সিতে এবারের নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশিদের আগ্রহ আগের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে প্যাটারসন সিটিতে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি অন্য কমিউনিটির ভোটাররা সমর্থন দিয়েছেন শাহীন খালিককে। আর এই সমর্থনে বিজয়ী হওয়ার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে আছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

কী কারণে শাহীন খালিক এগিয়ে?

এই প্রতিবেদক প্যাটারসন সিটিতে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেছেন। স্থানীয়রা মনে করছেন, প্যাটারসন সিটির ২ নম্বর ওয়ার্ডে শাহীন খালিক যে কাজগুলো করেছেন, তা এর আগে কেউ করেনি। বিশেষ করে মুসলিমদের জন্য মাইকে আজান, বাংলাদেশ ব্লুবার্ড নামে সড়ক, স্কুলে হালাল খাবার ব্যবস্থা, এমনকি ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও কমিউনিটিতে কাজ করছেন ১০ বছরের বেশি সময় ধরে।

এ ছাড়া নিজের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘হেল্প সেন্টার’ থেকে সব সময় অভিবাসীদের নানা সাহায্য-সহযোগিতা করে আসছেন খালিক। শুধু এখানেই থামেননি তিনি, বাংলাদেশি কমিউনিটির বাইরে কাজ করছেন ল্যাটিনো, কৃষ্ণাঙ্গদের নিয়ে। এমনকি ডোমিনিকান রিপাবলিকের একটি স্কুলে নিজের অর্থায়নে দিয়েছেন স্কুল বাস। এ কারণেই বিপুলসংখ্যক ল্যাটিনো, কৃষ্ণাঙ্গ ও বাংলাদেশি-মার্কিন এবারও কাউন্সিলম্যান হিসেবে দেখতে চান তাঁকে।

নির্বাচন ও ভোটারদের প্রত্যাশা নিয়ে কথা হয় শাহীন খালিকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি সততার সঙ্গে ব্যবসার পাশাপাশি নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সাধ্যমতো মানুষের সেবা করার চেষ্টা করেছি। গত নির্বাচনে প্যাটারসন সিটির ওয়ার্ড কাউন্সিল নির্বাচিত হয়ে যে কাজগুলো করেছি, এবার বাকি কাজগুলো কমিউনিটির স্বার্থে শেষ করতে চাই।’

শাহীন বলেন, ‘গতবারের মতো এবারও মানুষের সেবক হিসেবে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি সিটির দুই নম্বর ওয়ার্ডে বসবাসকারী সব কমিউনিটির মধ্যে সমন্বয় করে সব নাগরিকের সম্মান ধরে রাখব, ভোটারদের মূল্যায়ন করব, মানষের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করব না। এবার নির্বাচিত হলে বাংলা ভাষা ডিএমবিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রাণপণ চেষ্টা করব।’

সাবেক এই কাউন্সিলম্যান বলেন, স্থানীয়রা দেখেছে, ‘বাংলাদেশিদের চেয়ে অন্য কমিউনিটির মানুষ বেশি। কিন্তু তাদের সঙ্গে লড়ে বাংলাদেশিদের স্বার্থে কাজ করতে গিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে যেতে হয়। তারপরও আমি থেমে থাকিনি। মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলাম, তাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম। আশা করছি, এবার সুযোগ পেলে বাকি কাজগুলো করব।’

প্যাটারসন নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা মনে করেন, সাবেক কাউন্সিলম্যান হিসেবে শাহীন খালিকই সেরা। ইতিমধ্যে তিনি প্রমাণ করেছেন, নেতৃত্ব ও কমিউনিটির স্বার্থে কাজ করার সব যোগ্যতাই তাঁর রয়েছে।

স্থানীয়েরা বলছেন, শাহিন খালিক প্যাটারসনে একজন কাউন্সিলম্যানই শুধু নন, সফল ব্যবসায়ীও বটে। তার রয়েছে স্কুলবাস ট্রান্সপোর্টেশন ব্যবসা। তিনি একজন সৎ, ধার্মিক ও আদর্শবান মানুষ। পরীক্ষিত সমাজসেবক ও একজন সংগঠক হিসেবে প্যাটারসনে ইতিমধ্যে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। যুব সমাজে রয়েছে বিপুল পরিচিতি এবং বাংলাদেশশিসহ অন্যান্য কমিউনিটিতে রয়েছে বিপুল সংখ্যক সমর্থক, যা তাঁর নির্বাচনে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে অনেকে মনে করেছেন। তাই যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তিনি জয়ী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তাঁর সমর্থকেরা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0